২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্লাস্টিক শিল্পনগরী

প্রকল্পের মেয়াদ আছে আর মাত্র দুই মাস। অর্থাৎ আগামী জুন মাসে তিন বছর মেয়াদী প্রকল্প শেষ হচ্ছে। এই সময়কালে কাজই শুরু হয়নি। অথচ একনেক অনুমোদনও দিয়েছিল। অর্থ বরাদ্দও হয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কাজ না করার সংস্কৃতি থেকে এমনটা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে হয়ত মনে হবে। কিন্তু বাস্তবে ঢিলেঢালা ভাব কাজ শুরুর পথ তৈরি করে দেয়নি। তিন বছরেও কর্তারা এমন জনগুরুত্বপূর্ণ এবং পরিবেশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্পটিকে বাস্তবে রূপ দিতে উদ্যোগ নিয়েছেন নামমাত্র। তবে তাতে কাজের কাজ সামান্যও হয়নি।

এদেশে প্লাস্টিক শিল্পের যাত্রা শুরু হয় ১৯৫২ সালে। দিন দিন এই শিল্পের বিস্তার ঘটেছে এমনভাবে যে, আবাসিক এলাকায়ও কারখানা চলছে। বর্তমানে প্লাস্টিক খাতে পাঁচ হাজারের বেশি কারখানা বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে আছে। এক হিসাবে দেখা গেছে, এর মধ্যে পঞ্চাশটি বড়, এক হাজার চার শ’ আশিটি মাঝারি এবং প্রায় তিন হাজার ত্রিশটি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার মধ্যে আশি শতাংশই ঢাকাকেন্দ্রিক। ক্ষুদ্র কারখানার নব্বই শতাংশই ঢাকার লালবাগ, ইসলামবাগ, চকবাজার, পোস্তা, কামরাঙ্গীর চর, নলগোলা, মিটফোর্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে। এসব এলাকার সরু রাস্তার পাশে যেমন তেমনি আবাসিক ভবনের নিচতলায় বা পাশে এসব কারখানা রয়েছে। তাই অগ্নিকা-সহ অন্যান্য দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস পৌঁছতে পারে না। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। অপরিকল্পিত, অপরিসর ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে ওঠা এসব কারখানায় শিশু-কিশোর শ্রমিকও রয়েছে।

প্লাস্টিকের বাজার দেশেই দিন দিন বাড়ছে। তবে এ খাতে মানসম্পন্ন পণ্যের ঘাটতি রয়েছে। এসব ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ সে নিয়ে বিএসটিআই নির্বাক। তদুপরি এসবের ক্রেতা সাধারণ মানুষ থেকে বিত্তবানরাও। বৈদেশিক বাজারে প্লাস্টিক খাতের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য মানসম্মত পণ্য উৎপাদন জরুরী। কিন্তু এসব ঘিঞ্জি পরিবেশে উৎপাদিত পণ্য মানসম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। পুরান ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ প্লাস্টিক কারখানা স্থানান্তরের জন্য বিসিক ও প্লাস্টিক কারখানা স্থানান্তরের জন্য বিসিক ও প্লাস্টিক শিল্প সমিতির মধ্যে প্রথম সমঝোতা স্মারক সই হয় ২০০৬ সালে। তবে উদ্যোগ ভেস্তে যায়। বর্তমান সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে নতুন করে প্লাস্টিক শিল্প-কারখানা স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়।

২০১৫ সালে তিন বছর মেয়াদী প্রকল্প নেয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই বছরের জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০১৮ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা। কাজের মধ্যে যা হয়েছে, তাতে অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বড় ভর্তায় স্থান নির্বাচন করা হয়। এখানে শিল্পনগরী স্থাপনের সিদ্ধান্ত হলেও জমি আর অধিগ্রহণ করা যায়নি। অথচ এলাকার ৫০ একর জমির মধ্যে ৩২ একর খাস জমি; যা অবৈধ দখলদারদের কব্জায়। তাদের বাধার মুখে প্রশাসন অসহায় যেন। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় স্থানীয় জমির মূল মালিকদের তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দিয়ে অন্যত্র স্থানান্তরের প্রস্তাবে সাড়া মেলেনি। খাস জমির অবৈধ দখলদারদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় জমি দিয়ে আবাসনের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের জন্য নোটিস দিলেও দখলদাররা স্থানান্তরে রাজি না হলে, উচ্ছেদ অভিযান চালাতে হবে। প্রকল্পটির কাজ এখন শুরু করে জুনে শেষ হবে না। মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব যে করা হবে বৈকি। তখন নগরী গড়ার বর্তমান অনুমোদিত ব্যয় ১৩৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৩৭০টি প্লটে কারখানা গড়ে উঠত এতদিনে। এসব কারখানায় ১৮ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান হতো। দীর্ঘ প্রলম্বিত প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে দ্রুত নগরী স্থাপনের কাজ শুরু করা সঙ্গত। কর্তৃপক্ষ গা ঝাড়া দিয়ে উঠবেন আশা করি।

নির্বাচিত সংবাদ