১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈদে সিনেমা মুক্তির নতুন সমীকরণ

  • সব্যসাচী দাশ

ঘটনাটা খুব বেশি দিনের নয়। সময়ের বিচারে এক বছরও পার হয়নি। বলছিলাম, গেল বছর জুন মাসের শেষ দিকের কথা। গত কয়েক বছর ধরে রীতিমতো উৎসবমুখর পরিস্থিতিতে ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব জেলাতে মুক্তি পেয়ে আসেছে তুলনামূলক বড় বাজেটের ঈদের বিশেষ সিনেমা। কিন্তু, পূর্বের দু-তিন বছরের তুলনায় গেল বছর সিনেমা মুক্তির পরিস্থিতি ছিল একেবারেই ভিন্ন। বলা যায় এক রকম সংঘাতময় পরিস্থিতি! দিনের পর দিন রাস্তা অবরোধসহ সেন্সর বোর্ড, তথ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল। এসবের পেছনে অবশ্য, ২০১৭ সালের প্রথম দিক থেকেই চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক রকম গরম হাওয়া বয়ে চলছিল চলচ্চিত্রপাড়ায়। শেষে এই হাওয়া একটা নিম্নচাপে পরিণত করেছিল পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের দিন কয়েক আগে। সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িক শান্ত হয়। এর মধ্যে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই রোজা চলে এসেছে। সামনের মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঈদ। বছর শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সিনেমা হলে প্রদর্শিত হয়েছে, স্বপ্নজাল, চালবাজ, বিজলী, নূরজাহান সিনেমাপ্রেমীদের আলোচনায় এসেছে। অন্যগুলো তেমনভাবে আলোরিত করতে পারেনি। এখনও ঈদের বাকি এক মাস। এই সময়ের মধ্যে নতুন সিনেমা মুক্তির তেমন কোন তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে না। আসলে মূল অপেক্ষাটা ঈদকে কেন্দ্র করে। ‘চিটাগাংইগা পোলা নোয়াখাইল্লা মাইয়া’ ‘পোড়ামন-২’ ‘পাঙ্খুজামাই’ ‘বাহাদুরী’ ‘সুপারস্টার’ ‘ভাইজান এল রে’ ‘সুলতান’ সিনেমার নাম বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে সিনেমাপ্রেমীরা জানলেও এখনও নিশ্চিত হয়নি আসছে ঈদে এর মধ্যে থেকে ঠিক কোন সিনেমাগুলো দর্শক পর্দায় উপভোগ করতে পারবেন।

