২২ জুন ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে আরও কয়েক জেলায় বন্যা

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ অবিরাম বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও প্রবল জোয়ারে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন্যা দেখা দিয়েছে। সিলেটের কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এই জেলার বিভিন্ন জায়গার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাতক্ষীরার খোলপেটুয়া নদীর পানির প্রবল জোয়ারে বাঁধ ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ফটিকছড়িতে পানির তোড়ে মাটির দেয়াল ধসে ও সাপের কামড়ে তিনজন মারা গেছে।

এদিকে হালদার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ নদীর অন্তত ৮০ স্থানে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পাহাড়ী ঢল। এই দুই উপজেলার চার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে মনু নদীর পানি কয়েক জায়গায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। -খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতার।

সিলেট ॥ টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বন্যা দেখা দিয়েছে। কয়েকটি উপজেলায় ইতোমধ্যে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট কোম্পানীগঞ্জ ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় গ্রামের রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। সিলেট শহরের সঙ্গে কানাইঘাট উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জৈন্তাপুরের দরবস্ত সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কানাইঘাটের সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার হিসেব অনুযায়ী সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমার কানাইঘাট পয়েন্টে পানি ২ দশমিক ৬ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির প্রবাহ ক্রমাগত বাড়ছে। এ কারণে কানাইঘাটের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট পানির নিচে রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে ৯৪ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার, শেরপুর পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা ॥ খোলপেটুয়া নদীর প্রবল জোয়ারের তোড়ে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বেঁড়িবাধ ভেঙ্গে বিছট গ্রামসহ এর আশপাশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে শতাধিক মৎস্য ঘের। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অর্ধ-শতাধিক পরিবার। বৃহস্পবিার দুপুরে সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/২ নং পোল্ডারে বিছট গ্রামের সরদার বাড়ির সামনে প্রায় দেড়’শ ফুট এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

এদিকে অমাবস্যার কারণে নদীতে জোয়ার বৃদ্ধি পাওয়ায় দুপুরের প্রবল জোয়ারের চাপে হঠাৎ করেই বাঁধটি নদীগর্ভে ধসে পড়ে। প্রায় দেড়’শ ফুট এলাকা দিয়ে নদীর পানি প্রবল বেগে লোকালয়ে ঢুকছে। ইতিমধ্যে বিছট গ্রামের এক তৃতীয়াংশ পানিতে ডুবে গেছে। তিনি আরও জানান, বেড়িবাঁধটি দ্রুত সংস্কার করা না গেলে পরবর্তী জোয়ারে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়বে।

ফটিকছড়ি ॥ চারদিনের অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে চট্টগ্রামের বৃহত্তর ফটিকছড়ি এবং হাটহাজারীতে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফটিকছড়িতে পানির তোড়ে, মাটির দেয়াল ধসে এবং সাপের কামড়ে এক বৃদ্ধাসহ মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। এ দু উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদীর পানি এখনও বিপদ সীমার উপরে থাকায় এ নদীর অন্তত ৮০টি স্থানে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় পাহাড়ী ঢলের প্রবাহ আরও বেড়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৪ লক্ষাধিক জনগণ। এখানকার বিভিন্ন হাট-বাজারে পানি উঠায় ৭০ শতাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

মৌলভীবাজার ॥ উজানে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মনু ও ধলাই নদীর পানি কিছুটা কমেছে। মনু নদীর পানি মনু রেলওয়ে ব্রিজের কাছে বিপদ সীমার ১২৫ সেঃ মিঃ ও শহরের চাঁদনীঘটে ৬৪ সেঃ মিঃ বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও ধলাই নদীর পানি আজ ২২ সেঃ মিঃ নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত করছে বাঁধভাঙ্গা নদীর পানি। বন্যার পানির তোড়ে কালভার্ট ভেঙ্গে চাতলাপুর চেকপোস্টের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে ভারতীয় ও বাংলাদেশ অংশে দুই দেশের যাত্রীরা আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে শমসের নগর-চাতলাপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সড়ক, মুন্সীবাজার-কমলগঞ্জ, কুরমা সড়ক ও শমশেরনগর-কুলাউড়া সড়কের কয়েকটি স্থান তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এসব সড়কে কোথাও কোথাও দেড় থেকে ৩ ফুট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ী ঢলের পানিতে কুলাউড়া উপজেলার মনু নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে তেলিবিল, বাঘজুর, চাতলা সেতু সংলগ্ন ও নিশ্চিন্তপুর গ্রামে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে ঢলের পানি প্রবেশ করে। এতে প্রায় ২২৫ গ্রামের ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