২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিষ্টি সমাচার

বাঙালীর শুভ কোন উপলক্ষ মাত্রই মিষ্টি একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ। সহজভাবে বললে কোন উপলক্ষ-অনুষ্ঠানই যেন মিষ্টি ছাড়া পূর্ণতা পায় না। মিষ্টিমুখ বলে একটা কথা প্রচলিত আছে বাঙালী সমাজে। সহজ করে বললে মিষ্টি ঠিক যেন বাংলাদেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে। নানা পালাপার্বণে মিষ্টি থাকা চাই-ই চাই। মিষ্টিমুখ ছাড়া উৎসব যে বেমানান! রসগোল্লা, পান্তুয়া, চমচম আমাদের কতকালের ঐতিহ্য। হাতের কাছেই এখন মিষ্টির দোকান। সেখানে থরে থরে সাজানো নানা নামের মিষ্টি। এত বৈচিত্র্যময় মিষ্টি পৃথিবীর আর কোথাও আছে কি-না সন্দেহ আছে। মিষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাইরে আর কোথাও এত ধরনের মিষ্টি দেখা যায় না। সেই অবস্থান থেকে বলা যায় মিষ্টি বাঙালীর নিজস্ব সম্পদ। বৈশাখকে সামনে রেখে ময়রারা (মিষ্টি তৈরির কারিগর) এখন মহাব্যস্ত। কারণ বাঙালীর জীবনের সকল আনন্দের সঙ্গী যেহেতু মিষ্টি তাই এর চাহিদা সর্বত্র।

ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ আমল থেকেই মিষ্টির কদর শুরু হয়। দিনেমার বণিকরা ছানা তৈরি শেখানোর পর মিষ্টির দিকে ঝুঁকে পড়ে বাঙালী ময়রারা। রসগোল্লার আবিষ্কারক একজন বাঙালী। ১৮৬৮ সালে কলকাতার বাগবাজারের চিনি ব্যবসায়ী নবীন চন্দ্র দাস রসে ভেজানো গোলাকার রসগোল্লা বানিয়ে তাক লাগিয়ে দেন। পরে তার পরিচিতি ঘটে রসগোল্লার কলম্বাস। উনিশ শতকের শেষে ভোলা ময়রার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে মিষ্টির প্রতি আসক্তি বাঙালী নামমাত্রই।

মিষ্টির খ্যাতিও আছে অঞ্চল ভেদে। যশোরের জামতলার রসগোল্লা, টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম, নাটোরের কাঁচাগোল্লা ও ক্ষীরতকতি, গাইবান্ধার রসমঞ্জুরি, কুমিল্লার রস মালাই, নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি, নওগাঁর প্যারার সন্দেশ, রাজশাহীর রসকদম, ফরিদপুরের মালাইসর, খুলনার মিহিদানা লাড্ডু, বরিশালের গটিয়া সন্দেশ ও আদি রসগোল্লা, দিনাজপুরের গুড় ক্ষীরমোহন, রংপুরের হাবসি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কালো তিলকদম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী, পাবনার ইলিশপেটি ইত্যাদি। এছাড়া আছে লালমোহন, কাঁচাগোল্লা, কাঁচা ছানা, ছানার জিলাপি, ভোগ সাগর, সাদা চমচম, মিহিদানা লাড্ডু, ক্ষীর টোস্ট, মালাই সর, সরের মালাই, মালাই চপ, শাহী ভোগসহ আরও বহু নামের মিষ্টি।

বৈশাখের আনন্দে গ্রামে নকুলদানা, লই, কদমার পাশাপাশি রসগোল্লা আসন করে নিয়েছে। নগরীর বৈশাখী উৎসবে পান্তা ইলিশ তো আছেই, বাদ যায়নি মিষ্টি। বৈশাখে রসগোল্লার কদর বেশি। তবে অন্যান্য মিষ্টিও বিক্রি হয়। খাঁটি ছানায় রসগোল্লার স্বাদই আলাদা। এর কৌশল আছে। শংকর বাঙালীর খাবারদাবার বইতে লিখেছেন, ছানা ও চিনি রসগোল্লার মূল উপাদান। ভাল ময়রার হাতে ছানা ও চিনি পড়লে তিনি শৈল্পিকভাবে সুস্বাদের রসগোল্লা তৈরি করেন।

মিষ্টি ভালবাসেন না এমন লোক খুব কমই আছে সমাজে। তবে ইদানীং নানা রোগে আক্রান্তদের কাছে মিষ্টি খাওয়ার বিষয়টি সীমিত আকারে হলেও এর জনপ্রিয়তা এখনও সর্বজনীন। অবশ্য এখন ডায়াবেটিসমুক্ত মিষ্টিও বাজারে পাওয়া যায়। মিষ্টির সুনাম টিকে থাকা দরকার আমাদের এতিহ্য টিকে থাকার স্বার্থেই।