২৬ মে ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি না দিতে মালিকদের প্রতি আহ্বান

ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি না দিতে মালিকদের প্রতি আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যাত্রী নিরাপত্তা বাড়ানো এবং যৌন হয়রানি ঠেকাতে গণপরিবহনে জরুরী সেবার জাতীয় হেল্পডেস্ক নম্বর ৯৯৯ প্রদর্শনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবহন মালিক শ্রমিকরা। সম্প্রতি গণপরিবহনে বেশ কয়েকটি অনাকাঙ্খিত ঘটনায় এমন সিদ্ধান্ত নেয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর কাজী বশির উদ্দিন মিলনায়তনে আয়োজিত ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির এক বৈঠকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়। পরিবহন মালিক এবং চালকদের সচেতনতাবৃদ্ধি ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যৌথ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনালের মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ সহ মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উর্ধতন কর্তাব্যক্তিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে পরিবহন নেতারা রমজান মাসে রাজধানীর যানজট কমিয়ে আনতে ট্রাফিক বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেন। তারা বলেন, প্রতি বছর রমজানে রাজধানীতে গাড়ি চাপ বেড়ে যায়। ঈদের কেনাকাটার জন্য ঢাকার বাইরে থেকে বহু মানুষের রাজধানীতে সমাগম ঘটে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো কার্যত অচল থাকে। এতে বাসের ট্রিপের সংখ্যা কমে আসে। যানজটের কারণে রাস্তায় বেশি সময় ব্যয় হওয়ায় মালিক-শ্রমিকদের আয়ও কমে যায়। তাছাড়া যাত্রী দুর্ভোগও বাড়ে সমানতালে। এই পরিস্থিতিতে যানজট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পবিহন নেতাদের দাবি, যানজট রোধে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিকল্প নেই। সড়ক দখল করে গাড়ি রাখা বন্ধ করতে হবে। পথচারীদের ফুটপাত ব্যবহারের নিশ্চয়তা না দিতে পারলে যানজট নিরসন সম্ভব হবে না। তারা বলেন, যত্র-তত্র পার্কিং নগরীর যানজটের অন্যতম কারণ। অনেক রাস্তার দু’পাশের অর্ধেক অংশজুড়ে পার্কিং থাকায় যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে না। ফলে যানজট হয়।

বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি না দিতে পরিবহন মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, কোন চালক রাস্তায় যদি অপরাধ সংঘঠিত করে তাহলে তাকে ধরার কোন উপায় থাকে না, যদি তার বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকে। তারা বলেন, এখন বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বাসে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় যদি চালক দোষী হয় তাহলেও তাকে ধরতে হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন।

রাজধানীতে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া চালকের সংখ্যা বাড়ার কথা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, এটি খুবই উদ্বেগজনক খবর। আমরা চাই সবাই বৈধভাবে ড্রাইভিং করুক। অবৈধ চালকদের কারণে পরিবহন সেক্টরের বদনাম বাড়ছে। কিছু মালিক বেশি আয়ের লোভে অবৈধ ও অপরিচিত চালকদের হাতে বাস তুলে দিচ্ছেন। একের পর এক দুর্ঘটনা সহ ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। কিছু চালক ধরা পরছে আর কিছু চালককে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করাও সম্ভব হচ্ছে না। পরিবর্তন হচ্ছে না গোটা পরিবহন সেক্টরের দৃশ্যপটও।

গুলিস্তান ও সদরঘাট এলাকায় রমজানমাসে সবচেয়ে বেশি যানজট থাকার কথা তুলে ধরে মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, নানা কারণে এই এলাকায় যানজটের মাত্রা বেশি থাকে। ফলে যানবাহন ও যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে। তাই যে কোন মূল্যে রমজান মাসে এই এলাকার যানজট কমাতে মহানগর পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

জবাবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, রমজানে প্রতি বছরের মতো এবছরও রাজধানীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও বেশ কয়েকটি ইতিবাচক উদ্যোগ রয়েছে। সকলে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে যানজট সহনীয় থাকাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা। ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালাতে চালকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

সড়কে সচেতনভাবে গাড়ি চালাতে চালকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মালিক শ্রমিক নেতারা বলেন, সবার আগে রাস্তায় বাসের পাল্টাপাল্টি প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। অতি মুনাফা নয়, যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। সেইসঙ্গে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ, বাড়তি ভাড়া না নিতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। তারা বলেন, একটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণে পরিবারে বিপর্যয় নেমে আসে। সারা জীবন যন্ত্রণা বয়ে বেড়াতে হয় পরিবারের সদস্যদের। আমরা চাই না সড়কে কারো মৃত্যু হোক। সড়ক দুর্ঘটনা যদি আমাদের পরিবারে ঘটে তাহলে বিপর্যয় কেমন হবে, এমন চিন্তা চালকদের মাথায় রাখার পরামর্শও দেন নেতুবৃন্দ।

তারা বলেন, সচেতনতা সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে। এজন্য চালক ও যাত্রীদের সচেতনভাবে পথ চলার পরামর্শ দেন তারা। মাদক সেবন করে গাড়ি না চালানো, মেয়াদ উত্তির্ণ পরিবহন বন্ধ করা, যৌন হয়রাণি থেকে বিরত থাকতে শ্রমিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সহ পুলিশ কর্মকর্তারা।

ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ সভাপতিত্বে যৌথ সভায় বক্তব্য রাখেন, ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম, ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, মফিজ উদ্দিন আহমেদ, শ্রমিক নেতা সাদেকুর রহমান হিরু প্রমুখ।