১৭ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাদুল্যাপুরে ঈদের ভিজিএফ’র চাল কালোবাজারে বিক্রয়

সাদুল্যাপুরে ঈদের ভিজিএফ’র চাল কালোবাজারে বিক্রয়

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা ॥ সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত ভিজিএফ এর চাল থেকে ১৭৬ বস্তা কালোবাজারে বিক্রয় করে দেয়া বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) সঞ্জয় কুমার মহন্ত অভিযান চালিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী আজাদুল ইসলাম এর বাড়ির ৪টি ঘর থেকে ওই চাল উদ্ধার করেন।

সাদুল্যাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, ঈদ উপলক্ষে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ধাপেরহাট ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত চাল থেকে ৫০ কেজি ওজনের ১৭৬ বস্তা স্থানীয় ব্যবসায়ী আজাদুল ইসলামের বাড়ি থেকে জব্দ করা হয়। এসময় আজাদুল ইসলাম পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় সাদুল্যাপুর থানায় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী আজাদুল ইসলামসহ কয়েকজনের নামে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মনির জানান, ঈদ উপলক্ষে ধাপেরহাট ইউনিয়নে দুঃস্থ পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণের জন্য ৩৭ দশমিক ৮৫০ মে. টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। এই চাল ১০ কেজি করে ৩ হাজার ৭শ’ ৮৫ পরিবারে মধ্যে বিতরণ করার কথা। মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সুবিধাভোগীদের মধ্যে এ চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের সংশি¬ষ্ট চেয়ারম্যান ও মেম্বরসহ এক শ্রেণির দালাল সমুদয় চাল সুষ্ঠভাবে বিতরণ না করে তিন-চতুর্থাংশ কালোবাজারে বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ওই চাল উদ্ধার করে।

ধাপেরহাট ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য লাইলি বেগম বলেন, দুই তিনটি ওয়ার্ডের সুবিধাভোগীরা চাল পেলেও তাদের ওজনে কম দেয়া হয়। এছাড়া সুবিধাভোগীদের নামে স্লিপ তৈরী করে সেই স্লিপ ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন মেম্বার। এতে বাধা দিলে তাকে লাঞ্ছিত করেন চেয়ারম্যানের লোকজন। এ ঘটনা জানাজানি হলে পরিষদ চত্বরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সুষ্ঠভাবেই পরিষদে সুবিধাভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চাল উত্তোলনের পর ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে সুবিধাভোগীরা। সেই চাল প্রশাসন উদ্ধার করেছে। এখানে চাল বিক্রি বা উদ্ধারের সাথে পরিষদের কেউ জড়িত নয়। মুলত এটি আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও প্রতিপক্ষের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।