১৯ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এখানে আকাশ নীল

  • রেজাউল করিম খোকন

সন্ধ্যা- এ যেন দিন ও রাত্রির সংযোগ শুধু নয় : মহাবিশ্ব ও প্রাণ প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক চেতনা সঞ্চারি অনন্য ক্ষণ এই লগ্ন। তেমনি জীবন বাস্তবতায় নিয়ম ও অভ্যাসের বৈচিত্র সৃষ্টি করে যুগের যুগ সঙ্গী হয়ে আছে সন্ধ্যা। এ এক অবধারিত আলো আঁধারি, যা মানব মনেও রহস্যময় প্রভাব রাখে, ধীর মগ্ন সন্ধ্যায় জীবনের নানা হিসেব নিকেশ ও সামনে এসে দাঁড়ায়। সন্ধ্যায় পাখিরা নীড়ে ফিরে যায়। কর্মক্লান্ত মানুষ সারাদিনের ব্যস্ততা শেষ করে ঘরে ফিরে, আপনজনের সান্নিধ্যের উষ্ণতায় সারাদিনে ক্লান্তি হতাশা, গ্লানি, দুঃখবোধ ভুলতে চেষ্টা করে।

সুজিত দাশ এর বয়স পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই করছে। মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। গাট্টা গোট্টা শরীর। অনেক পরিশ্রম করে সারাটা দিন। নদী-নালা, খাল-বিলে চষে বেড়ায় জাল নিয়ে। মাছ খুব একটা পাওয়া যায় না। রাখাইনের রাশিদং এলাকার চার পাঁচটি গ্রাম চানঙ্গনা, জোপালং, ফিদং এবং পালিপাড়া জুড়ে তার আনাগোনা। পালিপাড়ায় নিজ বাড়িতে ফেরার আগে নদী, খাল, বিল থেকে ধরা মাছ বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হয়।

মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে চাল ডাল তরকারি কিনে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে সুজিত। কোন দিন মাছ ধরতে না পারলে বাড়িতে বুড়ো মা, বউ, ছেলেমেয়ে সবাইকে না খেয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় মাছ ধরে বেশ ভাল আয় হয়, আবার কোন দিন খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। তখন খুব কষ্ট হয় খালি হাতে সন্ধ্যায় পরিবারের সবার সামনে দাঁড়াতে। সবাই আশা করে বসে থাকে। তার জন্য অপেক্ষা করে, কখন বাড়ি ফিরবে মানুষটি। তার হাতে বাজার, সওদাপাতি দেখে অপেক্ষমাণ পরিবারের অন্য সবার শুকনো মুখগুলো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, অনেক উচ্ছ্বাস আনন্দ ঝিলিক দেয় সেখানে। বাড়ির উঠোনে ছোটখাটো উৎসব শুরু হয়ে যায় তখন। চারদিকে সন্ধ্যের ম্লান আলো ছড়িয়ে থাকলেও পালিপাড়ায় সুজিতের বাড়িতে আলো আঁধারিতে অদ্ভুত আনন্দের ঝিলিক দেখা যায়।

আজও সুজিতের জন্য তেমনি এক উৎসবের দিন। কারণ আজ পাশের নদী থেকে বড় একটি কোরাল মাছ ধরেছে সে তার জাল দিয়ে। সাগরের কোরাল মাছের চেয়ে নদীর কোরালের স্বাদ অনেক বেশি। বাজারে সবাই নদীর কোরাল চায়। বেশ চাহিদা থাকায় আজ মাছের ভাল দাম হাঁকতে পেরেছিল সুজিত।

কোরাল মাছ বিক্রি করে বেশ ভাল আয় হয়েছে তার। সব সময় ইচ্ছেমতো বাজার থেকে কেনাকাটা করতে পারে না সাধ্যের অভাবে। সব সময় ইচ্ছে করে কত কী কিনতো। কিন্তু সারাদিনে নদী-নালা, খাল-বিলে ছুটোছুটি করে যা মাছ ধরতে পারে তা বিক্রি করে যা টাকা পয়সা পাওয়া যায় তা দিয়ে বাড়ির সবার জন্য চাল, ডাল, লবণ, মসলা কেনারও সামর্থ হয় না। সাধ থাকলেও তা পূরণের সাধ্য থাকে না বেশিরভাগ সময়। আজ অনেকদিন পর মাছ বিক্রি করে অনেকগুলো টাকা পেয়েছে সুজিত। অনেক আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরে আছে মনটা তার। আজ নিজের সাধ অনুযায়ী বাজার ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন জিনিস কিনেছে সে বাড়ির সবার জন্য।

