১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টেকসই ক্ষুদ্র উদ্যোগ খাতে বিশ্বব্যাংকের ৯১৩ কোটি টাকা পাচ্ছে পিকেএসএফ

টেকসই ক্ষুদ্র উদ্যোগ খাতে বিশ্বব্যাংকের ৯১৩ কোটি টাকা পাচ্ছে পিকেএসএফ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যম উৎপাদন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সহযোগিতা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ‘টেকসই উদ্যোগ’ বা ‘সাসটেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্টের’ (এসইপি) আওতায় প্রদেয় নমনীয় শর্তের এই ঋণের পরিমাণ ১১ কোটি ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি ডলার সমান ৮৩ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৯১৩ কোটি টাকা। প্রকল্পের মোট ব্যায় ১ হাজার ৭৯ কোটি টাকা। বাকি অর্থের জোগান দেবে পিকেএসফ।

বুধবার বিকেলে শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সম্মেলন কক্ষে সরকার এবং বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ঋণচুক্তি সই হয়। ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। ঋণচুক্তির পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পিকেএসএফের এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প চুক্তিও হয়। পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ আবদুল করিম ওই চুক্তিতে সই করেন। এসময় ইআরডি, অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি সাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে বিভিন্ন খাতে ৭০ লাখ ক্ষুদ্র উদ্যোগ রয়েছে, যেগুলোর ৯০ শতাংশের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা পরিবেশের জন্য নেতিবাচক। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, পিকেএসএফের আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলোকে পরিবেশসম্মত উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির চর্চা রপ্ত করতে সহায়তা করা। প্রকল্পের আওতায় ম্যানুফ্যাকচারিং ও কৃষি-ব্যবসায় খাতের ২০ হাজার গুচ্ছ ক্ষুদ্র উদ্যোগকে (ক্লাস্টার মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ) এই সহযোতিা দেয়া হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মধ্যে আছেন এমন অঞ্চলের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা প্রকল্পে অগ্রাধিকার পাবেন। প্রকল্পের আওতায় একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। প্রকল্পটি জুন ২০১৮ থেকে জুন ২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে।

অনুষ্ঠানে কাজী শফিকুল আযম বলেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অভিঘাত মোকাবেলায় সক্ষম করে তোলা হবে। চিমিয়াও ফান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ দারিদ্র হ্রাস ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের কুটির শিল্প জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে হুমকিতে আছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় পিকেএসএফ বিশেষ ভুমিকা পালন করছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে বিভিন্ন কাজ করছে সংস্থাটি সেক্ষেত্রে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি। আবদুল করিম বলেন, পিকেএসএফ এর সব প্রকল্পই সঠিক সময়ে এবং নির্দিষ্ট বরাদ্দের মধ্যেই বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। ইফাদের অর্থায়নের একটি প্রকল্প সম্প্রতি ইউএস ট্রেজারি কর্তৃক দক্ষতার সাথে বাস্তবায়নের জন্য পুরস্কৃত হয়েছে। এই প্রকল্পটিও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গুণগত মান নিশ্চিত করে বাস্তবায়ন করা হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংক আইডিএ উইন্ডো থেকে নমনীয় ঋণ হিসেবে এ অর্থ দেয়া হবে। এ ঋণের সার্ভিস চার্জ বছরে মাত্র শূণ্য দশমিক ৭৫ শতাংশ। ঋণ পরিশোধে ৬ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৮ বছর সময় পাওয়া যাবে। এ ঋণে কমিটমেন্ট ফি শূণ্য দশমিক ৫০ শতাংশ ছাড়া অন্য কোন চার্জ নেই, তবে আইডিএ এর সকল ঋণে বাংলাদেশের জন্য কমিটমেন্ট ফি মওকুফ রয়েছে।