২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘দ্বীন ফোর্স এক্সট্রিম’আইএসকে অনুকরণ করত

‘দ্বীন ফোর্স এক্সট্রিম’আইএসকে অনুকরণ করত

অনলাইন রিপোর্টার ॥ চট্টগ্রাম নগরী থেকে ‘দ্বীন ফোর্স এক্সট্রিম’ নামে একটি জঙ্গী সংগঠনের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব- ৭। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর কোতোয়ালি থানার আনন্দবাগ এলাকা থেকে উস্কানিমূলক বই ও ল্যাপটপসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাবের দাবি, গ্রেফতার সাত যুবক ‘দ্বীন ফোর্স এক্সট্রিম’র সদস্য। তারা হলেন— মো. মহিউদ্দিন তামিম (২৯), মো. আফজার হোসেন (২১), মো. ইমরান খান (২৭), মো. দাউদ নবী পলাশ (২৮), চৌধুরী মোহাম্মদ রিদওয়ান (২৭), এসএম জাওয়াদ জাফর (২৬) ও মো. মুনতাসিরুল মেহের (২৬)।

চট্টগ্রাম র‍্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান জানান, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর আনন্দবাগ এলাকায় একত্রিত হয়েছিল তারা।

পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ বিভিন্ন তথ্য বেরিয়ে আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আইএসকে অনুকরণ করে বাংলাদেশে গড়ে তোলা হয় ‘দ্বীন ফোর্স এক্সট্রিম’ সংগঠনটিকে!

মিমতানুর রহমান বলেন, “দ্বীন ফোর্স এক্সট্রিমের সদস্যরা জঙ্গী সংগঠন আইএসকে অনুসরণের চেষ্টা করে। হোয়াটস অ্যাপে ‘দ্বীন ফোর্স এক্সট্রিম ও ইখোয়ান’ নামে দুটি গ্রুপে সক্রিয় থেকে জিহাদি ভিডিও ও বিভিন্ন দেশের মুসলিম নর-নারীদের ওপর নির্যাতনের ছবি প্রচার করে নিজেদের কথিত জিহাদের জন্য প্রস্তুত করছিল।”

র‍্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মো. মুনতাসিরুল মেহেরের (২৬) সম্পর্কে আঁতকে ওঠার মতো তথ্য পেয়েছেন তারা। কক্সবাজারে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দি রেডক্রসের (আইসিআরসি) ফিল্ড অফিসার হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। ২০১৩ সাল থেকে জঙ্গী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৫ সালে ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাস করেন মেহের।

জঙ্গী সন্দেহে গ্রেফতার মুনতাসিরুল মেহের কোতোয়ালী থানাধীন রাবেয়া রহমান লেইনের নূর আহম্মদ রোডের ৬৯৯/এ- নং বাড়িতে বেড়ে ওঠেন। তার বাবার নাম মো. ছাদতুল মেহের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে র্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৩ সালের দিকে হঠাৎ করে মেহের ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। একই সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া তামিম তাকে জঙ্গীবাদে নিয়ে আসেন। তামিম জঙ্গীবাদে জড়ান আরও আগে, ২০১১ সালের দিকে। তামিমের ভাই তাফিমও জঙ্গীবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তামিমের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আছে বলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য রয়েছে। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে তারা জানান।

র্যাব কর্মকর্তা মিমতানুর রহমান আরও বলেন, ২০১৩ সালে আসকার দিঘীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত আতরজান জামে মসজিদে ইবনে মোস্তাকের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। মোস্তাকের মাধ্যমে তারা জঙ্গী তৎপরতায় উৎসাহী হয়ে ওঠেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন জঙ্গী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং এ দেশীয় সমমনা জঙ্গীদের একত্রিত করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় লিপ্ত হন তারা।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আফজার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ইমরান বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিবিএস কোর্সে অধ্যায়নরত। দাউদ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাস করে প্রিমিয়ার সিমেন্ট লিমিটেডে কাজ করতেন।

রিদওয়ান ২০১১ সালে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। ২০১৩ সালে তাকে ইউনিভার্সিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়। জাওয়াদ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে চট্টগ্রাম ইপিজেডে ইয়ংওয়ান নামে একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। গ্রেফতারকৃতদের সবার বাড়ি চট্টগ্রামে এবং দাউদের বাড়ি কুমিল্লায়।

নির্বাচিত সংবাদ