ঈদের সিনেমা নিয়ে এখুনি কেন আলোচনা? এমন প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। আসলে গেল বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা সাধারণ দর্শক থেকে সিনেমা সংশ্লিষ্ট কেউই ভোলেনি। বিশেষ করে, সিনেমা, ‘নবাব’ এবং ‘বস-২’ ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনার হওয়াতে দেশীও চলচ্চিত্রের অভিনয় শিল্পী থেকে সংশ্লিষ্ট অনেকেই এর (যৌথ প্রযোজনা) নীতি নির্ধারণের বিভিন্ন বিষয়ের অনিয়ম নিয়ে মাঠ প্রকম্পিত করে। কিন্তু এবার অর্থাৎ ২০১৮তে পূর্বের সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেই প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহ দুয়েক আগে নিপা এন্টারপ্রাইজের পক্ষে প্রযোজক সেলিনা বেগম আদালতে বাংলাদেশের বিশেষ দিবসগুলোতে যৌথ প্রযোজনা ও বিদেশী সিনেমা প্রদর্শন স্থগিত চেয়ে একটি রিট করেন। গত বৃহস্পতিবার সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সালমা মাসুদ ও একেএম জাহিরুল হক আদেশ দেন, ঈদ, নববর্ষসহ বিভিন্ন উৎসবে দেশীয় সিনেমা ছাড়া অন্য কোন (যৌথ প্রযোজনা ও আমদানিকৃত সিনেমা) সিনেমা মুক্তি দেওয়া যাবে না। আদালত এ সংক্রান্ত একটি রুল জারি কারে তথ্য সচিবকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলেছেন। এ কারণেই অনেক দিনের আলোচিত যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ‘ভাইজান এল রে’ এবং ‘সুলতান’ ঈদে মুক্তির সম্ভাবনা অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে গেল। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি ও চলচ্চিত্র পরিচালক মুশফিকুর রহিম গুলজারের সঙ্গে কথা হয়। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় কোর্টের এই সিদাদ্ধে আপনারা কি ভাবছেন বা কিভাবে দেখছেন? উত্তরে গুলজার বলেন, কোর্টের এই রায় আমাদের জন্য খুবই সুখকর। কারণ, বিদেশী সিনেমা বা যৌথ প্রযোজনার সিনেমা এসবের পূর্বে আমাদের দেশীয় সিনেমা অগ্রগণ। সাধারণত ঈদ বা অনান্য উৎসবকে ঘিরে তুলনা মুলক বড় বাজেটের কাজ করে থাকে আমাদের পরিচালক ও প্রযোজকরা। কিন্তু, তাদের একরকম বঞ্চিত করে অন্যদের সুযোগ করে দেওয়া আমি মনে করি অসমীচীন। এই দেখেন গেল বছর ঈদে দুইটা যৌথ প্রযোজনার সিনেমার সঙ্গে বুলবুল বিশ্বাসের সিনেমা ‘রাজনীতি’ হল পাওয়ার ক্ষেত্রে কি বৈষম্যই না আমরা দেখেছি। ‘রাজনীতি’ ঢাকা শহরের একটি মাত্র হলে চলেছে, ঢাকার বাইরে যে সমস্ত হলে এই সিনেমা চেলেছে সেখান কার দর্শক উপস্থিতি এবং তাদের প্রশংসিত উক্তিকে না শুনেছে। আর আপনারা তো জানেন সিনেমা হল পাওয়ার ক্ষেত্রে, প্রদর্শনের ব্যাপারে একজন মানুষ ও একটি প্রযোজনা সংস্থা এককভাবে কিভাবে তৎপর। সুতরাং আমি বলব সবার আগে আমাদের সিনেমা তারপরে অন্যকিছু। যদি বছরের অন্য সময় ওই সিনেমাগুলো প্রদর্শন করতে চায়? গুলজার, যদি সব নিয়মনীতি মেনে সিনেমা করে তবে কোন অসুবিধা নেই। আর শাকিব খানে অভিনিত তিনটা সিনেমাতো ঈদের জন্য রেডি। যৌথ প্রযোজনার সিনেমা বছরের অন্য সময় যদি প্রদর্শিত হতে পারে তবে ঈদ বা অন্য উৎসবে নয় কেন? এই মর্মে যদি তারা কোর্টে পাল্টা রিট করে তখন আপনারা কি বলবেন? গুলজার, দেখেন যদি পাল্টা রিট করে সেটা কোর্ট দেখবে। তবে, কোর্ট নিশ্চয়ই দেশের বিষয়টা খাটো করে দেখবে না! এভাবেই যৌথ প্রযোজনা ও বিদেশী সিনেমার ক্ষেত্রে নিজের মতামত ব্যাক্ত করেণ মুশফিকুর রহিম গুলজার। কিছু দিন আগেও মোটামুটি নিশ্চিত ছিল ‘ভাইজান এল রে এবং সুলতান সিনেমার অভিনেতা এবং সংশ্লিষ্টরা আসছে ঈদে এই সিনেমা দুটি সমানে পর্দা কাঁপাবে এবং সিনেমাপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়াবে। কিন্তু কোর্টের এই রায়ে আপাতত বদলে গেল পুরনো সমীকরণ।