২৬ এপ্রিল ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বেড়িবাঁধ মেরামত করায় মারা পড়ছে শত শত প্রাচীণ গাছ

বেকু মেশিন দিয়ে  মাটি কেটে বেড়িবাঁধ মেরামত করায় মারা পড়ছে শত শত প্রাচীণ গাছ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া ॥ পদ্ধতিগত সমস্যার কারনে বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরনের মাটি কাটার কাজে বেকু মেশিনের ব্যবহারে নিধন হচ্ছে শত শত প্রাচীন ম্যানগ্রোভ প্রজাতির ছইলা ও কেওড়া গাছ। এছাড়া বাঁধের বাইরের গুল্ম জাতীয় গাছপালাও উজাড় হয়ে যাচ্ছে। ফলে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসকালীন মানুষের জীবন ও সম্পদ প্রাথমিকভাবে রক্ষাকবচ সবুজ দেয়াল বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আর একারণে বাঁধ মেরামত হলেও বাঁধসহ মানুষ ও তাঁদের সম্পদ থাকছে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের চরম ঝুঁকিতে। যে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ বাঁধকে বুক আগলে রক্ষা করত সেই দেয়াল না থাকলে বাঁধ থাকবে কীভাবে; এমন হাজারো প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

সাগরপারের জনপদ কলাপাড়ায় ষাটের দশকের শেষ দিকে লোনা পানির প্লাবণ থেকে মানুষের কৃষি জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে মিঠাপানি সংরক্ষণ এবং ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ধকল থেকে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় চার শ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ করা হয়। এজন্য তিনটি ডিজাইনে জমি অধিগ্রহণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরে বাঁধের দুইদিকের অবশিষ্ট জমিতে প্রাকৃতিকভাবে এবং বনবিভাগ কিছু কিছু এলাকায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছপালা সৃজন করে। এইসব গাছপালা এখন বড় ধরনের বাগানে পরিণত হয়েছে। যা সিডর আইলার মতো প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়কালীন জলোচ্ছ্বাসের প্রবল ঝাপটা দেয়ালের মতো প্রতিরোধ করে আসছে। ছইলা-কেওড়া, বাইনসহ বিভিন্ন গুল্মজাতীয় লতাপাতায় আচ্ছন্ন রয়েছে বাঁধের স্লোপঘেঁষা বাগান। বিভিন্ন সময় ইতোপুর্বে বাঁধ মেরামতের জন্য বাঁধের বাইরের এই বাগানের মধ্য থেকে লেবার দিয়ে মাটি কাটা হতো। লেবাররা গাছটি রক্ষা করে আশাপাশের মাটি কেটে নিত। ফলে গাছের কোন ক্ষতি হতোনা।

আবার বাঁধও মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো। কিন্তু গেল বছর থেকে বেকু মেশিনে মাটি কাটায় সবুজ দেয়াল খ্যাত বাগানের প্রাচীন গাছপালা উপড়ে ফেলা হয়। ফলে বাঁধটি মেরামত করা হলেও ঝড়-জলোচ্ছ্বাকালীণ ঝুঁকিতে পড়ছে বাঁধ। পূর্বমধুখালী ও পশ্চিম মধূখালী এলাকায় মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নে অন্তত ১৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মেরামত করতে শত শত প্রাচীন গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় মানুষের মতামত এখন বাঁধ ঠিকই মেরামত করা হয়েছে কিন্তু বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস হলে এই বাঁধ ভেসে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে। কারণ জলোচ্ছ্বাসের ঝাপটা প্রাথমিকভাবে প্রতিরোধে কিছুই নেই। সবুজ দেয়াল বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এবছর ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের ফুলবুনিয়া থেকে রসুলপুর হয়ে গোটা এলাকার অন্তত সাত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ব্লুগোল্ড প্রকল্পের মাধ্যমে মেরামতের কাজ চলছে। যেখানে বেকু মেশিনে মাটি কাটার কারণে শত শত ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়ের জানান, বেকু মেশিনে মাটি কাটায় বাঁধ ভাল করে মেরামত করা যায়। কাজও তড়িৎ গতিতে শেষ করা যায়। তারপরও গাছ যত কম নষ্ট হয় সে ব্যাপারে তাঁরা সচেতন রয়েছেন বলেও জানান।

তবে সাধারণ মানুষসহ একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান জানান, বাঁধ মেরামত করতে লেবার দিয়ে মাটি কাটলে সবুজ বাগানসহ গাছপালা রক্ষা করা যেত। এছাড়া কর্মসংস্থানও মিলত শত শত শ্রমজীবী মানুষের।