১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শীত কিংবা গরম ফ্যাশন প্রিন্টেড শার্টে

সব সময়ের জনপ্রিয়তার শীর্ষে শার্ট। সেটা গরম হোক অথবা শীত, অফিসের ফরমাল শার্ট হোক কিংবা ক্যাজুয়াল। শার্ট ছোট সোনামণিদের যেমন মানিয়ে যায়, ঠিক তেমনি তরুণ-তরুণী, মধ্যবয়সী অথবা বৃদ্ধদেরও ঠিক মানিয়ে যায়। ফ্যাশনে শার্টের বিকল্প পোশাক খুঁজে বের করা বেশ দুরূহই বটে।

বেশ কয়েক দশক ধরে শার্টের একচেটিয়া আধিপত্য সবখানেই। তবে বিভিন্ন দশকে শার্টের ফিটিং এবং কাটিংয়ে এসেছে পরিবর্তন। কখনও শার্টগুলো ছিল একটু ঢোলা আর কলারগুলো ছিল বেশ চওড়া। সেই আমল থেকেই শার্টের বিভিন্ন ডিজাইনে মনোনিবেশ করেন ডিজাইনাররা। কালের পরিবর্তনে এখন ফিটিং এবং অপেক্ষাকৃত ছোট কলারের শার্টই বেশি পছন্দ করেন হালের যুবকরা। ফ্যাশন ডিজাইনার বিভিন্ন সময়ে শার্টে যোগ করেছেন নানা ফিউশন। তারা ডিজাইনের এবং প্রিন্টে এনেছেন পরিবর্তনের চিহ্ন। বর্তমান ফ্যাশন ট্রেন্ডে স্ট্রাইপ, চেক এবং একরঙা শার্টের পাশাপাশি জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে রং-বেরঙের প্রিন্টেড শার্ট। একসময় হালকা ডিজাইনের এবং সিম্পল শার্ট গায়ে জড়ালেও তরুণদের স্বাদে এসেছে পরিবর্তন, তাই তাদের কথা মাথায় রেখে এখন বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস বাজারে এনেছে রঙিন প্রিন্টের শার্ট। ফ্যাশন হাউস ইজির কর্ণধার তৌহিদ চৌধুরী শৈলীকে জানান, সামনে শীতের মৌসুমকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা ডেনিম ফেব্রিক্সের ওপর অনেক ধরনের প্রিন্টের শার্ট ক্রেতাদের জন্য এনেছি। বর্তমানে প্রিন্টের শার্টগুলো বিভিন্ন পার্টিতে পরে যেতে পারবেন এবং তার ওপরে বেল্গজার পরতে পারবেন, আশা করি খারাপ লাগবে না। সর্বোপরি সবার কথা মাথায় রেখে এবারের কালেকশন শুধু রঙিন বললে ভুল হবে। লাল নীল হলুদ সবুজ বাদামি বিভিন্ন রঙের পাশাপাশি বাজারে পাবেন এক রঙার ওপর বিভিন্ন প্রিন্ট।

ক্যাজুয়াল প্রিন্ট

ক্যাজুয়াল লুকের জন্য বাজারে পাবেন অনেক মোটিফের শার্ট। সেখানে স্থান পাবে বড় প্রিন্টের শার্ট। অর্থাৎ প্রিন্টগুলো একটু রংচঙা আর ভারি ডিজাইনের। সেটা হতে পারে বড় পাতা, ফুল পাখিসহ বিভিন্ন ডিজাইনের। ক্যাজুয়াল শার্টগুলো শুধু যে ছেলেদের জন্য তা না, ফ্যাশন সচেতন মেয়েরাও ক্যাজুয়াল শার্টগুলো গায়ে জড়াতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

আর এই ক্যাজুয়াল শার্টগুলো বেশিরভাগই ফুলহাতা। কেউ চাইলে পচ্ছন্দমতো হাফশার্টও খুঁজে পাবেন। আর এই ক্যাজুয়াল শার্টের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ফোল্ডিং হাতা। কেউ চাইলে হাতা ফোল্ড করে পরতে পারবেন। আর হাতা ফোল্ড করাও হাল আমলের ট্রেন্ড। হাতা ফোল্ড করে বাহুর সঙ্গে বোতাম দিয়ে আটকে রাখলেও বেশ মানিয়ে যাবে।

ক্যাজুয়াল শার্টের সঙ্গে চিনোস, জিন্স অথবা ফরমাল প্যান্টের ইন করাকে ইঙ্গিত করে। ক্যাজুয়াল শার্টের মধ্যে চেক প্রিন্টের জায়গা সবর্দাই থাকে। তবে ফ্যাশন পরিবর্তনের তাগিদে এখন প্রচলিত অন্যান্য প্রিন্টের শার্ট। আর গ্যাবার্ডিন কাপড়ের চিনোসের জন্য রং বেছে নিন এ্যাশ, খাকি, বিস্কিট, কফি, বল্গাক, অফ হোয়াইট দেখে। ক্যাজুয়াল শার্ট, লোফারের সঙ্গে চিনোস বা ডেনিম পরার রয়েছে আরেকটি সুবিধা। এটি আপনি ইন করে পরলে তা সেমিফরমাল লুক এনে দেয়, আর ইন ছাড়া পরলে সম্পূর্ণ ক্যাজুয়াল।

ফরমালে প্রিন্ট

ফরমাল প্রিন্টেড শার্টের ডিজাইনে পাওয়া যাবে বৈচিত্র্য। সেখানে হালকা রঙের শার্টের ওপর পাবেন ডট ডিজাইনের বিভিন্ন মোটিফ। বিভিন্ন রঙের সুতির শার্টের ওপর পাবেন বিভিন্ন ডট প্রিন্টের শার্ট। এ ছাড়া ডট প্রিন্টের পাশাপাশি পাবেন ছোট বল প্রিন্ট। সেটা হতে পারে কালো সাদা নীল অথবা বিভিন্ন ডটের মিশ্রণ। ডট প্রিন্ট ছাড়াও ফরমাল শার্টে থাকতে পারে বিভিন্ন ফ্লোরাল প্রিন্ট অথবা প্রাকৃতিক বিভিন্ন জিনিসের ছোট ছোট ছাপ, অথবা অন্য কোনো সাইনের ছাপ থাকতে পারে। আর হ্যাঁ, ফরমাল লুকের শার্টগুলো ইচ্ছা করলে ক্যাজুয়াল হিসেবেও নিদ্বর্ধিায় চালিয়ে দেওয়া যাবে।

দেশের পরিবেশে এখনও সবচেয়ে বেশি ড্রেস কোড মেনে অফিসে যেতে হয় ছেলেদের। চাকরির ইন্টারভিউ থেকে শুরু করে অফিসের বড় কর্মকর্তা হলেও থাকতে হয় পারফেক্ট ফরমাল লুকে। তা চলে পার্টি মিটিংয়েও। আর কিছুদিনের মধ্যে শীতের বাতাস বইতে শুরু করবে। তাই প্রিন্টেড শার্টের সঙ্গে কোট, বেল্গজার, কটি,স্যুটের সবকিছুই চিন্তা করা যাবে ফরমালে। এ জন্য অবশ্যই পোশাকের কিছু জিনিস খেয়াল রাখুন। ফরমাল মানে একদমই ফিটফাট হওয়া চাই।