১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজও নিজেকে রাঙাবেন রোনাল্ডো?

আজও নিজেকে রাঙাবেন  রোনাল্ডো?
  • হ্যারি কেনের আলোয় উজ্জ্বল ইংলিশরা

জাহিদুল আলম জয় ॥ লিওনেল মেসি ও নেইমার না পারলেও বিশ্বকাপের শুরুতেই নিজেকে রাঙিয়েছেন সময়ের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। সবে তো শুরু, সামনে আরও লম্বা পথ। দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রফিও জিতে নিতে পারেন পর্তুগাল অধিনায়ক।

স্বপ্নময় এই পথ পাড়ি দিতে হলে প্রথমে উতরাতে হবে গ্রুপপর্বের বাধা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করা পর্তুগীজরা আজ সন্ধ্যা ৬টায় দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামছে। মস্কোয় মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথম জয়ের সন্ধানে মাঠে নামছেন সিলভা, পেপেরা। সব ছাপিয়ে ম্যাচে রোনাল্ডোর দিকেই থাকছে স্পটলাইট। কেননা প্রথম ম্যাচে চোখ ধাঁধানো হ্যাটট্রিক করেন ৩৩ বছর বয়সী এই তুখোড় ফরোয়ার্ড। ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিরুদ্ধে তিন গোল করায় মরক্কো ম্যাচেও সি আর সেভেনকে ঘিরে প্রত্যাশা করছে দল ও সমর্থকরা। তবে বারবার যে হ্যাটট্রিক হবে বা ভাল খেলা যাবে তেমন মনে করছেন না পর্তুগাল কোচ ফার্নান্ডো সান্টোস।

ম্যাচের আগে তিনি জানিয়েছেন, রোনাল্ডোর ওপর আমরা চাপ দিচ্ছি না। সে তার স্বাভাবিক খেলাই খেলবে। আগের ম্যাচে তিন গোল করেছে বলে মরক্কোর বিরুদ্ধেও এমন হবে এটা ভাবা ঠিক না। তবে রোনাল্ডো মুখিয়ে আছেন আবারও ঝলক দেখাতে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে চার আসরে গোল করার কৃতিত্ব দেখানো পর্তুগাল অধিনায়ক বলেন, আমি জানি ভক্তরা আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি তাদের বিমুখ করবো না। আমার সেরাটা দিয়েই দলকে জেতানোর লক্ষ্যে খেলব। স্পেনের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স প্রসঙ্গে রোনাল্ডো বলেন, ব্যক্তিগভাবে এটি একটি দারুণ রেকর্ড। এ জন্য আমি খুব খুশি। তবে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফেবারিটের তালিকায় থাকা একটি দলের বিপক্ষে দলীয় অর্জনটা।

মূলত ২০০৬ জার্মান বিশ্বকাপেই নিজের জাত চেনান রোনাল্ডো। ওই আসরে তার অসাধারণ নৈপুণ্যে ভর করে সেমিফাইনালে উঠেছিল পর্তুগাল। এছাড়া ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েছিল পর্তুগীজরা। ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে যা এখন পর্যন্ত সেরা অর্জন ইউরোপের ব্রাজিল খ্যাত দেশটির। এই সাফল্য ছাড়িয়ে যাওয়া মানে বিশ্বকাপ জয়। প্রথম ম্যাচে ভাল করার পর এই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে পর্তুগীজরা।

আগের ম্যাচে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে রোনাল্ডো করেছেন ক্যারিয়ারের ৫১তম হ্যাটট্রিক। গড়েছেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিকের রেকর্ডও। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইউরোপের ফুটবলার হিসেবে সর্বোচ্চ ৮৪টি গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। এতদিন এই কীর্তি ছিল শুধু হাঙ্গেরির ফেরেঙ্ক পুসকাসের। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় যুগ্মভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন রোনাল্ডো ও পুসকাস। রেকর্ডটি আজ এককভাবে নিজের করে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

রোনাল্ডোর মতো নিজেকে রাঙানোর লক্ষ্যে মাঠে নামছেন উরুগুয়ের তারকা লুইস সুয়ারেজ। ক্যারিয়ারে আজ তিনি ১০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামছেন সৌদি আরবের বিরুদ্ধে। উরুগুয়ের ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে তিনি গৌরবময় এই মাইফলক স্পর্শ করতে চলেছেন। ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে নিজের দুটি বিতর্কিত ঘটনাকে পেছনে ফেলে এবার নিজেকে পরিচ্ছন্ন খেলোয়াড় হিসেবে প্রমাণেরও প্রচেষ্টা সুয়ারেজের। গত চার বছরে অনেকখানিই নিজেকে শুধরেছেন, এবার তা প্রমাণ করা বাকি ভালভাবে বিশ্বকাপ শেষ করে। ৩১ বছর বয়সী সুয়ারেজ উরুগুয়ের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপে প্রথম খেলেছেন। সেবার পাঁচটি ম্যাচই খেলেন। তবে ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে ইনজুরির কারণে দলে থাকলেও প্রথম গ্রুপ ম্যাচে খেলতে পারেননি। আর শেষ গ্রুপ ম্যাচে ইতালির ডিফেন্ডার জিওর্জিও চিয়েল্লিনিকে কামড় দেয়ার কারণে ফিফা কর্তৃক নিষিদ্ধ হন।

এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সী অধিনায়ক ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন। ২৪ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ডের নেতৃত্বে ৫২ বছর পর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বুনছে ফুটবলের জনকরা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শুরুটাও হয়েছে প্রত্যাশিত। সবচেয়ে বড় কথা, প্রথম ম্যাচেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন অধিনায়ক। মূলত হ্যারি কেনের আলোয় জ্বলজ্বলে শুরু করেছে ইংলিশরা। তাকে ঘিরেই এবার অপবাদ ঘোচাতে মরিয়া ১৯৬৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। এতদিন বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ মানেই ছিল ইংল্যান্ডের হোঁচট। ২০০৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি তারা। এবার সেই গেরো খুলেছে কেনের নৈপুণ্যে। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের পারফর্র্মেন্স নিয়ে কেন বলেন, আমরা একে অন্যের জন্য গর্ববোধ করি। বিশ্বকাপে আপনি কিছুই নিশ্চিত থাকতে পারবেন না। গত কয়েক বছরে প্রথম ম্যাচটা খুবই কঠিন ছিল। মনে হচ্ছিল, এবারও তেমনটা হবে। তবে আমি আগেই যেমন বললাম, আমাদের মধ্যে দারুণ ঐক্য আছে। আমরা একে অন্যের সঙ্গে টানা কথা বলতে থাকি, এভাবেই একে অন্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকি। আমরা কখনও আতঙ্কিত হইনি।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছে স্পেন। এ জন্য ম্যাচের শুরুর দিকেই গোল করতে চান দলটির অন্যতম সেরা তারকা ইস্কো। এ প্রসঙ্গে স্প্যানিশ তারকা বলেন, এটি কঠিন একটি ম্যাচ হতে চলেছে। যেটা আমাদের বিশ্বকাপ ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে। আমরা ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই গোল করার চেষ্টা করব। যদিও এটা সহজ হবে না।