২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মোবাইলে ভাতার অর্থ

ডিজিটালাইজেশনের সুবিধা পেতে যাচ্ছে সামাজিক সুরক্ষার আওতাধীন প্রকল্প। এতে উপকৃত হবেন সুবিধাবঞ্চিতরা, যারা ভাতা পেয়ে থাকেন সরকারের তরফ হতে। ঘরে বসেই তারা পেয়ে যাবেন ভাতার অর্থ। এখন থেকে আর এই অর্থপ্রাপ্তির জন্য দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না। সরকারী কোষাগার থেকে ভাতার অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীদের হিসাবে চলে যাবে। কোন অনিয়ম, অব্যবস্থার মুখোমুখি আর হতে হবে না কাউকেই। ‘জিটুপি’ (গবর্নমেন্ট টু পারসন) পদ্ধতিতে ভাতা প্রদানের মাধ্যমে কেবল সরকারী অর্থের অপচয় রোধ শুধু নয়, প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতরাও যথাসময়ে পেয়ে যাবেন ভাতার বরাদ্দকৃত অর্থ। এ এক মহাসুসংবাদ বৈকি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচীর আওতায় ভাতা সরাসরি পৌঁছতে সাতটি উপজেলায় ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক একটি ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মাতৃত্বকালীন ভাতা বিকাশের মাধ্যমে প্রদান শুরু করা হয়েছে। যে কোন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতার অর্থ পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে তৃতীয় পক্ষের এখানে কোন খবরদারির সুযোগ আর নেই। ফলে অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। রূপকল্প-২০২১ অনুযায়ী দেশকে পুরোপুরি দারিদ্র্যমুক্ত করার লক্ষ্যে গৃহীত এই প্রকল্প। দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার জন্য দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থানে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তাই সমাজের পিছিয়ে পড়া লোকদের মূল ¯্রােতধারায় আনতে ২৩ মন্ত্রণালয়ের ১৩৬ কর্মসূচীর মাধ্যমে চলতি বছরের বাজেটে প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে, যা মোট বাজেটের প্রায় ১৩ শতাংশ। এই অর্থ সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। ফলে কর্মসূচীর লক্ষ্য পূরণ করা যাচ্ছে না। ফলে পুরো প্রকল্পটিকে ‘অটোমেশান’ করা হয়েছে। এই পদ্ধতির কারণে বেঁচে যাওয়া অর্থ দিয়ে আরও ৩০ শতাংশ মানুষ সুবিধাভোগীর আওতায় আসতে পারবেন। দেশকে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাস করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী। ইতোপূর্বে সুবিধাবঞ্চিতদের উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র তৈরি করেছে সরকার। কৌশলপত্র অনুযায়ী বয়স্ক, বিধবা, দুস্থ নারী, দুগ্ধ দানকারী দরিদ্র মা, অসচ্ছল, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধা, হিজড়া, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এই সুবিধাভোগী। একই সঙ্গে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীরাও এই সুবিধার আওতাধীন। প্রকৃত অর্থে অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ মানুষের জন্য সামান্য আর্থিক সহযোগিতার যে ব্যবস্থা সরকার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারও কারও দুর্নীতির কারণে প্রকৃত দুস্থরা সেই সহযোগিতা হতে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা কম নয়। জনমুখী উদ্যোগগুলো অসাধু চক্রের কারণে অসফল হওয়ার ক্ষেত্রগুলো তাই উপড়ে ফেলা হচ্ছে। বৃদ্ধ, অসুস্থ, গর্ভবতী মা, প্রতিবন্ধী, শিশুসহ মায়েদের দূরে গিয়ে ভাতা গ্রহণ কষ্টদায়ক বৈকি। বর্তমানে প্রায় ৭০ লাখ উপকারভোগীকে সরকারের কাছ থেকে সরাসরি নির্ধারিত অঙ্কের আর্থিক সুবিধা দেয়া হচ্ছে। আসন্ন বাজেটে এই সংখ্যা আরও বাড়ছে। ২০২১ সালের মধ্যে এই সংখ্যা এক কোটিতে দাঁড়াবে। সরকারের লক্ষ্য, বেশি সংখ্যক মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা। দারিদ্র্য বিমোচনে যা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী তথা বেদে সম্প্রদায় ও তাদের ছেলেমেয়েদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি, হিজড়া জনগোষ্ঠী ও চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নেও সরকার বিভিন্ন অঙ্কের মাসিক ভাতা দিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে আওয়ামী লীগ সরকার প্রথমবারের মতো ১৯৯৬-৯৭ সালে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী চালু করেছিল। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করে দেয়। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা আবার সরকার গঠনের পর এই কর্মসূচী চালু এবং প্রসার ঘটানো হয়। সরকারী চাকরিজীবীর মতো বৈশাখী ভাতাও পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা। এর পরিমাণ হবে মাসিক দশ হাজার টাকার কুড়ি শতাংশ। আসন্ন বাজেটে ভাতার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়া এ কর্মসূচী সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা আমাদেরও।