১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঝিনুক গবেষণা কেন্দ্র

বাংলার ঐতিহ্যবাহী ও সমৃদ্ধ মসলিন কাপড়ের মতোই বাংলার নদী-নালা, খাল-বিলে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক ঝিনুক থেকে আহরিত মুক্তা বিশেষ করে পিঙ্ক পার্ল ছিল অত্যন্ত দামী ও ভুবনবিখ্যাত। অপরিকল্পিত আহরণ, পরিচর্যার অভাব, সর্বোপরি নদী-নালাসহ জলাশয়ের পরিমাণ অনেকাংশে কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিক ঝিনুক ও মুক্তা পাওয়া যায় না বললেই চলে। দেশে ১৯৯৯ সাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে মুক্তা চাষ শুরু হলেও সাফল্য আসেনি তেমন। এবার সুবিস্তৃত সমুদ্র উপকূলে লোনা পানিতে প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত ঝিনুকের আবাসস্থল থেকে মুক্তা সংগ্রহের লক্ষ্যে বাণিজ্যিকভাবে লোনা পানির ঝিনুক চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, কক্সবাজারের চাঁদখালী নদীর মোহনা থেকে সেন্টমার্টিন, অন্যদিকে কুয়াকাটা, পায়রা, পটুয়াখালী পর্যন্ত সুবিস্তৃত সাগর উপকূলে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ ও ঝিনুক রয়েছে। দেশে ১৪২ প্রজাতির লোনা পানির ঝিনুক রয়েছে। মিঠা পানির রয়েছে ছয়টি প্রজাতি। এগুলোর মধ্যে অন্তত পাঁচটি প্রজাতির ঝিনুকে মুক্তার সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পরিকল্পিত উপায়ে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ ও মুক্তা আহরণ করা সম্ভব হলে তা হতে পারে সম্ভাবনাময় বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস। প্রধানমন্ত্রীর সবিশেষ আগ্রহে কক্সবাজারের সামুদ্রিক মৎস্য প্রযুক্তি কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যেই শুরু করেছেন এই গবেষণা। উল্লেখ্য, ধান গবেষণার ক্ষেত্রে বিশেষ করে লোনা পানির ধান চাষে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা প্রভূত সাফল্য অর্জন করেছেন। জলমগ্ন বোরো-আমন ক্ষেতে প্রচুর শামুক ও ঝিনুক জন্মে থাকে। এসব মানুষ ও পশু-পাখির অন্যতম পুষ্টিকর খাদ্যও বটে। এর বাইরেও মুক্তাসহ ঝিনুকের খোসা থেকে চুন, গৃহসজ্জার উপকরণসমূহ তৈরি করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা পাঁচটি নতুন জাতের ধানবীজ উদ্ভাবন করেছেন। বর্তমান বিশ্বে ধান উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত সীমিত বদ্বীপ ভূখ-ে এটি একটি অভাবনীয় সাফল্য নিঃসন্দেহে। বাংলাদেশ এখন ধান-চাল উৎপাদনে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, বরং কিছু পরিমাণ উদ্বৃত্ত চাল রফতানিও করে। আর এর প্রধান কৃতিত্ব অবশ্যই বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ও কৃষকদের। লবণাক্তসহিষ্ণু মাটিতে ধানের চাষ করে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব দেশের দক্ষিণাঞ্চল, সুন্দরবন উপকূল, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, টেকনাফ ও সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায়। এর পাশাপাশি ঝিনুক ও মুক্তা চাষও সম্ভব।

ধানের পরই বাংলাদেশের অন্যতম অর্থকরী কৃষিপণ্য পাট। পাটের জেনোম তথা বংশগতির মানচিত্র উদ্ভাবন করে বাংলাদেশের কৃষি বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম ও তার দল তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সারা বিশ্বে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পাটের মেধাস্বত্ব তথা প্যাটেন্ট রাইট সুরক্ষার জন্য আবেদনও করেছে আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে। এই আবিষ্কার ও স্বত্বাধিকারের ফলে বাংলাদেশ উফশী ও উন্নত জাতের পাট উৎপাদনের পাশাপাশি অতি সূক্ষ্ম পাটতন্তু তৈরি করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় একচ্ছত্র প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হতে পারে। তবে এর জন্য চাই পাট নিয়ে আরও উচ্চ ও উন্নততর নিরন্তর গবেষণা এবং এর সঠিক ব্যবহার। পাশাপাশি এর জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্মত গবেষণাগারের বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, বাংলাদেশে বিজ্ঞান গবেষণার সুযোগ সীমিত এবং আর্থিক বরাদ্দও সীমিত। ফলে বাংলাদেশের প্রতিভাবান ও মেধাবী বিজ্ঞানীরা প্রায়ই উন্নত বেতন ও গবেষণার আকর্ষণে বাইরে চলে যান। সেক্ষেত্রে ধান-পাট, মৎস্য-ঝিনুক গবেষণা ইনস্টিটিউটের মতো সৃজনশীল গবেষণাগারে যারা কাজ করেন তাদের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা, প্রণোদনা নিয়ে আলাদাভাবে ভাবতে হবে সরকার তথা অর্থ মন্ত্রণালয়কে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকমানের বিজ্ঞান গবেষণণাগার স্থাপনে বাড়াতে হবে আর্থিক বরাদ্দ।