১৭ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাশ্মীর সীমান্তে পাক সেনাদের গুলিতে কর্মকর্তাসহ ৪ বিএসএফ নিহত

  • যুদ্ধবিরতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ

জম্মু ও কাশ্মিরের সাম্বা জেলায় আর্ন্তজাতিক সীমানা (আইবি) বরাবর কোন রকম উস্কানি ছাড়াই অতর্কিত গুলি চালিয়ে এক অফিসারসহ ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (বিএসএফ) অন্তত ৪ সদস্যকে হত্যা করেছে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সদস্যরা। এঘটনায় আরও ৩ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার বিএসএফের এক সিনিয়র কর্মকর্তা এ কথা জানান। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

বিএসএফের আইজি রাম অবতার বলেন, ‘পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সদস্যরা মঙ্গলবার রাতে রামগড় সেক্টরের আইবি সীমান্ত অতিক্রম করে গুলি বর্ষণ করেছে। এঘটনায় একজন সহকারী কমান্ডেন্ট অফিসারসহ ৪ সদস্যকে আমরা হারিয়েছি।’ তিনি জানান, পাকিস্তান রেঞ্জার্স ও বিএসএফ সম্প্রতি আইবি এলাকায় যুদ্ধবিরতি করতে সম্মত হয়। এক টুইটার বার্তায় জম্মু ও কাশ্মিরে পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজিপি) এ হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আইবি’র রামগড় জম্মু সেক্টরে গোলাগুলিতে বিএসএফের ৪ সদস্য নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ‘যারা তাদের প্রিয় ব্যক্তিদের হারিয়েছেন, আমরা তাদের দুঃখে সমব্যাথী।’ এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্তকর্তা জানান, রামগড় সেক্টরের চেমেলিয়াল পোস্ট এলাকায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে গোলাগুলি শুরু হয়ে বুধবার ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এক টানা চলে। তিনি জানান, এ হামলায় বিএসএফের কোন সদস্য নিহত হয়েছে কিনা এটি এখনও স্পষ্ট নয়। ওই কর্মকর্তা জানান, এসময় বিএসএফের সদস্যরাও পাল্টা হামলা চালায়। চলতি মাসে ওই এলাকায় এখন দ্বিতীয় বারের মত যুদ্ধবিরতি চলছে। গত ৩ জুন কানাচক ও খের সেক্টরের প্রাগওয়ালের আইবি এলাকায় পাক রেঞ্জার্সের হামলায় এক সহকারী সাব-ইনেসপেক্টরসহ বিএসএফের ২ সদস্য নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হয়; আহতদের মধ্যে অধিকাংশই বেসামরিক লোক। এদিকে চলতি বছর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই পাকিস্তানী বাহিনীর হামলায় আইবি ও লাইন অব কন্ট্রোল (এলওসি) এলাকায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ২৪ সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন নিহত হয়ছে। গত ২৯ মে ভারত ও পাকিস্তানের ডিজিএমও’রা এক বৈঠকে ২০০৩ সালের ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মির সীমান্তে ‘পুরোপুরি যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন’ করতে সম্মত হয়। গত মাসে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আইবি’য়ের জম্মু, কাঠুয়া ও সাম্বা জেলা থেকে কয়েক হাজার লোক তাদের বাড়িঘর ফেলে অন্যত্র স্তানে চলে যায়।