১৭ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সোচিতে পর্তুগাল-স্পেন হাইভোল্টেজ ম্যাচ আজ

  • নিজেদের প্রথম ম্যাচ নিয়ে সতর্ক দু’দলই, কোচ নিয়ে হা হুতাশ করছে না ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা, রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ইস্কো-কারভাহালরা প্রতিপক্ষ রোনাল্ডোর

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এবারের আসরের অন্যতম ফেবারিট স্পেন ও পর্তুগাল। দেশ দু’টি আবার একই গ্রুপে (বি গ্রুপ) পড়েছে। মজার বিষয়, তারা একে অপরের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়েই মিশন শুরু করতে যাচ্ছে। আজই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সোচিতে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই পরাশক্তি পর্তুগাল ও স্পেন। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১২টায়।

গ্রুপপর্ব পার হতে এই ম্যাচের ফল যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে তা বলাই বাহুল্য। আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছে দু’টি দলই। ম্যাচটিতে স্পটলাইট থাকবে পর্তুগীজ অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দিকে। তারকা এই ফুটবলার এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বুনছেন। এই মিশনে শুরুতেই তাকে লড়তে হচ্ছে বন্ধুদের বিরুদ্ধে। কথাটা হয়তো কেমন শোনাচ্ছে। কিন্তু এটাই সত্যি। কেননা প্রতিপক্ষ স্পেনের বেশিরভাগ ফুটবলারের সঙ্গেই ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে একসঙ্গে খেলে থাকেন রোনাল্ডো। সেই ইস্কো, কারভাহাল, এ্যাসেনসিওদের বিরুদ্ধেই আজ খেলতে হচ্ছে সি আর সেভেনকে।

ম্যাচটিকে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাভিওয়েট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পর্তুগালের মিডফিল্ডার ম্যানুয়েল ফার্নান্দেজ। তিনি বলেন, আমাদের সবার জন্যই এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এই মুহূর্তে আমরা খুবই শক্তিশালী দল, তবে লড়তে হবে আরেকটি শক্তিশালী দলের সঙ্গে। যারা বিশ্বকাপের শিরোপা প্রত্যাশীদের একটি। গ্রুপের বাকি দল দু’টিকেও অবহেলা করছি না। তবে স্পেন হচ্ছে টুর্নামেন্টের ফেবারিটদের একটি। গ্রুপের বাকি দল ইরান ও মরক্কোর প্রতিও আমাদের সমীহ আছে। আমরা তাদের হাল্কাভাবে নিচ্ছি না। ফার্নান্দেজ আরও বলেন, এটা ঠিক গ্রুপপর্বের সবকটি ম্যাচে জয়ের জন্যই আমরা এখানে এসেছি। এখন এর বাইরে আমাদের চিন্তা করার কিছু নেই। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে যতদূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়া। দেশের হয়ে খেলার জন্য এখানে আসতে পেরে আমি গর্বিত। এটি খুবই সুসংগঠিত এবং অসাধারণ একটি ভেন্যু ও অনুশীলন ঘাঁটি। দলে তো রোনাল্ডো আছেই, আমরাও আমাদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করব।

প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার আগেই অবশ্য বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে স্পেন। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র একদিন আগে কোচকে বরখাস্ত করে পুরো বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছে তারা। ২০১০ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য এটি বিশাল ধাক্কা। বিদায়ী কোচ জুলেন লোপেটেগুইয়ের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ কিংবদন্তি ফার্নান্ডো হিয়েরোকে। এতো অল্প সময়ে নতুন কোচ এসে কিভাবে দলকে গুছিয়ে তুলবেন তা নিয়ে সবার মনেই প্রশ্ন। তবে এ নিয়ে মোটেই চিন্তিত নন নয়া কোচ হিয়েরো। সাবেক স্পেন ও রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার বলেন, আমরা বিশ্বকাপের জন্য লড়াই করতে এসেছি। আমাদের দারুণ একটি সুযোগ আছে। তাতেই আমাদের মনযোগী হওয়া উচিত। খেলোয়াড়রা রোমাঞ্চিত। তারা এ চ্যালেঞ্জটি চায়। এটা সবার জন্যই একটি চ্যালেঞ্জ। আমাদের পিছনে ফিরে তাকাবার সময় নেই। স্পেনের খেলোয়াড়দের আত্মনিবেদন নিয়ে কোন সন্দেহ নেই হিয়েরোর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি জানি তারা নিজেদের শতভাগই দিতে যাচ্ছে। একটি বিশ্বকাপে কেউ কিছু ছেড়ে দেয় না। আমরা জানি এটা কি বোঝায় এবং আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কেও জানি।

দলের সবাই বিশ্বকাপের লড়াইয়ের জন্য মুখিয়ে আছে জানিয়ে হিয়েরোর বলেন, ছেলেরা বিশ্বকাপের জন্য অধীর হয়ে আছে; চ্যালেঞ্জটা তারা চায়। এটা সবার জন্য চ্যালেঞ্জ; হা-হুতাশ করার সময় আমাদের নেই। আমাদের ইতিবাচক হতে হবে, মতামতের এখানে কোন মূল্য নেই। আমাদের পাতাটা ওল্টাতে হবে; ইতিবাচক হতে হবে। দলে যে খেলোয়াড় আছে এবং আমরা যেটার প্রতিনিধিত্ব করি, সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। বিশ্বকাপে স্পেনের দারুণ সুযোগ আছে বলে মনে করেন কোচ। বলেন, আমরা বিশ্বকাপের জন্য লড়াই করতে এসেছি। দল মুখিয়ে আছে। আমাদের দারুণ সুযোগ আছে এবং সেটার ওপর অবশ্যই আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। এ পর্যন্ত মুখোমুখি লড়াইয়ে পর্তুগালের চেয়ে অনেক এগিয়ে স্পেন। ৩৫ বার মুখোমুখি লড়াইয়ে স্পেনের জয় ১৬ ম্যাচে, সেখনে পর্তুগীজদের জয় ৬টিতে। বাকি ১৩ ম্যাচ ড্র হয়। বর্তমােেন ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে অবশ্য এগিয়ে পর্তুগাল। তাদের র‌্যাঙ্কিং ৪, অন্যদিকে স্পেনের র‌্যাঙ্কিং ১০। বিশ্বকাপে আজকের ম্যাচের আগে একবারই মুখোমুখি হয়েছে দল দু’টি। এতে জয় পেয়েছে স্পেন।

এদিকে বিশ্বকাপে অংশ নেয়া দেশগুলোর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিতির ভিত্তিতে সেরা দল রোনাল্ডোর পর্তুগাল। পর্তুগীজ দলের খেলোয়াড়দের ফেসবুক, টুইটার ও ইন্সটাগ্রাম মিলে আছে ৩৬০ মিলিয়ন বা ৩৬ কোটি অনুসারী। এর মধ্যে দলের সেরা তারকা রোনাল্ডোর একারই আছে ৩২০ মিলিয়ন বা ৩২ কোটি অনুসারী। রোনাল্ডোর প্রতিদ্বন্দ্বী নেইমার জুনিয়র ও লিওনেল মেসির অনুসারীর সংখ্যা যথাক্রমে ১৯২ মিলিয়ন এবং ১৮১ মিলিয়ন।