২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগে ঢাকা হয়ে ফরিদপুর পর্যন্ত ৫ জেলা যুক্ত হবে

  • সংসদে রেলমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার ॥ স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে রেলপথ সংযুক্ত হওয়ায় গোটা জাতি উল্লসিত। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা হতে পদ্মা হয়ে ফরিদপুর অংশে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর ও ফরিদপুর জেলায় সংযোগ হবে।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক এ তথ্য জানান।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সালমা ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি সেবামূলক সংস্থা। দেশের আপামর জনসাধারণকে স্বল্পখরচে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য পরিবহন সেবা প্রদানের উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, বিএনপির আমলে দীর্ঘদিন রেলওয়ে খাতে সরকারী বিনিয়োগ না হওয়ায় রেলওয়ে একটি দুর্বল সংস্থায় পরিণত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর হতে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দুই মেয়াদে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ঢেলে সাজাতে এবং একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার লক্ষ্যে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। দেশের সকল জেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনয়ন এবং রেলওয়েকে জনগণের কাছে নির্ভরযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

মন্ত্রী জানান, রেলওয়েকে ঢেলে সাজাতে সরকার ২০ বছর মেয়াদী একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সারাদেশেই ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের ৩২১ কিলোমিটারের মধ্যে ২৪৯ কিলোমিটার রেলপথে ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ায় ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মন্ত্রী মুজিবুল হক জানান, যমুনার ওপর বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে ডুয়েলগেজ ডাবল ট্রাক সম্পন্ন ’বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিটেইল্ড ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অচিরেই রেল সেতু নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে।

মন্ত্রী জানান, পায়রা সমুদ্র বন্দরকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যে ভাঙ্গা হতে বরিশাল হয়ে পায়রা সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার নিমিত্ত একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিবেদন অনুযায়ী রেললাইন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করা হবে।