১৯ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সালাহর সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি উরুগুয়ে অগ্নিপরীক্ষায় মিসর

  • অপর ম্যাচে মরক্কো-ইরান মুখোমুখি আজ

মোঃ মামুন রশীদ ॥ বিশ্বকাপের আঁচ শুরু হয়ে গেছে। প্রথমদিনেই স্বাগতিক রাশিয়া বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করে দিয়েছে সৌদি আরবের বিপক্ষে। উদ্বোধনী দিন বলে একটিই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জমজমাট মাঠের লড়াই মূলত শুরু হবে আজ থেকেই। কারণ একদিনেই মাঠে নামবে ৬ দল, ভিন্ন ভেন্যুতে পৃথক সময়ে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচ। এর মধ্যে দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ী উরুগুয়েও আছে। তাদের অভিযান শুরু হবে বর্তমান বিশ্বের সবেচেয়ে আলোচিত দল মিসরের। কখনও বিশ্বকাপ জেতা দূরে থাক, আফ্রিকা মহাদেশে সর্বাধিক ৭ বার চ্যাম্পিয়ন মিসর বিশ্বকাপে এবার খেলবে মাত্র তৃতীয়বার। তবু তারা আলোচনার কেন্দ্রে বিশ্ব কাঁপিয়ে দেয়া স্ট্রাইকার মোহাম্মদ সালাহর কারণে। আজ ২৬তম জন্মদিন এ তারকা ফুটবলারের। কিন্তু সাইডবেঞ্চে বসে থেকেই আজ সন্ধ্যা ৬টায় একাতেরিনবার্গে উরুগুয়ের বিপক্ষে নিজ দেশের অগ্নিপরীক্ষা দেখতে হবে হয়তো। কারণ ইনজুরি কাটিয়ে এখনও পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠেননি তিনি, এমনটাই জানা গেছে মিসরের টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে। সেন্ট পিটার্সবার্গে অপর ম্যাচে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় মুখোমুখি হবে মরক্কো ও ইরান।

লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের অন্যতম সেরা দল উরুগুয়ে। এবার বিশ্বকাপের টিকেট তারা বেশ ভালভাবেই পেয়েছে। কারণ, তাদের দলে আছেন বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ ও এডিনসন কাভানি। সুয়ারেজকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছুই নেই। গত ৫/৬ বছর ধরেই তিনি উরুগুয়ের অক্রমণভাগের অন্যতম শক্তি। গত বিশ্বকাপে ইতালির বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে ডিফেন্ডার চিয়েল্লিনিকে কামড়ে দিয়ে দারুণ সমালোচিত হয়েছিলেন সুয়ারেজ। পরে নিষিদ্ধ হন ৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে। এরপরও পারফর্মেন্সের দিক থেকে তেমন ঝামেলায় পড়েননি কোন সময়। নিয়মিতই আলো ছড়িয়েছেন। ক্লাব ফুটবলে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সিলোনার অন্যতম শক্তি ও ভরসার প্রতীক এ ফরোয়ার্ড ইতোমধ্যে দেশের হয়েও সর্বাধিক গোল করার রেকর্ড নিজের দখলে নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত লা সিলেস্তেদের জার্সিতে তিনি মোট ৫১ গোল করেছেন। আর এ কারণেই তার ওপর অনেকখানিই ভরসা এবার উরুগুয়ের। তার সঙ্গে অভিজ্ঞ কাভানির জুটিটা ছন্দে থাকলে যে কোন প্রতিপক্ষের জন্যই বড় রকমের বিপদ অপেক্ষা করছে।

৭১ বছর বয়সী কোচ অস্কার তাবারেজের আরেকটি বড় শক্তির জায়গা হচ্ছে দারুণ অভিজ্ঞ ম্যাক্সি পেরেইরা। এবার তাবারেজ নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে অংশ নেবেন। তারজন্য উরুগুয়ে প্রতিবারই নিজেদের অন্তত গ্রুপপর্ব থেকে অতিক্রমের শক্তি অর্জন করে। ২০১০ সালে তাবারেজ তার দলকে চতুর্থ স্থান পাইয়ে দিয়েছেন। ম্যাক্সি দেশের ফুটবল ইতিহাসে সর্বাধিক ১২৫ ম্যাচ খেলেছেন। তিনি একাই উরুগুয়ের রক্ষণভাগটাকে সামাল দিচ্ছেন বেশ দক্ষতার সঙ্গে। মিসরের জন্য সেই রক্ষণব্যুহ ভাঙ্গাটা বেশ কঠিনই হবে। কারণ তাদের আক্রমণের ধারটা অনেখানিই নিস্তেজ থাকবে। মিসরের আক্রমণভাগ পুরোপুরিই নির্ভরশীল সালাহর ওপরে। এতে করেই প্রতিপক্ষের রক্ষণ দুর্গ চিরে দেয়ার মতো শক্তি অর্জন করে মিসর। আর সে জন্যই ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরলেও মিসরকে নিয়ে এত আলোচনা। কিন্তু সেই সালাহ আজ প্রথম ম্যাচেই খেলতে পারবেন না। কারণ, গত ২৬ মে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে তিনি মাত্র ২৩ মিনিট খেলার পরই মাঠ ছাড়েন কাঁধের ইনজুরি নিয়ে। লিভারপুলে ক্যারিয়ারের প্রথম মৌসুমটা দারুণ কাটিয়েছেন তিনি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৪ গোল করে। কিন্তু সেই ইনজুরিটা তাকে প্রায় বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে ফেলেছিল। কিন্তু তিনি বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে এসেছেন রাশিয়ার মাটিতে। আজ প্রথম ম্যাচে খেলতে না পারলেও পরের দুই ম্যাচে খেলবেন এমনটাই জানিয়েছে মিসরের টিম ম্যানেজমেন্ট। দ্য ফারাও নামে পরিচিত দলটি ১৯৯০ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলেছিল এবং ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপেও অংশ নিয়েছিল। ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালে দুইবার বিশ্বকাপ জেতা উরুগুয়ের বিপক্ষে তাই আজ বড় অগ্নিপরীক্ষাই দিতে হবে কোচ হেক্টর কুপারকে।

রাত ৯টায় ‘বি’ গ্রুপে আরেক ম্যাচে মুখোমুখি হবে এশিয়ার দল ইরান ও আফ্রিকান দেশ মরক্কো। ১৯৭০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ মঞ্চে অবতীর্ণ হওয়া মরক্কো এবার নিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলবে। তাদের সেরা সাফল্য ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা। সর্বশেষ ১৯৯৮ বিশ্বকাপে খেলেছিল তারা, টানা ৪ বিশ্বকাপ পর আবার ফিরেছে মরক্কো। এবার প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতেই জিতে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছে তারা রাশিয়ার মাটিতে। স্লোভাকিয়াকে ২-১ ও এস্তোনিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে তারা।

তাদের প্রতিপক্ষ ইরানও পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলবে। তবে গত মাসের শেষদিকে একটি ম্যাচে তুরস্কের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় ইরান। আর গ্রীস ও কসোভোর বিপক্ষে দুটি ম্যাচই পরিত্যক্ত হওয়ায় প্রস্তুতিটা ভালভাবে সারতে পারেনি তারা। তবে গত বছরও অংশ নিয়েছিল এশিয়ার এ মুসলিম দেশটি। সেদিক থেকে বেশ উজ্জীবিতই ইরান। তবে কোনবারই প্রথম রাউন্ড পেরোতে পারেনি তারা। এবার অন্তত সেই খরা কাটাতে চায় ইরান। ম্যাচটি সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত হবে।