১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইন্দোনেশিয়ায় সন্ত্রাস

সন্ত্রাসবাদ মানবতার শত্রু হিসেবেই শনাক্ত হয়। বিশ্বের শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ সব সময়ই সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে। বিশ্বনেতাদের কর্তব্য হচ্ছে এই গ্রহ থেকে সন্ত্রাস নির্মূল করার জন্য সম্মিলিতভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া, সন্ত্রাস উস্কে দেয়া নয়। ইসলামের নামে দেশে দেশে সন্ত্রাস সংঘটনকারীদের যে কোন মূল্যে থামানোর কথা সর্বমহলে উচ্চারিত হলেও এখনও পর্যন্ত জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়নি। অবশ্য এ কথাও মানতে হবে যে, আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানোর কোন কৌশলই কাজে লাগছে না। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার গির্জায় হামলা তারই প্রমাণ।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। সম্প্রতি দেশটিতে ইসলামী জঙ্গীবাদ ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সুরাবায়ায় রবিবার সকালে পৃথক তিনটি গির্জায় আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১১ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছে। এটি ইন্দোনেশিয়ায় আইএসের সবচেয়ে বড় হামলা। ২০১৬ সালে দেশটিতে প্রথম হামলা চালায় আইএস। রাজধানী জাকার্তায় বোমা হামলা এবং গুলিতে চারজন সাধারণ নাগরিক মারা যায় সে সময়। উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ায় জঙ্গী হামলার ইতিহাস আরও পুরনো। ২০০২ সালে আল-কায়েদা জঙ্গীদের বোমা হামলায় বালি দ্বীপে ২০০ মানুষ মারা যায়। ২০০৫ সালের মে মাসে সুলাওয়েসি দ্বীপে বোমা হামলায় ২২ জন মারা যায়। এর ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বালি দ্বীপে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২০ জন মারা যায়।

বিগত বছরগুলোয় দেশে দেশে আইএস সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যে কয়েক দফায় এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বাছবিচারহীনভাবে হত্যাযজ্ঞ ঘটানো হচ্ছে। ইরানের রাজধানী তেহরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই স্থাপনা দেশটির পার্লামেন্ট ও ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনীর মাজারে আলাদাভাবে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। পৃথিবীতে এখন বড় খারাপ সময় এসেছে। কিছুদিন পরপরই কোন না কোন দেশে সন্ত্রাসী হামলা সংঘটিত হচ্ছে। ক্ষুদ্র বা বৃহৎÑ যে পর্যায়েই সন্ত্রাস পরিচালিত হোক না কেন তার চূড়ান্ত মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকেই। মানুষ জীবন পায় একবারের জন্যই। সেই জীবন সন্ত্রাসের শিকার হয়ে অকালে যাতে ঝরে না যায় বিশ্ববাসীর সেটাই প্রত্যাশা।

সাম্প্রতিক বিশ্বে যেখানেই বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা ঘটুক না কেন তার বেশির ভাগেরই দায় স্বীকার করে নিচ্ছে আইএস। বর্তমান বিশ্বে আইএস মূর্তিমান আতঙ্কেরই নাম। তাদের নীতিনৈতিকতার কোন বালাই নেই। ইসলামবিরোধী কর্মকা-ের জন্য ইতোমধ্যে তারা ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ঘৃণা কুড়িয়েছে। ইসলামের নামে তারা বর্বরতা ছড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র মাঝে মাঝে আইএসের অনুমিত সদস্য সংখ্যা প্রকাশ করে থাকে। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে পেন্টাগন বলেছিল, দুটি দেশে আইএস জঙ্গীর সংখ্যা ২০ থেকে ৩০ হাজার। কোন কোন মাসে শত শত আইএস জঙ্গী নিহত হয়েছে। কিছুকাল আগে শীর্ষস্থানীয় একজন মার্কিন জেনারেল জানান ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) এখনও ১২ থেকে ১৫ হাজার জঙ্গী রয়েছে। সংখ্যাতত্ত্ব দিয়ে আইএসকে বিচার করলে ভুল হবে। এদের নির্মূল করা না গেলে মানবতার বিরাট সর্বনাশ হয়ে যাবে।

আমরা আশা করেছিলাম প্যারিসে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সমাবেশ, শোভাযাত্রা এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিন্ন বক্তব্য ও অঙ্গীকার তুলে ধরার ফলে আগামীতে জঙ্গীবাদ অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়বে। চরম পরিতাপের বিষয়Ñ বাস্তবে তা হয়নি। তাই বিশ্বনেতৃবৃন্দকে আজ নতুন করে ভাবতে হবে মানববিনাশী অপশক্তিকে কী উপায়ে প্রতিরোধ করা যায়। বিশ্বমানবতার কল্যাণের লক্ষ্যে শুভবোধ জাগ্রত রাখা এবং শুভ শক্তির ঐক্য খুব জরুরী।