১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইউনিসেফকে ২৬ লাখ ডলার দিয়েছে ইসিএইচও

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিশু, কিশোরী ও তরুণীরা যাতে নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশে বসবাস করতে এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) থেকে মুক্ত থাকতে পারে এবং আরও ভাল সামাজিক সেবাসমূহ পেতে পারে তা নিশ্চিত করতে ইউনিসেফকে ২৬ লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছে ইউরোপিয়ান সিভিল প্রোটেকশন এ্যান্ড হিউম্যানিটেরিয়ান অপারেশন্স (ইসিএইচও)। এই পদক্ষেপ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাসকারী ৪১ হাজার ৫০০ শিশু ও কিশোর-কিশোরী এবং তাদের পাশাপাশি বসবাসকারী স্থানীয় বাংলাদেশী জনগোষ্ঠী; যারা আশ্রয়দাতা কমিউনিটি হিসেবে পরিচিত, তাদের উপকারে আসবে।

২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ৬ লাখ ৯৩ হাজারেরও বেশি শরণার্থী মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারে এসেছে, যাদের অর্ধেকের বেশিই (প্রায় ৫৮ শতাংশ) শিশু। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বিশেষ করে শিশু, কিশোরী ও তরুণীরা উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ঝুঁকির মুখে থাকার পাশাপাশি কিশোরী ও তরুণীরা যৌন নির্যাতন এবং শিশুশ্রমসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের ঝুঁকির মধ্যেও রয়েছে। এছাড়া হাজার হাজার নতুন শরণার্থী আসার পর থেকে স্থানীয় কমিউনিটিও চাপের মধ্যে রয়েছে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বেগবেদার বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের অনেকে সহিংসতা ও ভীতিকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। তাদের জন্য পরবর্তী যথাযথ সেবাগুলো নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরী।’ তিনি বলেন, ‘শরণার্থী শিবিরগুলোতে অনেকে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।’ এডুয়ার্ড বেগবেদার আরও বলেন, ‘এই উদ্যোগের ফলে আমরা সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্তদের সুরক্ষা দিতে পারব এবং একই সঙ্গে এর ফলে শোষণ, পাচার, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, শিশুবিয়ে ও শিশুশ্রমের মতো ঘটনার মধ্য দিয়ে তাদের অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিগুলো অনেক কমবে।’

শরণার্থী শিবিরগুলোতে শিশু, কিশোরী ও তরুণীরা এমন কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়; যা স্থানীয় কমিউনিটিতেও বিরল নয়। শিবিরে একাকী থাকা শিশুদের বাবা-মাকে খুঁজে পেতে তাদের সামাজিক সহায়তা প্রদানসহ ১ লাখ ৮২ হাজারেরও বেশি শিশু ও কিশোরীকে জরুরী শিশু সুরক্ষা সেবা প্রদান করছে ইউনিসেফ। বিনোদনমূলক ও অন্যান্য নানা ধরনের সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে শরণার্থী শিবিরে দুটি নারীবান্ধব স্থান (উইম্যান-ফ্রেন্ডলি স্পেস) চালুর মধ্য দিয়ে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবেলার প্রচেষ্টা সম্প্রতি গতি পেয়েছে। ওই দুটি স্থানের প্রতিটিতে ৫০০ জন করে নারীকে সহায়তা প্রদান করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কক্সবাজারে ইসিএইচও বিশেষজ্ঞ সুরঙ্গা মালাওয়া বলেন, ‘শিশুবান্ধব স্থান (সিএফএস) ও কিশোরীদের জন্য কার্যক্রমের মাধ্যমে ইউনিসেফ জরুরী ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনা ও নির্দেশনা, মনসামাজিক সহায়তা ও জীবনমুখী দক্ষতাসহ বেশ কিছু গোপনীয় সেবা প্রদান করছে। তবে এখনও অনেক কাজ বাকি। তাই আমরা জোটবদ্ধ হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রস্তাবিত শিশু সুরক্ষা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা মোকাবেলায় হাতে নেয়া কার্যক্রম, ইউনিসেফকে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা মোকাবেলায় ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাহায্য করবে। এছাড়াও এই উদ্যোগ সমাজকর্মীদের দ্বারা শিশুবান্ধব স্থান, কিশোরী ক্লাব ও বিস্তৃত সেবার মাধ্যমে ৩৭ হাজার শিশু ও কিশোরীকে বিকল্প সেবা প্রদানের সুবিধা প্রদান করবে।জানা গেছে, এ উদ্যোগের ফলে অস্থায়ী ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে ওঠা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নারীদের জন্য ৩৫টি নিরাপদ স্থান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আরও ২ হাজার কিশোরী ও তরুণী উপকৃত হবে। বিস্তৃত কার্যক্রম লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ঠেকাতে নারী সহায়তা গ্রুপের মাধ্যমে ২ হাজার কিশোরী ও তরুণীর সহায়তা প্রাপ্তি নিশ্চিত করবে।