১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিমত ॥ প্রাথমিক শিক্ষা ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত হওয়া উচিত

  • আলহাজ মোঃ মনিরুল ইসলাম

এসএসসি পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের কথা চিন্তা করলে প্রাথমিক শিক্ষা ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পরিপূর্ণভাবে চালু করতে চাইলে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। ওই সমস্যাগুলো কীভাবে দূর করা যায় সেদিকে আগে দৃষ্টিপাত করছি।

সমস্যাগুলোর সমাধান নিম্নরূপ।

১. সর্বপ্রথম ভৌত অবকাঠামো। এ সমস্যা একই সঙ্গে সকল বিদ্যালয়ে সমাধান করা সাংঘাতিক একটা কর্মযজ্ঞ ও বিশাল অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন। এ সকল সমস্যা নিম্নভাবে সমাধান করা যায়; সকল বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও লেখাপড়ার মান এক নয়, আবার নির্ধারিত একটা এলাকার মাঝখানে অবস্থান ও ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা বিরাজিত। এসব দিক বিবেচনা করে ৫ম সমাপনী পরীক্ষার কেন্দ্র করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০১৯ সালে এই বিদ্যালয়গুলোকে ষষ্ঠ শ্রেণী খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু করলে সামান্য কিছু মেরামত কার্য সম্পন্ন করলে খুব সহজে খোলা সম্ভব হবে। এ ছাড়া ঢালাওভাবে শিক্ষক নিয়োগের চাপও আসবে না। ভৌত অবকাঠামো উন্নীত ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ছাত্র-ছাত্রী বৃদ্ধি সাপেক্ষে নতুন বিদ্যালয় আপগ্রেড করতে করতে এক সময়ে সব বিদ্যালয় আপগ্রেড হয়ে যাবে।

২. অষ্টম শ্রেণী মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতির প্রাথমিক পর্যায়। এই প্রাথমিক পর্যায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে না থাকলে মাধ্যমিক শিক্ষার প্রস্তুতিতে বড় ধরনের একটা ঘাটতি থেকে যায়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে না থাকল মাধ্যমিক শিক্ষার প্রস্তুতিতে বড় ধরনের একটা ঘাটতি থেকে যায়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণী থাকলে মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি সুন্দর হবে এবং মাধ্যমিকের ফলাফল আশানুরূপ শুধু নয় আশাতিরিক্তিও হয়ে যেতে পারে। ষষ্ঠ ও ৭ম- এর চাপ না থাকায় সুন্দর ফলাফল সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় উপহার দিতে পারবে। শুধু ফলাফল নয় ছাত্রছাত্রীরা কিছু শিখেও যেতে পারবে। যার প্রভাব উচ্চ শিক্ষা ও কর্মজীবনেও পড়বে।

৩. ষষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণী প্রাথমিক পর্যায়ে আনলে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকরা প্রাথমিকের মতো শিক্ষা দান করলেও ওদের উপকার হবে। তবে বর্তমান ৫ম সমাপনী পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজী বিষয় গ্রামার ও ব্যাকরণের বেশকিছু প্রশ্ন হয় যার উত্তর ওদের পক্ষে প্রদান করা দুরূহ! কারণ তাদের সিলেবাসগুলো কোন বিষয় থাকে না এবং তা পড়ানোর কোন সুযোগও শ্রেণীতে নাই। তাই বাংলা ও ইংরেজীর জন্য বিদ্যালয়েই ২য় পত্র খোলা ও পড়ানোর ব্যবস্থা করা দরকার। ২ বিষয়ে ২য় পত্র পরীক্ষা থাকলে ভাল না থাকলেও অসুবিধা নাই। মূল প্রশ্ন সন্নিহিত প্রশ্নগুলোর উত্তর ওরা সহজে লিখতে পারবে। একই সঙ্গে ভাষা শিক্ষার ভিত কিছুটা মজবুত হবে।

৪. ষষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় এমনিতেই বিদ্যালয়ের ছাত্রাভাব ও আর্থিক সঙ্কট দেখা দেবে। তারপর ৮ম শ্রেণী না থাকলে অর্থাভাবে অনেক বিদ্যালয় বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। যাতে করে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের একটা সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে। এই সঙ্কট সমাধানে সরকারের বিপুল অর্থ খরচ হবে। তাতেও সঙ্কট সমাধান নাও হতে পারে। মাধ্যমিকে ৮ম শ্রেণী থাকলে সঙ্কট অনেক খানি কম হবে এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত সুন্দর হবে।

৫. ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদানের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র ২ জন গণিত, ২ জন ইংরেজী শিক্ষক নিয়োগ লাগবে। তাও পর পর ২ বছরে। এ ছাড়া ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকম-লীর পক্ষে সুন্দর করে পাঠদানে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এতে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক দুই স্তরেই পড়ালেখা এবং ফলাফল উভয়টিই ভাল হবে। আবার ভাল পাঠদানের জন্য ছাত্রছাত্রীর নকল প্রবণতা কমে যাবে।

এসব বিষয় বিবেচনা করে প্রাথমিক শিক্ষা প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণী থেকে ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত এবং মাধ্যমিক শিক্ষা ৮ম শ্রেণী থেকে শুরু হলে সব দিক থেকেই সুন্দর ফলদায়ক হতে পারে।

লেখক : শিক্ষাবিদ