বাজার থেকে ফিরে চাল ডাল সওদাপাতিগুলো বউয়ে হাতে তুলে দেয়। তারপর ঘরের দাওয়ায় বসে মা এবং ছেলে মেয়েদের ডাকে। সবাইকে এক নজর দেখতে চায় সে প্রতি সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেই। এটা তার রোজকার অভ্যেস। গোটা দিন ধরে আশপাশের খাল-বিল, নদী-নালা চষে সাঁঝবেলাতে বাড়ি ফিরে প্রিয়জনদের মুখগুলো একনজর দেখতে দেখতে সারা দিনের সব ক্লান্তি ভুলে যায় সুজিত।

তারপর পুকুরঘাটে গিয়ে গা গতর ধুয়ে পরিষ্কার করে, স্নান সারে। তারপর গোল হয়ে সবাই মিলে বাড়ির উঠোনে বসে।

অদূরে সুজিতের মা রমলা রুটি সেঁকছে। চুলোর আগুনে তার মুখটা দেখা যায় উঠোনে বসে।

রুটি সেঁকায় ব্যস্ত মাকে দেখে সুজিতের মনটা অন্যরকম অনুভূতিতে ভরে যায়। এই মুহূর্তে মাকে স্বর্গ থেকে আসা দেবীর মতো মনে হয়।

গত বছর মায়ের কঠিন অসুখ করেছিল। তাকে আর বাঁচানো যাবে না বলেছিল স্থানীয় ডাক্তার-কবিরাজরা। রাশিদং এলাকায় চিকিৎসার তেমন সুযোগ নেই। এখানে তেমন কোন হাসপাতাল নেই। রোহিঙ্গা হিন্দু কিংবা মুসলিম-সবাই সরকারী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। মংডু কিংবা বুচিডং-এ কয়েকজন ভাল ডাক্তার থাকলেও অসুস্থ মাকে সেখানে নিয়ে যাবার সুযোগ ছিল না। কেউ কেউ সীমান্তের ওপারে টেকনাফের নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজার কিংবা চট্টগ্রাম নিয়ে যাবার পরামর্শও দিয়েছিল। বাংলাদেশে সুজিতদের অনেক আত্মীয়স্বজন রয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, তারা ওর মাকে নিয়ে বাংলাদেশে যেতে বলেছিল। কিন্তু মায়ের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটায় বাংলাদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার চিন্তাভাবনা বাদ দিয়েছিল।

গ্রাম্য কবিরাজের চিকিৎসায় অবিশ্বাস্যভাবে সুস্থ হয়ে উঠছিল মা। মায়ের অসুস্থতা সুজিতকে বড় বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। বেশ ভেঙ্গে পড়েছিল সে। বিনা চিকিৎসায় মা যদি মরে যায় তাহলে কী হবে ভাবতে গিয়ে অস্থির হয়ে উঠেছিল মা অন্ত প্রাণ মানুষটি।

বাবার মৃত্যুর পর সংসারে মায়ের অবদান কোনভাবেই অস্বীকার করতে পারবে না সুজিত। কিশোর বয়সী দুই ছেলেকে রেখে বাবা মারা গেলে মা-ই সংসারের হাল ধরেছিল।

রমলা বাড়ি বাড়ি ঘুরে মাছ বিক্রি করে সংসার চালিয়েছে। কিছু হাঁস মুরগি ছিল ঘরে। সেগুলোর ডিম বিক্রি করেও দু’চার পয়সা আসত। সব কিছু জোড়াতালি দিয়ে মা কীভাবে যে সংসারটা চালাত আজও ভেবে কুলপায় না সুজিত। বড় ভাই অজিত একটু বড় হতেই তাকে নিয়ে আশা ভরসা ছিল মায়ের। কিন্তু একবার স্থানীয় জেলে দলের সঙ্গে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে তাদের নৌকা ডুবে যায়। সেই থেকে নিখোঁজ অজিত। সে বেঁচে আছে কী না জানে না কেউ। এর মধ্যে কেটে গেছে অনেকগুলো বছর।

