২০ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য

খাদ্য নিরাপত্তা এবং নিরাপদ খাদ্য একে অপরের পরিপূরক। যে কোন মূল্যে খাদ্যকে নিরাপদ রাখা সঙ্গত। মানুষের জন্য খাদ্যের সংস্থানের পাশাপাশি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে কেবল খাদ্যের উৎপাদন বাড়ালেই চলবে না, সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য এবং টেকসই স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরী। প্রতিদিন জনসংখ্যা বাড়ছে। অথচ কমছে আবাদি জমি। তাই মানুষের জন্য খাদ্যের সংস্থান করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শুধু খাদ্যের সংস্থান করাটাই যথেষ্ট নয়। নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান খুবই সুস্পষ্ট। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে নিরাপদ ‘ফিড’ এর নিশ্চয়তা থাকা দরকার। ‘ফিড এ্যাক্ট’ সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না বলে অভিযোগ থাকলেও তা খ-ন করা হয় না। বাংলাদেশে পোল্ট্রির উৎপাদন বেড়েছে। উৎপাদন বাড়লে কিছু ঝুঁকিও তৈরি হয়। তবে তাতে উদ্বিগ্ন না হয়ে বরং সমাধান করাটাই বৃদ্ধিমানের কর্তব্য। এজন্য জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরী। বর্তমানে বাজারে পোল্ট্রিই হচ্ছে সবচেয়ে সস্তার প্রাণিজ আমিষ। দেশের পোল্ট্রি শিল্প নিরাপদ ও মানসম্মত ডিম এবং মুরগির মাংসের উৎপাদন শুরু করেছে। তবে খোলাবাজারে জীবন্ত মুরগি বিক্রি অবৈধ ফিড মিলগুলো পুরোপুরিভাবে বন্ধ করা উচিত। পাশাপাশি খামারিদের জন্য পানি স্যানিটেশনের ব্যবস্থা, খামার পর্যায়ে জীব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরী। এ বিষয়ে খামারিদের সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য দরকার প্রশিক্ষণের। দেশের পোল্ট্রিতে ‘হেভি মেটাল’ সমস্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এন্টিবায়োটিকের যতগুলো বিকল্প এদেশে আছে, অনেক দেশেই তা নেই। দেশীয় কোম্পানিগুলোকে ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। পোল্ট্রি ফিডে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের নীতিমালা থাকলেও পানিতে তা ব্যবহারের কোন নীতিমালা নেই। সুতরাং দ্রুত এই নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার। দেশের মুরগির মাংসের সিংহভাগ এবং ডিমের প্রায় পুরোটাই আসে পোল্ট্রি থেকে। দেশের অর্থনীতিতে এই খাত উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারছে। বর্তমানে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে মোট প্রায় ৬০ লাখ মানুষের কর্মস্থান হয়েছে। গ্রামীণ পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন গড়ে তুলেছে। গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন কমাতে সহায়ক হয়েছে। তবে খামারিরা মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণীর হাতে জিম্মি হয়ে আছে। তাই উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন জরুরী। অবশ্য ঢাকা শহরের ‘ওয়েট’ বাজারগুলোর উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ‘ফাও’ যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, তা নিরাপদ খাদ্য প্রক্রিয়ায় অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০০৮ সালে যে পোল্ট্রি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার আধুনিকায়ন জরুরী। পোল্ট্রিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সহজ নয়। সুতরাং এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সঙ্গত। বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। জিডিপি ৭ শতাংশের উপর। ২০২৫ সাল নাগাদ অর্থনীতির আকার তিন দশমিক শূন্য চৌষট্টি ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। কাজেই সেই অর্থনীতিতে মানুষকে প্রাণীজ প্রোটিন পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করতে হবে। ২০১৬ সালে দেশে মাথাপিছু বার্ষিক মুরগির মাংস ‘কনজাম্পশন’ ছিল ছয় দশমিক তিন কেজি। ২০৫০ সালে প্রয়োজন হবে কমপক্ষে ৪৫ কেজি। তাই একদিকে যেমন ডিম ও মুরগির মাংসের মতো প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে, তেমনি পোল্ট্রি উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি খামারে জীবাণুমুক্ত স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বহাল রাখতে হবে। জাতিসংঘে ঘোষিত এসডিজিতে যে ১৭টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তার মধ্যে ১৪টি লক্ষ্য অর্জনে কোন না কোনভাবে পোল্ট্রি শিল্পের অবদান রয়েছে। এই শিল্পকে সমৃদ্ধ করার জন্য প্রয়োজন এ খাতের প্রতি সুনজর প্রদান।