২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নারী-টাইগারদের এশিয়া জয়

আফগানিস্তানের মতো দলের সঙ্গে টি-২০ ক্রিকেটে আমাদের টাইগাররা যখন হোয়াইট ওয়াশ হয়ে দেশবাসীকে হতাশায় ডুবিয়ে দিয়েছিল, ঠিক সে সময়ে নারী ক্রিকেটাররা প্রথমবারের মতো কোন আন্তর্জাতিক ট্রফি দেশবাসীকে উপহার দিয়ে ঈদের আনন্দই যেন বাড়িয়ে দিল। ফাইনালে তারা ভারতের মতো শক্তিশালী টিমকে হারিয়েছে। এতে মানুষের খুশি যেন আরও বেড়ে গেল।

কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছে সালমারা। নারীদের টি-২০ এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে ঐতিহাসিক শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ প্রমীলা ক্রিকেট দল। প্রথমে ফিল্ডিং করে ভারতকে ১১২ রানের মধ্যে বেঁধে ফেলতে সমর্থ হওয়ায় ঐতিহাসিক জয়ের হাতছানি শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছিল। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের অগ্রযাত্রা খুব বেশি দিনের নয়। ২০১১ সালে তারা ওয়ান ডে স্ট্যাটাস লাভ করে। সেখানে তারা অল্প সময়ের মধ্যে যে সাফল্য অর্জন করে চলেছে তা প্রশংসাযোগ্য।

দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীরা যথানিয়মে অবদান রেখে চলেছে। এখন পুরুষ আর নারীর জন্য আলাদা আলাদা খেলা বলে কিছু আর নেই। কী ক্রিকেট, কী ফুটবল, কী অন্যান্য খেলা- সর্বত্রই নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় নৌকাবাইচও নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয় সংযোজন। নারীর কর্মপরিধি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। যে সমাজ এক সময়ে নারীকে পিছনে ঠেলে রাখত এখন সেই সমাজে নারী তার নিজেরই ক্ষমতাবলে সর্বস্তরে স্থান করে নিচ্ছে। সকল পেশায়ই নারীর অংশগ্রহণ ঘটছে। নারীর ক্ষমতায়নের পথে তার অগ্রযাত্রা এখন শুধু দেশবাসীরই নয়, বিশ্ববাসীরও বিস্ময়। রাজধানীর যানবাহনে ভারাক্রান্ত ব্যস্ত সড়কে নীল পোশাক পরিহিত সপ্রতিভ নারী সার্জেন্ট লাল মোটরসাইকেল নিয়ে ছুটছেন- এমন দৃশ্য চাক্ষুষ করা এখন আর কল্পনা নয়।

ছয়বারের শিরোপা জয়ী ভারতকে তিন উইকেটে হারানোর মধ্য দিয়ে নারী ক্রিকেটাররা দেখিয়ে দিয়েছে দলগত খেলা ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের সর্বোচ্চটুকু ঢেলে দিলে যে কাউকে হারানো অসম্ভব নয়। নারী ক্রিকেট দলের সাফল্যের হাত ধরে জীবনের সব ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পাবে- এটিই প্রত্যাশা।

স্মরণযোগ্য, সেই ১৯৯৭ সালে এই মালয়েশিয়ারই কুয়ালালামপুরে আইসিসি কাপ জয়ের মাধ্যমে আকরাম খানের দল বাংলাদেশকে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় একে একে অনেক সাফল্য ধরা দিয়েছে। বাংলাদেশ একসময় অর্জন করেছে টেস্ট স্ট্যাটাস। খেলেছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। কিন্তু এতকিছুর পরও তিন বা এর বেশি দল অংশগ্রহণ করেছে এমন কোন টুর্নামেন্ট জিততে পারেনি। দুবার এশিয়া কাপের ফাইনালে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও সাকিব-মুশফিক-তামিম-মাশরাফির দল সাফল্যের মুখ দেখেনি। সেখানে প্রথমবারের মতো নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে এবং সেই ফাইনালে আবার দুর্দান্তভাবে জয়লাভ করে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক হিরন্ময় অধ্যায়ের জন্ম দিল সালমা-রুমানা-নিগারদের দল।

দেশে বরাবরই খেলাধুলায় মেয়েরা সফলতা দেখিয়ে আসছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো ও যথাযথ পরিচর্যা এখন সময়ের দাবি। নারী ক্রিকেট দল আগামীতে জাতির জন্য আরও বড় সুসংবাদ বয়ে আনুক- এটাই প্রত্যাশা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নারী টাইগারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমরা তাদের জানাই অশেষ শুভকামনা ও অভিবাদন।