গ্রাম্য কবিরাজের চিকিৎসায় শেষ পর্যন্ত মায়ের সুস্থ হয়ে ওঠাটা ভগবানের অশেষ দয়া বলে মনে করে সুজিত। এখনও মা বেঁচে আছে, সবকিছুই ঠিকঠাক মতো আছে, কোন সমস্যা নেই, এ রকম যেন থাকে সব সময়। সুজিত প্রার্থনা করে ভগবানের কাছে প্রতিদিনই। মায়ের দীর্ঘ জীবন আর সুস্থতা কামনা করে আলাদা ভাবে প্রার্থনা করে।

সেই ভোরে বাড়ি থেকে প্রতিদিনই বেরোতে হয় জীবিকার তাগিদে। সকালে-দুপুরে-বিকেলে মা রমলা, স্ত্রী মিনতি, আর দুই ছেলেমেয়ে মনি-মুক্তার সঙ্গে দেখা হয় না সুজিতের। পরিবারের সবার অন্য যোগাতে সারাদিন তুমুল ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় তাকে।

নদী-খাল-বিলে হুরিজাল আর টাউঙ্গা জাল নিয়ে সারাটা দিন খাদ্য যুদ্ধে লিপ্ত থাকতে হয়। ক্লান্ত দেহ আর আনন্দ বিষাদ ভরা মন নিয়ে সন্ধ্যের সময় বাড়ি ফিরে সে। কোন কোন দিন জালে অনেক মাছ ধরা পড়লেও আবার কোন দিন খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয় তাকে। সে দিনটি তার জন্য সবচেয়ে কষ্টের দিন হয়ে ওঠে।

আজও পরিবারের সবাইকে নিয়ে উঠোনে বসেছে সুজিত। মা সদ্য সেঁকা রুটিতে একদলা গুড় দিয়ে সবার হাতে হাতে তুলে দেয়। গুড় দিয়ে গরম গরম আটার রুটি খেতে অসাধারণ মনে হয় এই মুহূর্তে। সুজিত সারাদিনের ক্ষুধা নিয়ে বাড়ি ফিরে রোজ মায়ের সেঁকা গরম রুটি গুড় মাখিয়ে খেতে খেতে অমৃত স্বাদ অনুভব করে। প্রতিদিনই একই ধরনের খাবার খেতে হয়। তবুও একঘেয়ে মনে হয় না বেশ মজাই লাগে খেতে। প্রচন্ড ক্ষুধায় সব খাবারই অমৃত মনে হয়। এটাই হলো আসল কথা।

আজ বাজারে লোকজনের মধ্যে কেমন এক ধরনের চাপা উত্তেজনা লক্ষ্য করেছে সুজিত। স্থানীয় রাখাইন মগদের আচরণ গতিবিধি ভাল মনে হচ্ছে না। সেনাবাহিনীর লোকজন গাড়ি নিয়ে টহল দিচ্ছে ঘন ঘন। তারা কথায় কথায় মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে।

এখানে বাঙালীদের জায়গা হবে না, হিন্দু মুসলমান সবাইকেই রাখাইন রাজ্য থেকে তাড়ানো হবে, অস্ত্র উঁচিয়ে বলেছে তারা। সুজিত স্থানীয় মগদের কাছে বেশ পরিচিত। কারণ, তার মাছের ক্রেতা তারাও। কয়েকজনের সঙ্গে ভাল সম্পর্কও রয়েছে। কিন্তু বাঙালী হিন্দু বলে সুজিতকেও আকারে ইঙ্গিতে এলাকা ছেড়ে যাবার কথা বলেছে তারা। ‘এনডে তোরা থাকিত না ফারিবি, তোরা বাঙালী, এনডে বাঙালীর কোন জায়গা নাই, বাংলাদেশত যাওন ফরিবো তোরার’, তারা সুজিতকে সরাসরি বলেছে।

বাজারে স্থানীয় লোকজনের অস্থিরতা সুজিতকেও স্পর্শ করেছে। এখানকার আলো হাওয়ায় সে বেড়ে উঠেছে। এই মাটিতে কয়েক পুরুষ ধরে বসবাস তাদের। এখানে মাটির গভীরে নিজের শেকড় যেন প্রোথিত, কোনভাবেই তা উপড়ে ফেলা যাবে না। রাখাইনের রাশিদং এর নদী খাল বিলে চষে বেড়াতে বেড়াতে বড় হয়েছে। ফলে আরও বেশি গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তার সঙ্গে। এই জায়গা ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ভাবতে পারেনা সুজিত। কিন্তু বর্মী সৈন্যদের হুমকি শুনে ভয় ঢুকে গেছে তার মনে।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের রাখাইনে থাকতে দেয়া হবে না, বেশ কিছুদিন ধরে শোনা গেলেও এখন হিন্দুদেরও রাখাইন ছাড়তে হবে, বাঙালী বলে তাদেরকেও বাংলাদেশ চলে যেতে হবে। নতুন করে শোনা যাচ্ছে। বাংলায় কথা বলার কারণেই রোহিঙ্গা মুসলমানদের মতো হিন্দুদেরও বের করে দেয়া হবে মিয়ানমার থেকে। এ রকম অন্যায় সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছে না সুজিত। বাজারেই সে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

