২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এরা কারা?

আন্দোলন করার অধিকার নাগরিকের রয়েছে। কিন্তু আন্দোলনের নামে তাণ্ডব, নাশকতা, নৈরাজ্য করার অধিকার কারও থাকতে পারে না। গণবিরোধী অবস্থানেরই নামান্তর তা। বছর কয়েক আগেই কথিত আন্দোলনের নামে হেফাজতে ইসলাম এবং বিএনপি-জামায়াত জোট যে তা-ব, নাশকতা চালিয়েছে শুধু তাই নয়, পেট্রোলবোমা মেরে জীবন্ত মানুষকে হতাহত করা হয়েছে। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কোটা সংস্কার ও বাতিলের আন্দোলনের ছত্রছায়ায় যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে তা জঘন্য অপরাধ শুধু নয়, দেশ ও সরকারবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রও বটে। এই অপরাধ ক্ষমাহীন, শাস্তিযোগ্য অবশ্যই। আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তি করেছে যারা তারা সেই সব স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্তরসূরি। যারা বাঙালীর ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখের অংশ মঙ্গল শোভাযাত্রার উপকরণ ভাংচুর করেছে তারা বাঙালী জাতির কলঙ্ক। তাদের জন্মের ‘নির্ণয় ন জানি।’ ওরা সংবাদকর্মীর গায়ে হাত তুলেছে। নির্যাতন করেছে, যা তথ্য অধিকারকে টুঁটি চেপে ধরার শামিল। এই ঘৃণ্য ন্যক্কারজনক কাজে যারা জড়িত তাদের মেধাবী, শিক্ষিত বলা যাবে না। এরা ছাত্রনামধারী দুর্বৃত্ত এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ক্রীড়নক। এটা স্বীকার্য যে, দাবি যৌক্তিক বা অযৌক্তিক হতে পারে। তবে সহিংসতা যৌক্তিক হতে পারে না। কোটাকে কেন্দ্র করে যে নৈরাজ্য দেশবাসী দেখেছে তার নেপথ্যে অন্য কোন ইন্ধন যে রয়েছে তা স্পষ্ট। মুখোশধারী হয়ে যারা নাশকতা চালিয়েছে তাদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গীদেরই প্রতিচ্ছায়া বলা যায়। তদন্তেই সব উন্মোচিত হবে। মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াত-শিবিরের তৎপরতা সব সময়ই চলে আসছে। কৌশলে তারা বিভিন্ন জনদাবির সঙ্গে মিশে গিয়ে নাশকতা করে। কোটা নামক আন্দোলনে জামায়াত-বিএনপির দেশবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল তারা তা কাজে লাগিয়েছে উপাচার্যের বাসভবনে হামলা, ভাংচুর ও লুট, চারুকলায় মঙ্গল শোভাযাত্রার উপকরণ বিনষ্ট শুধু নয়, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বিষোদ্গার, অশালীন ভাষ্য প্রদান কোনভাবেই বাঙালী ও বাংলাদেশের চেতনার সঙ্গে সাযুজ্য নয়, বরং বিরোধী। রবিবার রাতভর কথিত আন্দোলনের নামে যে তা-ব চালানো হয়েছে তা আকস্মিক বলা যাবে না। বরং পুরো বিষয়টিই পূর্ব পরিকল্পিত বলে প্রতীয়মান হয়। রাজপথ দখল করে পথচারীদের হেনস্তা করা কোন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নয়। যদি তা-ই হতো তবে রড লাঠি হাতে ওরা কিসের শান্তি বজায় রেখেছিল? টিএসসি, শহীদ চত্বরে সশস্ত্র অবস্থান নেয়াদের দিকে সচেতনভাবে তাকালেই স্পষ্ট হয় এরা কারা, টাকনুর ওপর কাপড় তোলা পুরনো হায়েনা এরা। কোটা আসলে বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে নিজেরা সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়েও সরকার উৎখাত করতে না পেরে কোটার ছত্রছায়ায় নাশকতাকেই বেছে নিয়েছিল তারা। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ওদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের শক্তিতে প্রণোদনা যুগিয়েছে বলা যায়। ছাত্র মারা গেছে বলে গুজব ছড়িয়ে তা-বের মাত্রাকে যারা বাড়িয়েছে তারা কোটার আড়ালে অন্য ‘এজেন্ডা’ বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে। তাদের স্লেøাগানের ভাষা শুনে মনে হয়েছে তারা দেশের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের বাংলার মানুষ দেখেছে একাত্তর সালের ডিসেম্বরে। শিক্ষক-বুদ্ধিজীবীদের বাড়ি থেকে চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে এসে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে যারা তারাও ছিল মুখোশধারী। উপাচার্যের বাসভবনে যা করা হয়েছে তা দেখে মনে হতেই পারে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার কোন একটি বাড়ি। গণমাধ্যম কর্মীরা যদি সে রাতে মানবঢাল হয়ে উপাচার্য ও তার পরিবারের সদস্যদের রক্ষা না করতেন তাহলে ওই রাতই হতে পারত তাদের জন্য শেষ রাত। যেভাবে হয়েছিল একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আন্দোলনকারীরাই বলছে হামলাকারীরা অনুপ্রবেশকারী। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অন্য আরেক গোষ্ঠী তাদের স্বার্থ উদ্ধারে তৎপর হয়ে ওঠে বলে তারা দাবি করছে। এই ঘটনাগুলো আসন্ন ষড়যন্ত্রের একটি সফল মহড়া বলে প্রতীয়মান হয়। বিশৃঙ্খলা তৈরি করে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে দেশজুড়ে অরাজকতা তৈরির এই ঘৃণ্যতম প্রচেষ্টা বেশিদূর যেতে পারেনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োচিত পদক্ষেপে। তিনি কোটা প্রথাই বাতিল করে দিয়েছেন। তবে আশ্বাস দিয়েছেন নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে। দেশবাসীও তা চায়। দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন গণমানুষের দাবি।

নির্বাচিত সংবাদ