২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বৈধভাবে সোনা আমদানি

বিদেশ থেকে বৈধভাবে সোনা আনতে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮’ অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি। নীতিমালার আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলাররা স্বর্ণ আমদানি করতে পারবেন। ওপেন সিক্রেট হলোÑ দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের বেশির ভাগই চোরাচালানের মাধ্যমে এতকাল দেশে স্বর্ণ আনতেন। আশা করা যায় এই অনৈতিক চর্চা এখন বন্ধ হবে। এখন থেকে নির্ধারিত শুল্কায়নের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা সম্পূর্ণ বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানির সুযোগ পাবেন। ফলে স্বর্ণ চোরাচালানিও কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা যায়।

শুল্ক গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথিপত্র থেকে দেখা গেছে, পাঁচ বছরে (আগস্ট ২০১২ থেকে আগস্ট ২০১৭) দুই টন চোরাই সোনা জব্দ করা হয়েছে। এর বাজারমূল্য প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। পাঁচ বছরে সোনা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিদেশীও রয়েছেন। সোনা চোরাচালান থামছেই না। প্রায় প্রতিদিনই পাচার হয়ে আসা সোনা ধরা পড়ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে। কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছেন, যত সোনা ধরা পড়ছে, তার কয়েক গুণ বেশি সোনা পাচার হয়ে যাচ্ছে। তবে পাচার আগের চেয়ে কমলেও তা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের দেশের বাস্তবতা তুলে ধরতে গিয়ে জানান, ‘এখন আমরা স্বর্ণ আমদানি করব। এতদিন তো আমদানি হতো না, সব স্মাগলিং চোরাকারবারি হতো। কোনদিন স্বর্ণ এ দেশে আমদানি হয়নি।’

ঈদ মৌসুমে দেশের স্বর্ণ বাজার চাঙা হয়ে ওঠে। সেইসঙ্গে শীত মৌসুমে দেশে বহুল পরিমাণে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়ে থাকে। ওই মৌসুমেও স্বর্ণালঙ্কারের চাহিদা তৈরি হয়। স্বর্ণ আমদানি নীতিমালাটি অধিকতর স্পর্শকাতর হওয়ায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শীঘ্রই এটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, আমদানির নীতিমালা না থাকায় এতদিন বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বৈধ উপায়ে সোনা আমদানির সুযোগ ছিল না। কিন্তু শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে প্রচুর সোনা ঠিকই দেশে এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চোরাচালানে আটক সোনা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়ার পর নিলামে বিক্রির বিধান থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে নিলাম না করায় বৈধ উৎস থেকে সোনা কেনার সুযোগ সীমিত বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা।

স্মরণযোগ্য যে, সংসদে চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্বর্ণ আমদানি ও জুয়েলারি শিল্পের জন্য একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করার কথা জানিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, জুয়েলারি আবহমান বাংলার একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। বাংলাদেশে জুয়েলারি শিল্পের উজ্জ্বল ভবিষ্যত থাকলেও প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তার অভাবে এ পর্যন্ত এই শিল্পের তেমন বিকাশ হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী স্বর্ণের বার আমদানি করার নিমিত্ত অনুমোদিত ডিলারকে আবশ্যিকভাবে আমদানি নীতি আদেশ এবং কাস্টমস এ্যাক্টের বিধানাবলী অনুসরণপূর্বক বন্ড লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। স্বর্ণালঙ্কার রফতানির উদ্দেশ্যে আমদানি করা স্বর্ণের ক্ষেত্রে ডিউটি ড্র-ব্যাক ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা দেয়া হবে।

আমাদের সমাজে সোনার তৈরি অলঙ্কারের বহুল কার্যকারিতা রয়েছে। নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুষও কেবল বিয়েতেই নয়, পারিবারিক নানা অনুষ্ঠানে সোনার তৈরি অলঙ্কার দিতে কিংবা পেতে পছন্দ করেন। নীতিমালার কারণে বৈধ উপায়ে আগামীতে সোনা আমদানি করা হলে দেশের বাজারে সোনার দাম কমে আসবে বলে গ্রাহকরা প্রত্যাশা করেন।