২২ জুন ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশে বেকারের সংখ্যা ২০ লাখ ৭০ হাজার ॥ পরিকল্পনামন্ত্রী

দেশে বেকারের সংখ্যা ২০ লাখ ৭০ হাজার ॥ পরিকল্পনামন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার ॥ লেবার ফোর্স সার্ভে ২০১০-১৭ অনুযায়ী দেশে কর্মে নিয়োজিত লোকের সংখ্যা ৬০ দশমিক ৮ মিলিয়ন এবং বেকারের সংখ্যা ২ দশমিক ৭ মিলিয়ন। জনশক্তির বাইরে অবস্থান করছেন অর্থাৎ যারা কোন অর্থনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত নন, তাদের সংখ্যা ৪৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানান পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সংসদে দেওয়া মন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী, দেশে ১ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত জনগণের সংখ্যা ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ, ১৫ থেকে ৬৪ বছর পর্যন্ত সংখ্যা ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ৬৫ উর্ধ্ব জনসংখ্যা রয়েছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। আর বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী লোকের সংখ্যার হার দশমিক ৯০ শতাংশ এবং এর মধ্যে পুরুষ দশমিক ৯৮ শতাংশ ও নারী দশমিক ৮৩ শতাংশ। মন্ত্রী জানান, কর্মে অক্ষম সংখ্যা বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো নির্ণয় করে না।

সরকারি দলের অপর সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের মানুষের মাথা পিছু গড় আয় (২০১৭-১৮) এক হাজার ৭৫২ মার্কিন ডলার (প্রাক্কলিত)। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জাতীয় পর্যায়ে মাথা পিছু আয় নির্ণয় করে থাকে। তবে এখন পর্যন্ত জেলা পর্যায়ে মাথা পিছু গড় আয় নির্ণয় করা হয়নি।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম মাহজাবীন মোরশেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশ হতে শতভাগ দারিদ্র্য দূরীকরণ, সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিতকরণসহ নি¤œ আয়ের জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ত্বরান্বিত হারে দারিদ্র্য বিমোচন। রাষ্ট্র ও সমাজের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রগতি। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০১৭ সালে হ্রাস পেয়ে ২২ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, বেকারত্ব দূরীকরণে উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের অদক্ষ জনগোষ্ঠীকে আদাদক্ষ এবং দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তরের নানামুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের নেয়া কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও পূর্তকাজকে গতিশীল করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার সারা দেশে সড়ক নেটওয়ার্কের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। গ্রাম-উপজেলা-জেলাসহ সব ক্ষেত্রে সড়ক অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নতি হওয়ায় এর সুফল পাচ্ছে সাধারণ জনগণ। এখন গ্রামের সাধারণ কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য খুব সহজে শহরে আনতে পারছে। এসব কারণে বাংলাদেশে অতি দরিদ্র্য অনেকটাই কমে গেছে। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও এসব কর্মসূচি ভূমিকা রাখছে। শ্রমের প্রকৃত মুজুরি অভাবিতপূর্বভাবে বেড়েছে। এক দিনের মুজুরি দিয়ে কৃষি শ্রমিক ৯-১০ কেজি চাল ক্রয় করতে পারছে।

নির্বাচিত সংবাদ