১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সুরক্ষিত গণতন্ত্র ও অর্থনীতি

শনিবার গণভবনে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে সর্বস্তরের পেশাজীবী ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন তা সবিশেষ প্রণিধানযোগ্য। বাস্তবতা এটাই যে, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে। অন্যদিকে গণতন্ত্রও সুপ্রতিষ্ঠিত। গত কয়েক বছর ধরেই জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৫-এর ওপরে। ইতোমধ্যে গার্মেন্ট রফতানিসহ সার্বিকভাবে রফতানি আয় বেড়েছে। প্রবাসী আয়ও বেড়েছে আশাব্যঞ্জক হারে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণও সন্তোষজনক। দেশের এই ক্রমবর্ধমান উন্নতি জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংকসহ উন্নত অনেক দেশ কর্তৃক প্রশংসিতও হয়েছে ইতোমধ্যে। এর জন্য উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মিলেছে স্বীকৃতি। পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে চলেছে আশাব্যঞ্জক গতিতে। জ্বালানি ও বিদ্যুত উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে বাংলাদেশ। এগিয়ে চলেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্রসহ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কাজ। এগুলো বাস্তবায়িত হলে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চক্রমণ করছে ভূপৃষ্ঠের কক্ষপথ। দেশের মানুষ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারের সুফল ভোগ করছে অনেকাংশে। শিক্ষার হারসহ মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। তবে এসবের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। ২০২১ সালের মধ্যে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। তবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে যে কোন মূল্যে গণতন্ত্রকে আরও সংহত ও শক্তিশালী করতে হবে। আশার কথা এই যে, বাংলাদেশে উন্নয়ন ও গণতন্ত্র হাত ধরাধরি করে চলছে। সর্বস্তরের মানুষের জন্য নাগরিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সর্বোপরি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনসহ ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যা গণতন্ত্রকে করেছে টেকসই এবং উন্নয়নকে করেছে নিশ্চিত।

সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের ২০১৮ সালের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দাতা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সময়মতো অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক যে, বাংলাদেশ জাতিসংঘ নির্দেশিত মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) সফলভাবে বাস্তবায়ন করে এগিয়ে যাচ্ছে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) বাস্তবায়নের দিকে। টেকসই অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এর পাশাপাশি পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া মোকাবেলায় প্রণোদিত আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থা যাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উন্নয়নে আরও বেশি অবদান রাখতে পারে সেদিকে আরও মনোযোগ দিতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। দেশে বর্তমানে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন হাত ধরাধরি করে চলছে বিধায় বাংলাদেশ এই দাবি করতেই পারে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে বিনিয়োগের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি ও প্রতিবন্ধকতাগুলোকে দূর করতে হবে পর্যায়ক্রমে। ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা-অনিশ্চয়তা, ওয়ানস্টপ সার্ভিস না পাওয়া, উচ্চ করহার, অবকাঠামোগত সমস্যা, জমির সমস্যা, সর্বোপরি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ না থাকা ইত্যাদি মূল প্রতিবন্ধক। তবে আশার কথা এই যে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ধীরে সুস্থে হলেও সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কয়েকটি সরকারী সংস্থাকে সমন্বয় ও একীভূত করে ওয়ানস্টপ সার্ভিস প্রতিষ্ঠাসহ ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এর অন্যতম। পাশাপাশি বাংলাদেশের আগামীর অমিত সম্ভাবনা হলো সুবিস্তৃত বঙ্গোপসাগরের ‘ব্লু ইকোনমি’ বা সমুদ্র সম্পদ অর্থনীতি। আগামীতে সমুদ্রেই বাংলাদেশের অর্থনীতির সমূহ সম্ভাবনা সমুজ্জ্বল। গভীর সমুদ্রবন্দরের অবকাঠামোসহ জাহাজ নির্মাণ শিল্পের যথাযথ অগ্রগতি সাধিত হলে বিপুল জনসংখ্যাধিক্যের দেশে সহজলভ্য শ্রম এক্ষেত্রে প্রভূত সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।