২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিপণনের পথে স্যাটেলাইট

বাঙালীর স্বপ্ন পূরণের ক্ষেত্রগুলো ক্রমশ হচ্ছে বিস্তৃত। তার স্বপ্নের ভেতর লালিত সোনার জিয়নকাঠি এখন ঘুরছে মহাশূন্যের পথে। স্বাধীনতা অর্জনপরবর্তী সমকালীন ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি আজ সুদূর নীহারিকা অর্থাৎ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র। দূরকে কাছে নিয়ে আসার মহতী উদ্যোগকে বাস্তবে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। সমুদ্র বিজয় শেষে এই আকাশ বিজয় দেশটিতে এনেছে এক নতুন মাত্রা। মহাকাশ যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ এক গৌরবময় অধ্যায়। অনন্ত মহাকাশে ঘুরছে বাংলাদেশের অনেক সাধের স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। এ এক মহাবিজয়। গত ১২ মে কাকডাকা ভোরে মহানন্দে সে নিয়েছে ঠাঁই। আর এখন বাণিজ্যিক বিপণনের কাজ শুরু করেছে। বছরে পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) তৎপরতা শুরু করেছে। এশিয়ার দেশ ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া, তাজিকিস্তান, কাজাকিস্তান ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এই সব দেশের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। যা অত্যন্ত আনন্দের এবং সুসংবাদ বৈকি। স্যাটেলাইট থেকে সিগন্যাল পুরোদমে আসা শুরু হলে বিপণনের জন্য দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তির কাজ সম্পন্ন হবে। ধারণা করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনে পুরোদমে বার্তা পাঠাতে শুরু করবে আরও দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে। এ সময়ে বিদেশে স্যাটেলাইটের বাজার তৈরির কাজটি সম্প্রসারিত করা হবে। যেসব দেশে স্যাটেলাইটের চাহিদা রয়েছে, বিশেষত নিজস্ব স্যাটেলাইট নেই, সেসব দেশ ছাড়াও প্রতিবেশী দেশগুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাবে। সেসব দেশের টেলিকম ও কেবল টিভির জন্য স্যাটেলাইট বিপণন করা হবে। এসব দেশে বাজারজাত করা গেলে বছরে আয় হবে পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। একটি দেশের টেলিযোগাযোগ সুবিধা ও জ্ঞান বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়া আর অপরটি বাণিজ্যিক দিক। প্রথমত এই বাণিজ্যিক বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে। স্যাটেলাইটের কুড়িটি ট্রান্সপন্ডার ওসব দেশে ভাড়া দেয়া হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্র প্রসারেও পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিজ অবস্থানের দিকে প্রতি সেকেন্ডে গড়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার বেগে এগিয়ে যাচ্ছে। আজকালের মধ্যে নিজস্ব অবস্থানে স্থাপিত হতে যাচ্ছে। এটি ভারত মহাসাগর, পাপুয়া নিউগিনির ওপর দিয়ে ফিলিপিন্স হয়ে কক্ষপথে স্থাপিত হবে। এরপর গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশনে বার্তা আদান-প্রদান কার্যক্রম গতি পাবে। তিন দশমিক সাত টন ওজনের স্যাটেলাইটটি টানা ১৫ বছর পরে আরও তিন বছর কার্যকর থাকবে। বাংলাদেশের তরুণ বিজ্ঞানীরা এই স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ করার কাজটি করবে। সে জন্য তাদের প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকার বাংলাদেশ অংশে জলরাশির নিচে যে মূল্যবান সম্পদ রয়েছে, সে সম্পর্কে অবহিত হওয়া যাবে। ফলে সম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এক সুবিধাজনক স্থানে পৌঁছে যাবে। বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে এই স্যাটেলাইট এমন ভূমিকা রাখবে যাতে বিভিন্ন সিগন্যালের মাধ্যমে এই বিশাল জলরাশির কোথায় কি ঘটছে, তা জানা যাবে। তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্কটসমূহের সমাধান সম্ভব হবে, দেশের সুদূর প্রত্যন্ত অঞ্চল হাওড়, জলাভূমি ও পর্বতময় জঙ্গলের অবস্থান, যেখানে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার ঘটানো এখনও সম্ভব হয়নি, সেখানেও সরাসরি এর মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে। জল, স্থল ও অন্তরিক্ষে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি হতে যাচ্ছে। বিজ্ঞানের সুফল কাজে লাগিয়ে টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন যুগে প্রবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতাকে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিতে পারছে, স্বাধীনতার পর বলা যায়। এটা বাংলাদেশের বড় অর্জন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আরেক ধাপ সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। উন্নয়নশীল দেশের পথে যাত্রালগ্নে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে সচেষ্ট। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তথ্য যোগাযোগ খাতে বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে যাবে। আয় করবে বিপুল অঙ্কের অর্থ। কোন বাধাই তাকে দমাতে পারবে না।