২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান!

বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহেজ উদ্দিন সরকারকে জাতীয় পতাকার পরিবর্তে বাঁশের চাঁটাইয়ে জড়িয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করার মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। সঙ্গত কারণেই এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি বেড়া পৌর সদরের সম্ভুপুর গ্রামে। সরকারী আইনে মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় পতাকায় মুড়ে বিউগল বাজিয়ে গার্ড অব অনার দেয়ার নিয়ম থাকলেও বেড়া উপজেলা প্রশাসন তা কেন পালন করেনি সেটি ভালভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। স্বাভাবিকভাবেই এ ঘটনা প্রশাসন কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান ও ধৃষ্টতাপূর্ণ বলে মনে করেছেন অনেকে। আবার অনেকেই উপজেলা প্রশাসনের ঘাড়ে পাকিস্তানী ভূত চেপে আছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বলাবাহুল্য, মুক্তিযোদ্ধার অসম্মান হলে এ ধরনের প্রতিক্রিয়াই হওয়ার কথা।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন। যদিও তিনি দায় চাপাতে চাইছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ওপর। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করলেও তার বক্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর। মরহুমের পরিবার এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা পতাকা না জড়ানোর বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা তো সামান্য বিষয়, আপনাদের এত মাথাব্যথা কেন। একটা ভুল হয়েছে তাই বলে এটা নিয়ে এত মাতামাতি কেন।’ প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার ছেলের মতে, বেড়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ইসহাক আলী ইচ্ছাকৃতভাবে তার বাবাকে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়নি। এটি সত্য হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত বলা দরকার, সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রবর্তিত কোটা প্রথায় মুক্তিযোদ্ধাদের বড় একটা জায়গা ছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে জাতির ঋণ আছে। তারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের ঋণ পরিশোধের দায়ভাগ কি নেবে না উত্তর প্রজন্ম? কোটা সংস্কারের নামে মুক্তিযোদ্ধা কোটা কমানো, বা বলা সঙ্গত, পুরোপুরি বাতিলের মনোভাব ছিল দেশের স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের। তারাই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করেছে। শুধু প্রভাবিতই না, তারা শিক্ষার্থীদের ব্যবহারেও সক্ষম হয়েছে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের প্রবাদটিই এক্ষেত্রে মনে পড়ে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বাঘা বাঘা সব দেশবিরোধীর মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে। ওই স্বাধীনতাবিরোধী চক্রই যারা মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয় মন থেকে মেনে নিতে পারেনি তারাই পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ক্ষমতায় এসেছে এবং দেশ ধাপে ধাপে উন্নতির শীর্ষে পৌঁছানোর যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। তাই মানুষের জিজ্ঞাসা : মুক্তিযোদ্ধা কোটাবিরোধীরা কাদের স্বার্থরক্ষায় কাজ করছে? কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে কটূক্তি করা হয়েছে যা দেশের এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অবমাননারই শামিল। পাবনায় মুক্তিযোদ্ধার মরদেহকে যথাযথভাবে সম্মান না জানানোর পেছনে অতিসাম্প্রতিককালে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারণার প্রতিফলন ঘটেছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।

শুধু দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চেয়ে এত বড় অসম্মান ও অপরাধ পার পেতে পারে না। আমরা মনে করি, এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। তদন্তে যে বা যারা এই অপকর্মের জন্য দায়ী বলে সাব্যস্ত হবে অবশ্যই তার বা তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে করে ভবিষ্যতে আর কখনোই কেউ দেশের সেরা সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার সামান্যতম দুঃসাহসও না দেখাতে পারে। বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অবজ্ঞা ও অসম্মান করার ধৃষ্ঠতা তারা কোথায় পায়?