২২ মে ২০১৮

সঙ্গীতশিল্পী মরিয়ম মারিয়ার ‘কোকিলা’

সঙ্গীতশিল্পী মরিয়ম মারিয়ার ‘কোকিলা’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘কোকিলা’ শিরোনামে নতুন একটি গানে কণ্ঠ দিলেন এই সময়ের অন্যতম ব্যস্ত সঙ্গীতশিল্পী মরিয়ম মারিয়া। ইতোমধ্যে গানটির রেকর্ড সম্পন্ন হয়েছে। ‘কোকিলা’ শিরোনামের গানটি লিখেছেন জাহাঙ্গীর রানা। সুর এবং সঙ্গীত পরিচালনা শান শেখ। মিক্স এবং মাস্টারিং করেছে রেজওয়ান সাজ্জাদ। মিউজিক বক্সের ব্যানারে গানটি অচিরেই রিলিজ হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্পী মরিয়ম মারিয়া।

সঙ্গীত শিল্পী মরিয়ম বেগম মারিয়া। মারিয়া নামে তিনি সঙ্গীতাঙ্গনে পরিচিত মুখ। ১৯৯৯ সালে সঙ্গীতার ব্যানারে তার প্রথম একক এ্যালবাম ‘প্রেমের পাঠশালা’ প্রকাশে পর জনপ্রিয়তা পায়। প্রয়াত সঙ্গীত পরিচালক প্রণব ঘোষের সুরে এ্যালবামের সব গানই ফোক সমৃদ্ধ। ২০১১ সালে জি-সিরিজের ব্যানারে প্রকাশ পায় মারিয়ার দ্বিতীয় একক এ্যালবাম ‘ডুবসাঁতারী’। এ্যালবামের সঙ্গীত আয়োজনে ছিলেন জে, কে। গান গেয়ে মারিয়া শিল্পকলা একাডেমি থেকে নজরুল সঙ্গীতে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া গানের স্বীকৃতিস্বরূপ আধুনিক গানের শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে। বর্তমানে বিশেষ গ্রেডে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিষনে সঙ্গীত পরিবেশন করছেন মারিয়া।

১৯৭৮ সালে যশোর জেলা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। মা রিজিয়া খাতুন এবং বাবা শেখ গোলাম পাঞ্জাতনের জ্যেষ্ঠ সন্তান মারিয়ার ছেলেবেলা কাটে যশোর অঞ্চলে। দুই বছর বয়সে বাবাকে হারান মারিয়া। মা রিজিয়া খাতুন অনেক কষ্টে মানুষ করেন দুই বছরের শিশু সন্তান মারিয়াকে। মায়ের শখ ছিল মেয়ে বড় হয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি গানের শিল্পী হবে তাই তিন বছরের শিশু সন্তন মারিয়াকে মা সেই ছোটোবেলায় ভর্তি করে দেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির যশোর শাখায়। সেখানে গান ছাড়াও মারিয়া শিখতেন নাচ এবং ছবি আঁকা। মাঝে কিছুদিন কচিকণ্ঠের আসরেও গান শিখতেন শিশু শিল্পী মারিয়া। এরপর যশোর সুর বিতান সঙ্গীত একাডেমিতে অন্তর্ভুক্ত হন। নবাগত অনুষ্ঠানে গানের মাধ্যমে প্রথম টিভি র্পদায় আসেন মারিয়া।

সঙ্গীত শিক্ষার এ দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় মারিয়া সংস্পর্শে এসেছেন আনেক গুণী সঙ্গীতজ্ঞের। গানের প্রাতিষ্ঠানিক সঙ্গীত শিক্ষা শুরু হয় যশোর শিশু একাডেমিতে। প্রথম সঙ্গীত শিক্ষক ওস্তাদ লিয়াকত আলী খান, এর পর নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করেন শাহ্ মোহাম্মদ মোর্শেদ ও ওস্তাদ মোশারফ হোসেনের সান্নিধ্যে। বর্তমানে মারিয়া ওস্তাদ সঞ্জীবদের কাছে তালিম নিচ্ছেন। গানে মারিয়ার অনুপ্রেরণা মা ও তার স্বামী। সামিনা চৌধুরী, সুবীর নন্দী, আশা ভোঁসলে, মান্নাদে মারিয়ার প্রিয় শিল্পী।

রেডিও টেলিভিশনে গানের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নিয়মিত স্টেজ শো করছেন মারিয়া। কারণ মঞ্চসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে মারিয়ার রয়েছে প্রচুর গ্রহণযোগ্যতা। বাংলা গানের ফোক, আধুনিক, লালন, সঙ্গীতসহ বিভিন্ন ধরনের গানে সমানভাবে পারদর্শী মারিয়া। এছাড়াও মঞ্চে দর্শক চাহিদা অনুযায়ী হিন্দী, উর্দু, ইংরেজীসহ বিভিন্ন ভাষায় গান পরিবেশন করে থাকেন তিনি। দেশে ও দেশের বাইরে যেমন, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, কানাডা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চায়না ও ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সঙ্গীত পরিবেশন করে দেশের জন্য সুনাম অর্জন করেছেন সঙ্গীত শিল্পী মারিয়া। গানের পাশাপাশি একইভাবে পড়াশোনাও চালিয়ে গেছেন মরিয়া। ২০০৫ ইং সালে যশোর এম এম কলেজ থেকে স্নাতোক্তর ডিগ্রী লাভ করেন এবং পরবর্তীত বি আই টি ইন্টারন্যাশনাল নামক ঢাকার একটি স্বনামধন্য স্কুলে সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। প্রায় দুই বছর সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করে মারিয়া এক পর্যায়ে ঢাকার বাফা সঙ্গীত একাডেমির সঙ্গে সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবে জড়িয়ে পড়েন। এরপর স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলে চাকরিতে যোগদান করেন মারিয়া। ২০০৪ সালে এসটিভি ইউএস নামক একটি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলে আনুষ্ঠান প্রযোজক হিসেবে দীর্ঘ দিন কর্মরত ছিলেন মারিয়া। বর্তমানে মারিয়া একুশে টেলিভিশনে আনুষ্ঠান প্রযোজক হিসেবে কর্মরত। কর্মজীবনের পাশাপাশি মারিয়া বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে নিয়মিত আধুনিক ও ফোক গান পরিবেশন করছেন, এছাড়াও দেশ ও বিদেশে স্যাটেলাইট চ্যানেল এ সঙ্গীত বিষয়ক বিভিন্ন লাইভ প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে সুনাম অর্জন করেছেন মারিয়া। গানের মাধ্যমে বেঁচে থাকতে চান শ্রোতাদের হৃদয়ে আজীবন, তাদের ভালবাসায় অনেক দূর যেতে চান কণ্ঠশিল্পী মারিয়া। মারিয়ার ভাষায় বর্তমান সময়ের সুস্থ সঙ্গীত ধারাকে লালন করে, শিল্পানুরাগী ও সঙ্গীত পিপাসুদের প্রাণের তৃষ্ণা মেটাতে তাঁর এই কর্মপ্রয়াস যা শ্রোতাদের মন জয় করবে। এমনটাই বিশ্বাস করেন তিনি। তার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।