১৭ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শান্তির বারতা ॥ মস্কোয় জমকালো উদ্বোধন

শান্তির বারতা ॥ মস্কোয়  জমকালো উদ্বোধন
  • রুমেল খান

সুরের মূর্ছনা, সঙ্গীতের মায়াজাল, কান ফাটানো করতালি... সবমিলিয়ে চোখ ধাঁধানো বর্ণাঢ্য আয়োজন হয়ে গেল ফিফা বিশ্বকাপ-মঞ্চে। ফিফা বিশ্বকাপের একবিংশ আসরের সূচনালগ্নটি স্মরণীয় করে রাখলো রাশিয়া তাদের বর্ণিল আয়োজনের মাধ্যমে। ‘গোল/দোল দোল দোল বিশ্বকাপের দোল/ বিশ্ব মাতাবে একটা মাত্র গোল/দোল লাগে দোল, প্রাণে লাগে দোল ...’ একমাস, ১২ ভেন্যু, ৩২ দল, ৬৪ ম্যাচ, ৭৩৬ ফুটবলার, এক চ্যাম্পিয়ন... টেনশন, হার্টবিট, জল্পনা-কল্পনার শুরু হয়ে গেছে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই। মনোমুগ্ধকর, নয়নাভিরাম, জমকালো, বর্ণিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠেছে রাশিয়া বিশ্বকাপের। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের জমকালো এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন ২০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। ফুটবলপ্রেমীদের মতো এই আসরকে ঘিরে তারা ছাড়াও অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদেরও আগ্রহ-উদ্দীপনার কমতি ছিল না।

এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল ১৫ মিনিটব্যাপী। এর পরেই বাংলাদেশ সময় রাত নয়টায় মাঠে গড়ায় উদ্বোধনী ম্যাচ। যাতে গ্রুপ ‘এ’তে স্বাগতিক রাশিয়া মুখোমুখি হয় সৌদি আরবের।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন স্প্যানিশ অপেরা তারকা প্ল্যাসিদো ডমিনগোর, ব্রিটিশ পপস্টার রবি উইলিয়ামস, ব্রাজিলিয়ান ফুটবল আইকন রোনালদো নাজারিও ডি লিমা (তিনি বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নিয়ে মঞ্চে আসেন) এবং বিশ্বখ্যাত রাশিয়ান উচ্চাঙ্গশিল্পী আইডা গারিফুলিনার। তাদের সঙ্গে ছিলেন ৫০০ নৃত্যশিল্পী ও ক্রীড়াবিদ, যারা বিভিন্ন ডিসপ্লের মাধ্যমে রাশিয়ার ইতিহাস-ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেন নিপুণভাবে।

এছাড়া বিশ্বকাপের থিম সং ‘লিভ ইট আপ’ গানের তালে তালে লুঝনিকি স্টেডিয়ামের ৮০ হাজার ফুটবল ভক্ত-সমর্থক-অনুরাগী মেতে ওঠেন বিমলানন্দে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিনেতা-সঙ্গীতশিল্পী উইল স্মিথ, নিকি জ্যাম আর এরা এস্ত্রাফি- তিনজন মিলে গানটি পরিবেশন করেন। এককথায় বলতে গেলে এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি ছিল মূলত সঙ্গীতনির্ভর।

এছাড়া রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন স্বাগত ও সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি বিশ্বকাপের সফলতা কামনা করেন। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্টিনো তার সংক্ষিপ্ত ভাষণে উদ্বোধনী ম্যাচের দুই দল সৌদি আরব এবং রাশিয়ার ফুটবলার-দর্শকদের উজ্জীবিত করতে দুই দেশের ভাষাতেই কিছু বাক্য উচ্চরণ করেন এবং বাহবা কুড়ান।

ইংলিশ টেলিভিশন আইটিভি পুরো অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে, যার মাধ্যমে স্টেডিয়ামের বাইরে থাকা বিশ্বের অগণিত ফুটবলপ্রেমী অনুষ্ঠানটি সরাসরি উপভোগ করেন বিশেভাবে স্থাপিত জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে।

সারাবিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের মতো আগামী একমাস বিশ্বকাপের খেলা নিয়ে মেতে থাকবেন বাংলাদেশী ফুটবলপ্রেমীরাও। সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের সমর্থকদের নিয়ে গঠিত সাইফ স্পোর্টিং ফ্যান ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় ঢাকার ফুটবলপ্রেমীদের কথা বিবেচনা করে ঢাকার তিনটি ব্যস্ততম স্থানে (বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম এলাকা, মতিঝিলে এবং তেজগাঁও রেল স্টেশন এলাকায়) বড় পর্দায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং খেলা দেখার ব্যবস্থা করে। এই আয়োজন অব্যাহত থাকবে বিশ্বকাপের শেষদিন পর্যন্ত।

‘হৈ হৈ রই রই দর্শক উল্লাস/ টানটান উত্তেজনায় দীর্ঘশ্বাস/কেউ জেতে কেউ হারে/কেউ হাসে কারও চোখে জল/ফুটবল, বিশ্বকাপ ফুটবল/সম্প্রীতির বন্ধনে খেলছে পুরো বিশ্ব/ফুটবলে মেতেছে সবাই, পেলে-ম্যারাডোনার শিষ্য/কেউ বলে পেলে সেরা, কেউ ম্যারাডোনা/দিন যায় বাড়ে শুধু তর্কের ডানা/ বিশ্বকাপ ফুটবল, জাদুকরী খেলা/এক হালি সন বাদে তারে যায় মেলা/জোতিষীর ফিস বাড়ে, কেউ বা তা ফ্রি ছাড়ে/কেউ কেউ ফিট হয়, কারও হার্টবিট বাড়ে’... আগামী একমাসে বিশ্বকাপজ্বরে আক্রান্ত থাকবে বিশ্ববাসী। এখন দেখার বিষয়, কে জেতে শিরোপা।