১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শুধু হাওয়া খেয়ে বেঁচে আছেন!

ভারতের গুজরাট রাজ্যের চারাদা গ্রামের প্রহ্লাদ জানী দাবি করেছেন, সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কিছু না খেয়ে বেঁচে রয়েছেন। শুধুমাত্র নিয়মিত যোগাসন করেন। তাতেই তিনি সুস্থ রয়েছেন। এভাবেই জীবনের ৪৪ বছর পার করে দিয়েছেন।- খবর এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টিভি নিউজের।

পরনে লাল কাপড়, কপালে লাল টিপ, মুখভর্তি দাড়িগোঁফ, জাঙ্ক জুয়েলারিও পরেন তিনি। দেশ-বিদেশে রয়েছে তার অসংখ্য ভক্ত। যে কোন সমস্যায় পড়লে পাওয়াহারি সমাধান করে দেন। পাওহারি অর্থ পবন-আহারি, অর্থাৎ যিনি পবন বা হাওয়া খেয়েই বেঁচে থাকেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি ঠিক করেছিলেন জীবনটা অন্যরকমভাবে কাটাবেন। তখনই শুরু হয় যোগাসন ও বায়ুসাধনা। চিকিৎসা বা জীববিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত একটা বড় অংশই এভাবে হাওয়া খেয়ে বেঁচে থাকার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হেনরিফোর্ড ইউনিভার্সিটির মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পারিজাত সেন বলেন, এটা একেবারে ভাওতাবাজি। বাঁচতে গেলে সামান্য কিছু হলেও খেতে হবে। শরীরের সিস্টেম কিছুদিন পরই আর সাপোর্ট করবে না। এই পাওহারি বাবা-টাবা ফে গল্প।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের শারীরতত্ত্ব (এ্যানাটমি) বিভাগের স্পেশালিস্ট মেডিক্যাল অফিসার চিরঞ্জিত সামন্তর কথায়, এই ধরনের ঘটনার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে ফরেনসিক মেডিসিনে সাসপেনডেড এ্যানিমেশন বলে একটা শব্দ রয়েছে। কোন মানুষের মৌল বিপাক ক্রিয়া অর্থাৎ বিএমআর-এর হার খুব কমিয়ে রেখে একেবারে আলো বাতাসহীন কোন জায়গায় থাকলে তিনি বেঁচে থাকতে পারেন কী না এ নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু ৭০ বছর ধরে না খেয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব।

প্রহ্লাদ জানীর প্রসঙ্গে শ্রীরামপুরের ওয়ালশ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বিয়াস সামন্ত বলেন, যোগী সাধু একেবারেই কিছু খান না হতেই পারে না। এসব একেবারে ভুল। বেঁচে থাকতে গেলে তো এনার্জি সোর্স চাই। সাসপেনডেড এ্যানিমেশনেও এটি অসম্ভব।