১৯ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ৩৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত’

‘দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ৩৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ করা না গেলে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী পরিবহনে নিম্ন আয়ের লোকজনের যাতায়াত ঠেকানো যাবেনা বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সোমবার আসন্ন ঈদযাত্রায় রাজধানীসহ সারাদেশে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় মনিটরিং কর্মসুচীতে অংশগ্রহনকারী সেচ্ছাসেবক ও গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটির সদস্যদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সংগঠনের নেতা কর্মীরা।

সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এবারের ঈদে সব পথে প্রায় ৫ কোটি যাত্রীর ১৫ কোটি ট্রিপ স্বল্প সময়ে বহনে গণপরিবহন ব্যবস্থা অথবা রাস্তা কোনটির সক্ষমতা আমাদের নেই। এছাড়াও সারাদেশে ৩ লক্ষাধিক যানবাহন ফিটনেস বিহীন, ১০ লক্ষ নছিমন-করিমন, ইজিবাইক সড়ক মহাসড়ক ধাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

গণপরিবহন সংকটের কারণে ও কম ভাড়ার আশায় নিম্ন আয়ের লোকজন ফিটনেসবিহীন এইসব যানবাহন, পণ্যবাহী যানবাহন, বাস ট্রেন ও লঞ্চের ছাদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে থাকে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিআরটিএর মনিটরিং কমিটি গঠন করা হলেও ঈদযাত্রার যাত্রী সাধারণের বাস ও লঞ্চের টিকিট দ্বিগুন কোন কোন ক্ষেত্রে তিনগুন দামে কিনতে হচ্ছে।

সারাদেশের সড়ক রেল ও নৌ-পথের যাত্রীসেবা পরিস্থিতি নিয়ে সেচ্ছাসেবকরা সভায় বিস্তারিত তুলে ধরেন। এতে ভাংগা ছেড়া সড়ক-মহাসড়ক, দীর্ঘ যানজট, নৌ-পথে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, রেল পথের টিকিট কালোবাজারী, সড়ক ও নৌ পথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়াও ঈদযাত্রায় অনান্য বারের মতো এবারো সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এতে আলোচনা করেন, সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সমন্ময়ক মো. সামসুদ্দীন চৌধুরী, লায়ন মাহমুদুল হাসান রাসেল, তৌহিদুল ইসলাম, সেচ্চাসেবক উপ-কমিটির আহব্বায়ক আজহারুল আলম জিকু, জিয়াউল হক চৌধুরী, মিলাদ উদ্দিন মুন্না, আজিজুল হক চৌধুরী, মহিউদ্দিন আহম্মেদ, মো. শাহিন প্রমুখ।

সভায় উপ-কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর ঈদ আনন্দযাত্রায় দেশের যাত্রী সাধারণ অবর্ণনীয় দূর্ভোগ, ভোগান্তি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে নৈরাজ্যের শিকার হয়। বিগত ঈদুল ফিতরে অনেকটা লম্বা ছুটি থাকায় এবং রাস্তাঘাটের অবস্থা অনেকটা উন্নত হওয়ায় কিছুটা স্বস্থিতে যাতায়াতের সুযোগ পেলেও এবারের ঈদযাত্রায় ভোগান্তি ও নৈরাজ্য বেড়েছে। ইতিমধ্যে দেশের সবকটি সড়ক-মহাসড়কে যানজটে নাকাল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

মূলত দেশে ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায়, ব্যক্তিগত পরিবহন ও ছোট পরিবহণ বিশেষ করে রিক্সা, অটোরিক্সা, ব্যাটারী চালিত রিক্সা, নছিমন-করিমন, হিউম্যান হলার, পিকআপভ্যানের সংখ্যা দ্রুত গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক-মহাসড়কে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এক সমীক্ষা তুলে ধরে বলেন, দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ৩৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্থ, অন্যদিকে নৌ-পথে ভরা বর্ষা মৌসুমের কারনে বয়া-বাতি-মার্কিং চিহ্ন অনেক পথে মুছে গেছে, এখানে চর ডুবোচর একাকার হয়ে গেছে, এমতাবস্থায় নৌ-পথে অতিরিক্ত যাত্রী বহন কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

অন্যদিকে রেল পথে প্রায় ১০০ কিলোমিটার রেলপথ ক্ষতিগ্রস্থ, ৯৮টি রেল সেতু ক্ষতিগ্রস্থ রয়েছে। এই সব পথগুলো ভোগান্তির নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আলোচনায় উঠে আসে। এছাড়াও পাঠুরিয়া-দৌলতদিয়া ও শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ী নৌ-রুটের ফেরী সার্ভিসসহ সার্ভিসরোড সমূহে দ্রুত গাড়ি পাসিং এর উদ্যোগ না নিলে এই সব পথে যাত্রী সাধারণ অবর্ণনীয় দুভোর্গে পড়বে বলে অভিযোগ করেন। এছাড়াও সড়ক-মহাসড়কে প্রতি ইঞ্চি বেদখল মুক্ত করা, জাতীয় মহাসড়কে এখন থেকে অটোরিকশা, ব্যটারি চালিত রিকশা, নছিমন-করিমন ও মোটর সাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করার দাবী জানানো হয়।