২০ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মৌলবীবাজারের আব্দুল আজিজ হাবলুসহ তিন রাজাকারের বিচার শুরু

মৌলবীবাজারের আব্দুল আজিজ হাবলুসহ তিন রাজাকারের বিচার শুরু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৌলবীবাজারের বড়লেখার আব্দুল আব্দুল আজিজ হাবলূ সত তিন রাজাকারের ৫ অভিযোগ গঠন করেছে ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্টানিক বিচারশুরু হলো। আব্দুল আজিজ ওরফে হাবুল (৬৪), মো. আব্দুল মতিল (৬৩) ও মো. আব্দুল মান্নান ওরফে মনাইয়ের (৬৪) বিরুদ্ধে অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, হত্যা ও গণহত্যার মত যুদ্ধাপরাধের পাঁচ অভিযোগ রয়েছে। আগামী ৪ জুলাই এ মামলার সুচনা বক্তব্য ও সাক্ষীর জন্য দিন নির্ধারন করা হয়েছে।

অন্যদিকে সাতক্ষীরার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক মন্ডল সহ চার রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের চতুর্থ সাক্ষী এস এম আব্দুর রশীদ জবাবন্দী দিয়েছেন। জবানবন্দীতে তিনি বলেন , রাজাকাররা আমার আব্বা সোহেল উদ্দিন সানা সহ ৬/৭ জনকে ধরে ডায়মন্ড হোটেলের রাজাকার ক্যম্পে নিয়ে যায়। সেখানে আমার আব্বা সহ আটককৃতদেরকে হত্যা করা হয়। আমার আব্বার লাশ খুজে পাই নি। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য ২৫ জুলাই দিন নির্ধারন করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি মো:শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১ মঙ্গলবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। এ সময় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটরদের মধ্যে ছিলেন প্রসিকিউটর রিজিয়া সুলতানা চমন , প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৌলবীবাজারের বড়লেখার আব্দুল আব্দুল আজিজ হাবলূ সত তিন রাজাকারের ৫ অভিযোগ গঠন করেছে ট্রাইব্যুনাল। এ অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে (১) ১৯৭১ সালের ১৯শে মে আসামিরা মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানার ঘোলসা গ্রাম থেকে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) নেতা হরেন্দ্র লাল দাস ওরফে হরিদাসসহ মতিলাল দাস, নগেন্দ্র কুমার দাস এবং শ্রীনিবাস দাসকে অপহরণ করেন। তিনদিন বড়লেখা সিও অফিস রাজাকার ক্যাম্পে আটক রেখে নির্যাতনের পর জুরি বাজার বধ্যভূমিতে নিয়ে হরেন্দ্রলাল দাস ওরফে হরিদাসসহ মতিলাল দাস, নগেন্দ্র কুমার দাসকে হত্যা করে। শ্রীনিবাস দাস কোনোক্রমে প্রাণে বেঁচে যান এবং দুদিন পর বাড়ি ফিরে আসেন। (২) ১৯৭১ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে, আসামিরা বড়লেখা থানার বিওসি কেছরিগুল গ্রাম থেকে সাফিয়া খাতুন ও আবদুল খালেককে অপহরণ করে কেরামত নগর টি-গার্ডেন রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে আসামিরা সাফিয়া খাতুনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে শাহবাজপুর রাজাকার ক্যাম্প ও বড়লেখা সিও অফিসে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়েও সাফিয়া খাতুনকে ধর্ষণ করা হয়। ৬ ডিসেম্বর বড়লেখা হানাদারমুক্ত হলে মুক্তিযোদ্ধারা সাফিয়া খাতুনকে সিও অফিসের বাংকার থেকে উদ্ধার করে।(৩) ১৯৭১ সালের ১৩ নবেম্বর আসামিরা বড়লেখা থানার পাখিয়ালা গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা মঈন কমান্ডারের বাড়িতে হামলা করে বাড়ির মালামাল লুটপাট করে। রাজাকারেরা মঈনের বাবা বছির উদ্দিন, নেছার আলী, ভাই আইয়ুব আলী ও ভাতিজা হারিছ আলীকে অপহরণ করে বড়লেখা সিও অফিস রাজাকার ক্যাম্পে আটক রেখে নির্যাতন করে। ৬ ডিসেম্বর বড়লেখা হানাদারমুক্ত হলে তারা মুক্তি পান।

(৪) ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর আসামিরা বড়লেখা থানার হিনাই নগর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা মস্তকিন কমান্ডারের বাড়িতে হামলা করে। মস্তকিনকে না পেয়ে তার ভাই মতছিন আলীকে অপহরণ করে বড়লেখা সিও অফিস রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করে তারা। নির্যাতনের ফলে মতছিন আলীর পা ভেঙে যায়। আসামিরা মস্তকিন ও মতছিন আলীর বাড়ির মালামাল লুট করে তিনটি টিনের ঘর পুড়িয়ে দেয়।(৪)১৯৭১ সালের ১৭ নবেম্বর আসামিরা বড়লেখা থানার ডিমাই বাজার থেকে মুক্তিযোদ্ধা মনির আলীকে আটক করে। তাকে সঙ্গে নিয়ে তার ভাই মুক্তিযোদ্ধা হাবিব কমান্ডারকে আটক করার জন্য বাড়িতে হামলা করে তারা। সেখান থেকে আসামিরা মনির আলী ও তার স্ত্রী আফিয়া বেগমকে অপহরণ করে কেরামত নগর টি-গার্ডেন রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। ক্যাম্পে আসামিরা আফিয়া বেগমকে ধর্ষণ করে। হাবিব কমান্ডার ও মনির আলীর বাড়ির মালামালও লুটপাট করা হয়।