১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যবহার বেড়েছে দেশে- যাচ্ছে বিদেশেও

ব্যবহার বেড়েছে  দেশে-  যাচ্ছে বিদেশেও
  • ফুল চাষে অপার সম্ভাবনা

সমুদ্র হক ॥ দেশে ফুলের ব্যবহার বেড়েছে। ফুলের চাষও বেড়েছে। অনেক কৃষক এখন দানাদার শস্য আবাদের পাশাপাশি ফুলের চাষেও মনোযোগী হয়েছে। নার্সারির কয়েক মালিক জানালেন, বর্তমানে ফুলের ব্যবহার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। আগে বিদেশ থেকেও ফুল আমদানি করা হতো। বিদেশী ফুলের চাষ হচ্ছে। বর্তমানে দেশের ফুল রফতানি হচ্ছে।

বছর কয়েক আগে জাতীয় দিবস, বিভিন্ন দিবস, বিয়ে, জন্মদিন, বিয়ে বার্ষিকী, অভ্যর্থনা, ফেয়ারওয়েলসহ কিছু অনুষ্ঠানে ফুলের ব্যবহার ছিল। পারিবারিকভাবে ফুলের ব্যবহার ছিল কম। বর্তমানে এমন কোন অনুষ্ঠান বা আয়োজন নেই যেখানে ফুলের ব্যবহার হয় না। প্রিয়জনকে কোন কিছু উপহার দিতে গেলেও তার সঙ্গে ফুল এঁটে দেয়া হয়। ফুল দিয়ে ঘর ও অফিস সাজানো হচ্ছে। ফুল দিয়ে বন্ধু ও অতিথি বরণ বাধ্যবাধকতায় রূপ নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক একটি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক সেমিনারে বলা হয়েছে, বিশে^ ফুলের ব্যবহার ও চাহিদা বেড়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনের সঙ্গে মিল রেখে নানা রঙের, নানা ধরনের ও নানা বর্ণের ফুল ব্যবহার হয়। বাংলাদেশেও ফুলের ব্যবহারে এগিয়ে চলেছে। একটা সময় যশোর অঞ্চলের গোদখালিসহ কয়েকটি এলাকায় ফুলের চাষ হতো। নার্সারির সংখ্যা ছিল কম। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে ফুলের চাষ হচ্ছে। আগে বাণিজ্যিকভাবে রজনীগন্ধা ফুলের চাষ বেশি হতো। বর্তমানে রজনীগন্ধার সঙ্গে গোলাপ, সাদা গোলাপ, লাল গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডিওলাসসহ কয়েক ধরনের ফুলের চাষ হচ্ছে।

বগুড়ার অন্যতম সবুজ নার্সারির স্বত্ব¡াধিকারী অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বললেন, দেশে এখন জলজ ও মরুজ ফুলের চাষও হচ্ছে। দেশে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফুলের বেচাকেনা হচ্ছে। বগুড়ায় ফুল বেচাকেনার আলাদা মার্কেট গড়ে উঠেছে।

এক তথ্যে বলা হয়েছে প্রতি বছর বিশে^ ফুলের চাহিদা অন্তত ১শ’ বিলিয়ন ডলারের। ২০৩০ সালের মধ্যে এই চাহিদা ৫শ’ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। বিশে^ ১শ’ ৪৫টি দেশে ফুলের উৎপাদন ও বাণিজ্যিক চাষাবাদ হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ফুলের বাণিজ্যিক চাষ বেড়েছে। বাংলাদেশও এই যাত্রায় পা ফেলেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের এক সূত্রের খবর, দেশে বর্তমানে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হচ্ছে। এর বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে আরও অন্তত ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হচ্ছে। ফুলের চাষ ও বিপণনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত ৫ লাখ মানুষ জড়িত।

চায়না হর্টিকালচার বিজনেস সার্ভিসের সভাপতি হেইডি ওবারনেট এক প্রবন্ধে বলেছেন, এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জলবায়ু ও মাটির উৎপাদন গুণাগুণে বাংলাদেশ ফুল উৎপাদনের অপার সম্ভাবনার দেশে পরিণত হয়েছে অনেক আগেই। এখন শুধু প্রয়োজন ফুলের উৎপাদন বাড়িয়ে রফতানিমুখী করা।

বছর তিনেক আগেও বাংলাদেশ ফুল রফতানি করেনি। গেল অর্থবছরে (২০১৭-১৮) বাংলাদেশ থেকে ফুল রফতানির টার্গেট করা হয় ১৩ মিলিয়ন ডলারের। এক সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চ মাসে ১১ মিলিয়ন ডলারের ফুল রফতানি হয়েছে। আশা করা হয়েছে জুন মাসের মধ্যেই গৃহীত টার্গেট পূরণ হবে।

নার্সারির কয়েকজন মালিক জানালেন, ফুলের চাষাবাদ খাদ্য উৎপাদনের মতো সহজ নয়। নতুন চাষাবাদের প্রশিক্ষণ ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন। উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করলে তারা আগ্রহী হয়ে উঠবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ফুল সংরক্ষণের জন্য তাপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষায়িত হিমাগার দরকার। নার্সারি মালিকগণের কথা, অপার সম্ভাবনার এই খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারী সহযোগিতা এবং ফুলের চাষকেও শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা দরকার।