কয়েকজন মগ যুবক তার ওপর চড়াও হয়েছিল। পুলিশ ক্যাম্পে তাকে ধরে নিয়ে যেতে উদ্যত হয়েছিল। তবে পরিচিত কয়েকজন গণ্যমান্য মানুষ ওখানে এসে পড়ায় এ যাত্রা বেঁচে যায় সুজিত।

নদী থেকে ধরে আনা মাছ প্রতিদিন বাজারে বিক্রি করে সুজিত। অনেকেই তাকে চেনে এবং পছন্দ করে। যে কারণে তারা স্থানীয় মগ যুবকদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেয়। তাকে যদি পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে যেত তারা তাহলে হয়তো অন্যান্য রোহিঙ্গাদের মতো পরিণতি হতে পারত তার। বাড়ি ফেরার পর মা স্ত্রী পুত্র কন্যাকে নিয়ে অন্যান্য দিনের মতো আনন্দে সময়গুলো কাটালেও আজ বাজারে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ভাবিয়ে তুলছে সুজিতকে। দুশ্চিন্তার বোঝা চেপে বসেছে মনে। বুকের মধ্যে এক ধরনের অশস্তি বাসা বেঁধে আছে। মনের অস্থিরতার কথা মুখ ফুটে বলতে পারছে না বাড়ির কাউকে। তার কথা শুনে হয়তো তারা ভয় পেয়ে যাবে। দুঃশ্চিন্তা আর ভয়ে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে মা।

কিন্তু এভাবে কতদিন লুকিয়ে রাখা যাবে এখানকার অস্থিরতার চিত্র। পরিস্থিতি যেভাবে ক্রমেই খারাপ হচ্ছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কোনদিকে গড়ায় তা বলা যাচ্ছে না।

এখন রাখাইন রাজ্যে বাংলাভাষী রোহিঙ্গা হিন্দু মুসলমান সবারই এক অবস্থা। এই ভিটেমাটি ছেড়ে অন্য কোথাও যাবার কথা কোন দিন ভাবেনি সুজিতের পরিবার। রোহিঙ্গা হিন্দু হলেও মিয়ানমারকে নিজ দেশ মনে করে আসছে তারা। এই দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই তাদের। অনেক বঞ্চনা, নিগ্রহ, অবহেলা, নির্যাতনের শিকার হলেও এখানেই মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে চায় ওরা।

গত কয়েকদিন পালিপাড়া গ্রাম ছাড়া আশপাশের অন্যান্য গ্রামগুলোতে বাড়িতে বাড়িতে আগুন দিয়েছে মিলিটারিরা, পুলিশও ছিল সঙ্গে। অনেক মানুষকে গুলি করে মেরেছে তারা। বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে মেয়েদের ওপর চড়াও হয়েছে। সবার সামনেই মিলিটারিরা ঘরের বউ ঝিদের কাপড় খুলে ফেলেছে। তারপর পালাক্রম ধর্ষণ করেছে। এ ছাড়া লুটপাট তো আছেই। পালিপাড়া এখনও আক্রান্ত হয়নি তেমনভাবে। এ গ্রামে হিন্দুর সংখ্যাই বেশি। তবে মুসলমানও কম নয়। যে কোন সময় বর্মী মিলিটারি এবং পুলিশ আশপাশের গ্রামগুলোর মতো এখানে তাদের অভিযান শুরু করবে বাজারে লোকমুখে শুনে এসেছে সুজিত।

