১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গরিবের হক

কল্যাণকামী সরকার সামাজিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দরিদ্র জনসাধারণের কাছে প্রধান খাদ্য পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিয়ে থাকে। অথচ মাঝখান থেকে লোভী কিছু মানুষের জন্য তা ভন্ডুল হতে বসে। ঈদের আগে ভিজিএফের চাল নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। জনকণ্ঠের প্রতিবেদনে বিশদ চিত্র উঠে এসেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিজিএফের চাল আটক, ইউপি চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর অবরুদ্ধ এবং অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে বৃহস্পতিবার লালমনিরহাট জেলা সদরের মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নে বিক্ষুব্ধ জনতা ইউপি চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের চার হাজার ৬১৫ পরিবারের জন্য সরকারের দেয়া ঈদের বিশেষ ভিজিএফের ১০ কেজি করে চাল ঈদের আগে পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় সন্ত্রাসী হামলা, ভাংচুর ও ১০ বস্তা চাল লুট হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাসহ বেশ কিছু এলাকার দুস্থদের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচীর আওতায় বরাদ্দ দেয়া বিপুল পরিমাণ চাল স্থানীয় ব্যবসায়ীদের গুদাম থেকে জব্দ করা হয়েছে। এগুলো কিভাবে ব্যবসায়ীদের গুদামে গেল? নিজের গা বাঁচাতে অপরাধীরা তো বলবেই যে, তারা ঠিকই চাল বিতরণ করেছে; কিন্তু যাদের দেয়া হয়েছে তারা বিক্রি করে দিয়েছে। আর অভীষ্ট লোকজনের বক্তব্য, প্রাপ্য বরাদ্দ থেকে কম চাল দেয়া হয়। মাথাপিছু বরাদ্দ ১০ কেজি চাল। নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাচুড়ী ইউনিয়নে বরাদ্দের এ পরিমাণের চেয়ে কম চাল বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু চাচুড়ীতে নয়, দেশের আরও অনেক ইউনিয়ন পরিষদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে কম চাল দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সরকারের কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। সরকারী বরাদ্দের নয়ছয় করা, অভীষ্ট জনগোষ্ঠীকে ঠিকমতো প্রাপ্য বুঝিয়ে না দেয়া, প্রাপ্য বিতরণের বিনিময়ে টাকা দাবি করা, বরাদ্দের চাল-গম খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয়াÑ এমন অভিযোগ বিস্তর। দশকের পর দশক ধরে এ অপকর্ম চলছে। টিআর, কাবিখা, ভিজিএফ প্রভৃতি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচী স্থানীয় সরকারের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের সামাজিক কর্মসূচীর মূল বাস্তবায়ন-সহযোগী স্থানীয় সরকার তথা ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা পরিষদ। মূলত ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমেই এ ধরনের কর্মসূচী ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ যথাযথ বা সুষ্ঠুভাবে কাজ করে না। সরকারী বরাদ্দের চাল-গম গিয়ে ঢোকে ব্যবসায়ীদের গুদামে। ভিজিএফের চাল নিয়ে এ ধরনের অনিয়ম রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গরিবের হক মারার এই সর্বনাশা সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। জনপ্রতিনিধির কাজ হচ্ছে জনতাকে সেবা প্রদান, তাদের হক আত্মসাত করা নয়। তাই এমন অপকর্মের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শাস্তিই প্রাপ্য। কোন করুণা নয়, শাস্তি নিশ্চিত করুন।