২০ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পার্বতীপুরে ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বীরবাহা হাঁসদা

শ.আ.ম হায়দার, পার্বতীপুর ॥ বাংলাদেশের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছেন ভারতীয় সাঁওতালী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বীরবাহা হাঁসদা। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আদিবাসী অধ্যুষিত বারকোনা গ্রামে সাঁওতালদের বাহা পর্বের অনুষ্ঠান স্থলে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এ ধরনের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন। তার নেতৃত্বে ভারতের পশ্চিম বাংলার সাঁওতাল এলাকা ঝাড়গ্রাম জেলার ৮ সদস্যের সাঁওতাল সাংস্কৃতিক টিম বাহা উদ্যাপন কমিটির আমন্ত্রণে উত্তরাঞ্চলের অজপাড়াগাঁ বারকোনায় এসেছিলেন। তারা ১৫ ও ১৬ মার্চ দুই দিনব্যাপী হাজারও দর্শকের মাঝে মনোমুগ্ধকর সাঁওতালী, বাংলা ও হিন্দীতে সঙ্গীত পরিবেশন করে মুগ্ধ করেন । এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, পার্বতীপুরের ইউএনও তরফদার মাহমুদুর রহমান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, গ্রাম বিদাশ কেন্দ্রের পরিচালক মোয়াজ্জম হোসেন, ইয়ং স্টার ক্লাবের সভাপতি আমজাদ হোসেন, প্রেসক্লাবের সভাপতি শ.আ.ম হায়দার প্রমুখ।

এ সময় অভিনেত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, দুই বাংলার ভাষা-সংস্কৃতি এক ও অভিন্ন । কোন উপলক্ষে দুই বাংলার মানুষ যখন একত্রিত হয়, তখন একে অপরকে আঁকড়ে ধরে মনের আকুতি প্রকাশ করার চেষ্টা করে। কি অপূর্ব মেলবন্ধন। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে এই বন্ধন বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হয়নি। কোন উপলক্ষে আবারও যদি এই জনপদে আসার সুযোগ হয়, নিজেকে ধন্য মনে করব। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বানের স্রোতের মতো সাঁওতাল আদিবাসীরা জড়ো হয় অনুষ্ঠান স্থল সেখানকার খেলার মাঠে। কতযুগ পরে তারা একত্রিত হতে পেরে কি আনন্দ, অনুভূতি চোখে না দেখলে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কি অপূর্ব মিলন। শেষ রজনীতে বাহা পরব উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক বাসন্তী মুরমু, সদস্য সচিব রমেশ হাঁসদা ও গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র অতিথি শিল্পীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। বীরবাহা পশ্চিম বাংলার ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর থানার আঁকরো গ্রামে রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম। তার প্রয়াত পিতা নরেন হাঁসদা ঝাড়খ- (নরেন) রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা। এই দলের ব্যানারে তার বাবা ও মা চুনিবালা হাঁসদা বিধান সভার সদস্য ছিলেন। বীরবাহাও গেল নির্বাচনে নির্বাচন করেছিলেন। জিততে পারেননি। আবারও ভোটে দাঁড়াবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি কলকাতা বিশ^বিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্স-মার্স্টাস করেছেন। অবিবাহিত বীরবাহার ৩০ বছর বয়সে ব্যক্তি জীবনে অর্জন বিশাল। তিনি ভারতীয় সাঁওতালী চলচ্চিত্রে একজন জনপ্রিয় তারকা। ২০০৮ থেকে সাঁওতালী চলচ্চিত্রে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করে আসছেন। এ যাবত তার অভিনীত চলচ্চিত্রের সংখ্যা ১৪। সম্প্রতি মলঙ ও ফুলমনি নামে দুটি ছবির শূটিং শেষ করেছেন। আরও হাতে রয়েছে ৪টি চলচ্চিত্রের কাজ। অল ইন্ডিয়া সানথালী ফিল্ম এ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাকে বহুবার সেরা অভিনেত্রীর এ্যাওয়ার্ড ও সম্মানে ভূষিত করা হয়। এছাড়া নৃত্যেও একজন ভাল শিল্পী। ভারত নাট্যোম ক্লাসিকাল নাচের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। যে কোন জাতীয় অনুষ্ঠান হলে তার ডাক পড়ে। ভারতের দিল্লী ও মুম্বাই ছাড়াও বাইরে একাধিকবার প্রোগ্রাম করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বীরবাহা বলেন, একজন মানুষের জীবনে জানার ও শেখার শেষ নেই। বিশ্বজোড়া হচ্ছে পাঠশালা, আমরা ছাত্র। এখানে প্রতিনিয়ত শেখার, জানার আছে। এই ভাবনা ও আগ্রহে একজন বড় শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি নিরন্তর অনুশীলন করে যাচ্ছেন।