২২ জুন ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হুদাইদায় তুমুল যুদ্ধ ॥ ৪ আমিরাতি সেনা নিহত

হুদাইদায় তুমুল যুদ্ধ ॥ ৪ আমিরাতি সেনা নিহত

অনলাইন ডেস্ক ॥ ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম বন্দরনগরী হুদাইদায় হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি জোটের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ চলছে। ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বশেষ এ বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিতে বুধবার ব্যাপক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সৌদি জোট। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের চার সেনা নিহত হয়েছে বলে দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওয়াম নিউজে সেনা কমান্ডের বরাত দিয়ে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইয়েমেনের বৈধতার সমর্থনে আরব জোটের পরিচালিত অপারেশন ‘রিস্টোরিং হোপ’ চলাকালে চার সেনা শহীদ হয়েছে।’

এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে একটি গোলাবারুদের ডিপোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির ৪৫ জন সেনা সদস্য মারা যায়।

ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি জোট পরিচালিত যুদ্ধের তিন বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছে আলজাজিরা।

এদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনের নির্বাসিত সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, বুধবার ইয়েমেনি সেনাদের সমর্থনে নগরের দক্ষিণাংশে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করে জোট বাহিনী। বিদ্রোহীদের, যারা বিদেশী স্বার্থ বাস্তবায়ন করছে, কাছ থেকে ইয়েমেন পুনরুদ্ধারে হুদাইদা মুক্ত করা উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা লোহিত সাগরের এই বন্দরটি ইয়েমেনে প্রবেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানী সানা থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরের এই বন্দরের মাধ্যমেই দেশটির ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ৮০ লাখ মানুষের ত্রাণ পৌঁছাতে হবে।

দুবাইভিত্তিক আলা-আরাবিয়া টেলিভিশন বলেছে, ইয়েমেনি সেনারা বন্দরের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা নেখেইলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে বন্দরটি হস্তান্তরের জন্য হুথিদের একটি সময় নির্ধারণ করে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেই সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরই বুধবার অভিযান শুরু করে জোট বাহিনী। রিয়াদ ও আবু ধাবির মনে করে, এই বন্দরের মাধ্যমেই হুথিদের কাছে অস্ত্রের চালান আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও লজিস্টিক্যাল সহায়তা নিয়ে সৌদি জোট ২০১৫ সালে হুথিবিরোধী অভিযান শুরু করে। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আব্দু রাবু মানসুর হাদিকে ক্ষমতায় পুনর্বাসিত করতে তারা এই অভিযান শুরু করে। এর আগে হুথি বিদ্রোহীরা এক অভ্যুত্থানে রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর মানসুর হাদি বন্দরনগরী এডেনে পালিয়ে যায়। সেখানেও হুথিরা অভিযান শুরু করলে সৌদি আরবে পালিয়ে যান হাদি। এরপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি।

এদিকে, হুদাইদায় অভিযান শুরুর আগে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে বলেছে, সেখানকার ছয় লাখ মানুষের মধ্যে আড়াই লাখ সব কিছু, এমনকি জীবন পর্যন্ত হারাতে পারে।

ইয়েমেনে সৌদি জোটের অভিযান শুরুর পর ১০ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছে। এ ছাড়া দেশটির চার বছরের গৃহযুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