সাধারণত সকালে আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন মাছ ধরতে বেরিয়ে পড়ে সুজিত। সপ্তাহের পর মাস। মাসের পর বছর। এভাবেই সময় গড়িয়ে চলে। কোন দিন মাছ ধরার জন্য বাইরে না গিয়ে উপায় নেই। মাছ ধরা বন্ধ থাকলে তো ঘরের অন্ন যোগান অসম্ভব হবে। সবাইকে না খেয়ে কাটাতে হবে। বুড়ো মা, দুই ছেলে মেয়ে আর বউয়ের কথা ভেবে নিজেকে বাড়িতে কর্মহীন অবস্থায় বসে থাকার কথা চিন্তা করতে পারে না সে।

বাড়িতে বড় ধরনের কোন সমস্যা না হলে কিংবা অসুখ বিসুখে না পড়লে শীত গ্রীষ্ম বর্ষা সারা বছরেই সকালে জাল নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে আশপাশের গ্রামগুলো চষে বেড়ায় সুজিত। বিভিন্ন বাড়ির পুকুর, ডোবা, খাল, বিলে জাল ফেলে মাছ ধরে। যা পায় তার কিছু অংশ গৃহস্থকে দিতে হয়। বাকিটা সে পায়। এটাই তার উপার্জন। অবশ্য খাল এবং নদী থেকে মাছ ধরলে তার ভাগ কাউকে দিতে হয় না। পুরোটাই তার। পূজা পার্বণের সময় বাড়িতে বউ ছেলে মেয়ে মায়ের কাছে থাকে সে। তখন মাছ ধরতে যায় না সুজিত।

আজ সে মাছ ধরতে যায়নি। বাড়িতে বসে বসে ভাবছে অনেক কথা। যদি এখানকার পরিস্থিতি আশপাশের গ্রামগুলোর মতো হয়ে যায়, যদি তাদেরকেও পালিপাড়া ছাড়তে হয় অন্যান্য রোহিঙ্গার মতো, তখন কী হবে- এতসব ভাবতে গিয়ে মাথাটা ঘুরে ওঠে সুজিতের। সারা রাত ভাল ঘুম হয়নি। শুয়ে শুয়ে কেবলই ছটফট করেছে। বিছানায় পাশে বউ মিনতি বেঘোরে ঘুমোচ্ছে, নিঃশ্বাসের শব্দ পাচ্ছে। অন্ধকারে তার নিঃশ্বাসের গরম স্পর্শ টের পায় সুজিত। মিনতি এখনও জানে না গ্রামের আসল পরিস্থিতি। সামনেই অনেক বড় বিপদ এগিয়ে আসছে পায়ে পায়ে। গোটা রাখাইন রাজ্য জুড়ে যে গণহত্যা আর সহিংসতা শুরু হয়েছে তার খবরও জানে না মিনতি কিংবা তার মা রমলা। গ্রামের সহজ সরল আটপৌরে গৃহবধূরা নিজের সংসারের ঘানি টানতে টানতে টের পায় না কখন সকাল গড়িয়ে দুপুর, আবার দুপুর গড়িয়ে রাত নেমে আসে প্রতিদিন। বাড়ির বাইরের খোঁজ খবর রাখার ফুরসত মেলে না।

আজ মাছ ধরতে না গিয়ে গম্ভীর মুখে বাড়িতে বসে আছে সুজিত। বিষয়টা অস্বাভাবিক তো বটেই। মা কয়েকবার তার পাশে এসে বসে জানতে চেয়েছে শরীর খারাপ লাগছে কী না।

‘ও পুত, শরীলত অসুখ লাগের না, কী হইয়েদে,’ উৎকণ্ঠিত মা তার কপালে ঘাড়ে পিঠে হাত বুলিয়ে দেখেছে জ¦র উঠেছে কী না। মায়ের উৎকণ্ঠার জবাবে সুজিত শুধু বলেছে, ‘ওমা, আয়ার কিছু ন অয়, আয়ার লাই চিন্তা না করো,’

‘তাইলে আজিয়া মাছ ধরিবার লাই ন গেলি দে’ পাল্টা প্রশ্ন করে মা।

‘মারে মা, আয়ার মনে ন চার আজিয়া বাড়ির বাইরে যাইবার লাই, এক্কানা জিরাইর আর কী, প্রত্তিদিন কী খালে বিলে ঘুরি বেড়াইতে গম লাগে না?’ কথাগুলো বলে ম্লান হাসে সুজিত।

রমলা ছেলের মনের খবর জানতে পারে না। ছেলের বয়স হয়েছে। সে কী আগের মতো আছে। মনের সব কথাই কি আর খুলে বলতে পারে সে মায়ের কাছে।

ও ভগবান, তুই জানো, আয়ার পুতের কী হইয়ে, আই কিছু ন বুঝির’, অনেকটা হতাশা জড়ানো কণ্ঠে কথাগুলো বলতে বলতে রমলা বাড়ির পেছনে পুকুরের দিকে এগিয়ে যায়।

তখনই কাছেই বিকট শব্দ আর নারী পুরুষের আর্তনাদ শোনা যায়, অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছে, উপলব্ধি করে সুজিত। তাহলে কী আশপাশের অন্যান্য গ্রামের মতো পালি পাড়ায়ও মিলিটারি হামলা শুরু করেছে। কাল সন্ধ্যায় বাজারে যে পরিস্থিতি দেখেছে, নিজেও রাখাইন মগ যুবকদের হাতে নিগৃহীত হয়েছে পুলিশ ক্যাম্পের দিকে তাকে ধরে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল যেভাবে। গোটা রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা উচ্ছেদে যে ভয়ঙ্কর কা- শুরু করেছে বর্মী সৈন্য, পুলিশ আর এখানকার মগরা। রোহিঙ্গা মুসলমানদের পাশাপাশি হিন্দুদেরও মিয়ানমার ছাড়তে হবে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। তারা সবাই নাকি বাঙালী, তারা এখানকার কেউ নয়, বহিরাগত। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলিম হিন্দু কাউকেই এ দেশের নাগরিক বলে স্বীকার করতে চাইছে না। তাদের সবাইকে এখান থেকে মেরে কেটে ভাগিয়ে রোহিঙ্গামুক্ত করা হবে। রাখাইন জুড়ে কলকারখানা গড়ে তুলতেই রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে ধ্বংস করে শিল্পাঞ্চলের জন্য উপযোগী করা হবে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই কাজ করছে তারা।

পরিচিতি বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা গণ্যমান্য মানুষের কাছে কথাগুলো শুনে বুকের ভেতর এক ধরনের অস্থিরতা শুরু হয়েছে গত কয়েকদিন ধরে। যদি সত্যি সত্যি মিয়ানমার ছাড়তে হয়, ভিটে মাটির মায়া ত্যাগ করে পাশের দেশে যেতে হয় তাহলে কী হবে? বাংলাদেশে আত্মীয় স্বজনদের কেউ কেউ আছে এখনও বেঁচে। কিন্তু সেখানে গেলেই কি তারা আশ্রয় দেবে, সহজভাবে গ্রহণ করবে? প্রশ্নগুলো সুজিতকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে ভীষণভাবে।

ভয়ঙ্কর শব্দ আর নারী পুরুষের আর্তনাদ শুনে বাড়ির বাইরে ছুটে আসে সুজিত। আশপাশে তাকিয়ে ভয় পেয়ে যায়। মহাপ্রলয় যেন নেমে এসেছে গোটা পালি পাড়ায়। গ্রাম জুড়ে আগুন জ¦লছে। পুড়ছে অনেক ঘর বাড়ি। আতঙ্কিত নারী পুরুষ শিশু প্রাণ বাঁচাতে দিগি¦দিক শূন্য হয়ে এদিক ওদিক ছুটছে। মাঝে মাঝে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। মিলিটারির গাড়ির শব্দও পাওয়া যাচ্ছে, আশপাশে কাছেই কোথাও রয়েছে তারা।

এ রকম ভয়াবহ একটি দৃশ্যের কথা দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি সুজিত কোনদিন। বরাবরই শান্তশিষ্ট নিরীহ জেলে সন্তান হিসেবে জীবন যাপন করে আসছে। কারও সঙ্গে ঝগড়া, বিবাদ, হিংসা, মারামারিতে জড়ায়নি কখনও। সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকার চেষ্টা করেছে। রোহিঙ্গা বলে সব সময় ঘৃণা, তুচ্ছ, তাচ্ছিল্য করে আসছে স্থানীয় মগরা। অপমান লাঞ্ছনা করেছে। কখনও তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিছু বলেনি। হাসিমুখে সব অপমান লাঞ্ছনা সহ্য করে শান্তি প্রিয় মানুষ হিসেবে থাকতে চেয়েছে। কিন্তু আজ এ কোন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে সে?

মহাপ্রলয় নেমে এসেছে গোটা রাখাইনে, দানবের মতো আচরণ করছে মিলিটারি, পুলিশ এবং মগ সন্ত্রাসীরা। অস্ত্র হাতে এলাকা জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। মানুষ মারছে, নির্মমভাবে। রোহিঙ্গা নারীদের পাশবিক নির্যাতন করছে। শিশুদের ছুড়ে ফেলছে অগ্নিকু-ে।

এ নরকে তো আর থাকা যাবে না। যে করেই হোক এখনই বউ ছেলে মেয়ে আর মাকে নিয়ে মিলিটারি পুলিশদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালাতে হবে। কাল সন্ধ্যায় যে মগ যুবকগুলো তার ওপর চড়াও হয়েছিল তাদের কবল থেকে রক্ষা পেলেও তাদের দু’চোখে নির্মমতার ভয়ঙ্কর নেশা লক্ষ্য করেছে সুজিত। তারা হয়তো এক্ষুনি মিলিটারি নিয়ে আসবে এ বাড়িতে। এত সহজে ওরা ছাড়বে না তাকে। এতসব ভাবতে গিয়ে ভয়ের ঠান্ডা শীতল স্রোত তার শিরদাঁড় বেয়ে নিচে নেমে যায়। কিছুক্ষণ নির্বাক, বিমূঢ় হয়ে থাকলেও এক সময় তার খেয়াল হয় হাতে সময় খুব বেশি নেই। যা করার এখনই করতে হবে।

বাড়িতে ঢুকে মা এবং বউ ছেলে মেয়েদের ঘরের সবকিছু গুছিয়ে নিতে তাড়া দেয় সুজিত।

সুজিত এবং তার পুরো পরিবার বাড়ি ঘর ফেলে দুর্গম পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটছে এক সপ্তাহ ধরে। গন্তব্য কোথায় জানে না তারা। শুধু জানে, প্রাণ বাঁচাতে হবে, সব ছেড়ে ছুড়ে যেতে হবে পাশের দেশে। দুর্গম পাহাড়ি পথে বুড়ো মাকে নিয়ে পথ চলতে বেশ কষ্ট হচ্ছে সুজিতের। এমনিতেই তার শরীর খুব দুর্বল, তার ওপর উঁচু নিচু পথ ধরে চলতে হবে বলে শরীরে আর কুলোচ্ছে না। হঠাৎ হঠাৎ বসে পড়ছে রাস্তায়।

মাকে নিয়ে সুজিতের উৎকণ্ঠা বেড়ে গেলে রমলা ছেলেকে বলছে, ‘ও বাপ, আয়ার লাই চিন্তা ন করিস, তুই আয়ারে এনডে রাখি বউ পোয়া মাইয়া লই যাগুই, আয়ার যা হইবার তাই হইবো, আই আর হাডিন্ন নো ফারির’।

মায়ের কথা শুনে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে সুজিত। ও মা, তুই এগুন কি কইতা লাই¹ো দে, তোয়ারে ফালাই কেয়েনে যাইয়ুম আয়ারা’।

এক সঙ্গে পাহাড়ি দুর্গম পথ ধরে এগিয়ে চলেছে পালি পাড়া গ্রামের রহম আলি এবং তার পরিবার। সঙ্গে তার বউ ছেলে মেয়ে এবং বুড়ো মাও আছেন। রহম আলির মা হালিমা বানুর বয়স হলেও বেশ শক্ত সামর্থ মনে হয় তাকে।

রমলা আর সুজিতের কথাবার্তা শুনে হালিমা এগিয়ে আসেন কাছে।

‘ও দিদি, তোয়ারে আয়ারা ফেলাই যাইয়ুম কেয়েনে, দরকার ফইল্লে তোয়ারে কাঁনধত তুলি লইবো তোয়ার পোয়া, ন ডরাইয়ো, কিছু ন অইবো আয়ারার, আল্লা ভরসা।’

তার কথা শুনে রমলা ছেলেকে জড়িয়ে কাঁদতে থাকে।

ঘন গাছপালা ঘেরা স্যাঁতসেঁতে জঙ্গলে আশপাশে খাবার দাবার জোগাড়ের কোন ব্যবস্থা নেই। অভুক্ত অবস্থায় থাকতে হচ্ছে সবাইকে। হঠাৎ পথে কলা কিংবা পেঁপে গাছ পাওয়া গেলেও তাতে ফলমূল কিছু অবশিষ্ট নেই। এ পথ দিয়ে যাওয়া লোকজন সেগুলো আগেই খেয়ে ফেলেছে। ঘনজঙ্গলে ফলের গাছ পাওয়া বেশ কঠিন, এটা কয়েকদিনের পথ চলায় উপলব্ধি করেছে সবাই।

বিরাট কাফেলা এগিয়ে চলেছে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে।

বাংলাদেশ সীমান্ত আর কতদূর জানে না তারা। কারণ এ পথে চলাচলের অভিজ্ঞতা নেই কারও। সাধারণত বাংলাদেশের টেকনাফ, কিংবা নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিভিন্ন কাজে যাওয়া আসা থাকলেও এখন সে পথ ধরে যাওয়া সম্ভব নয়। নাফ নদী পাড়ি দিয়ে কেউ কেউ বাংলাদেশ যেতে চাইছে। কিন্তু ও পথে বর্মী সৈন্যরা গানবোট, স্পিডবোট নিয়ে টহল দিচ্ছে। রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা অথবা ট্রলার দেখলেই তাদের সঙ্গে থাকা মেশিনগান গর্জে উঠছে। নাফ নদীতে গত কয়েক দিনে এরকম অনেক শরণার্থী বোঝাই বড় নৌকা, ট্রলারকে ধাওয়া করেছে তারা গানবোট নিয়ে। ভয়ে আতঙ্কে নৌকা বা ট্রলার নিয়ে পালাতে গিয়ে সেগুলো সাগরে পথ হারিয়ে ডুবে গেছে।

প্রতিটি নৌকা এবং ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা হচ্ছে। নৌকার মাঝি, ট্রলার চালকরা তুলতে না চাইলেও আতঙ্কিত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি ঘর ফেলে আসার সময় সঙ্গে আনা মূল্যবান জিনিসপত্রসহ নৌকায় জোর করে উঠছে। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে বেশ অনেকগুলো নৌকা ডুবে গেছে নাফ নদ পেরিয়ে অচেনা সাগর পথে গিয়ে। তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাংলাদেশে পৌঁছার আগেই সাগরে ডুবে মরছে। সুজিত এ রকম বেশ কিছু ঘটনার কথা শুনেছে লোকজনের কাছে। যে কারণে ঝুঁকি নেয়নি নৌপথে বাংলাদেশের টেকনাফে যাবার।

পথ চলতে চলতে আকাশের দিকে তাকায় সুজিত। আকাশে মেঘের ছিটেফোঁটা নেই একদম। গাঢ় নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে গিয়ে তার মনে পড়ে যায়, খুব ছোট বেলায় বাবার সঙ্গে দু’ভাই অজিত আর সুজিত মাছ ধরতে বেরোত। সুজিত ছোট বলে পানিতে নামতে ভয় পেত। বড় ভাই অজিত বাবার সঙ্গে নদীতে মাছ ধরত। সুজিত নদীর পাড়ে বসে আকাশ দেখত। নীল আকাশ দেখতে দেখতে কেমন যেন হয়ে যেত মনটা। একা একা নদীর পাড় ধরে ছুটতে থাকত সুজিত। নীল আকাশটা কোথায় গিয়ে শেষ হয়েছে তা দেখার জন্য প্রাণপণে দৌড়াত কিশোর ছেলেটি। ছুটতে ছুটতে এক সময়ে ক্লান্ত হয়ে পথে বসে পড়ত। নীল আকাশের শেষ প্রান্ত খোঁজার নেশা কেটে গেলে আবার বাড়ি ফিরে যেত সুজিত। আজও নীল আকাশ তাকে আলোড়িত করছে। মিয়ানমার ছেড়ে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে ওরা। এখানেও নীল আকাশের শেষ প্রান্ত দেখার ইচ্ছে জাগছে প্রবলভাবে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নো ম্যানস ল্যান্ড আর খুব বেশি দূরে নয়। আর কিছু পথ হাঁটলেই সেখানে পৌঁছে যাবে তারা। নীল আকাশের ও প্রান্তেই বাংলাদেশ। সেখানে যাচ্ছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নারী পুরুষ শিশু। এত মানুষের ঠাঁই হবে কি সেখানে? বউ ছেলে মেয়ে আর বৃদ্ধা মাকে নিয়ে উদ্বাস্তু জীবনের চিত্রটা কেমন হবে, ভাবতে ভাবতে এগিয়ে যেতে থাকে দেশ থেকে বিতাড়িত একজন সুজিত দাশ।

এই মাত্রা পাওয়া