১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চীনের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য

চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কার বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বুধবার থেকে বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-চীন যৌথ সমীক্ষা গ্রুপের দু’দিনব্যাপী বৈঠকটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক যে, বর্তমানে শুধু চীনের সঙ্গেই নয়, বরং কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাবাণিজ্য নিয়ে নানাবিধ টানাপোড়েন চলছে। এ অবস্থায় বর্তমান বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনও যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর দিকে দৃষ্টি সম্প্রসারণ করবে তাতে আর বিচিত্র কী। বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য তথা এফটিএ হলে স্বভাবতই চীনের লক্ষ্য হবে এ দেশে রফতানি বাড়ানো। তাতে বাংলাদেশ কিছুটা বেকায়দায় পড়তে পারে। কেননা, ভারতের মতো চীনের সঙ্গেও বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। সে অবস্থায় নতুন করে এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যাতে এই ঘাটতি আরও বেড়ে যায়। তাতে দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তা ও পণ্য উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। দেশীয় ব্যবসায়ীরা এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। সে অবস্থায় বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হওয়া উচিত চীন থেকে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ বাড়ানো। পদ্মা সেতু, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত প্রকল্পসহ চীন ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে কয়েকটি মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে, আগামীতে এ ক্ষেত্রে চীন হতে পারে আরও আকর্ষণীয় অংশীদার। পিপিপিতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সুযোগ দেয়া যেতে পারে চৈনিক উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের। চীনের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে বাংলাদেশ পক্ষকে। তা না হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষিত হবে না।

ইতোমধ্যে চীন বাংলাদেশে বিদ্যুত, জ্বালানি, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তিসহ অবকাঠামো খাতে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি বা ২৪ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করতে সম্মত হয়েছে। এর আওতায় দু’দেশের সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পটুয়াখালীর পায়রায় এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণাধীন। এক হাজার ২২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মিত হবে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বেসরকারী শিল্প উদ্যোক্তার সঙ্গে। এর বাইরেও চীন কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেল নির্মাণ, ছয়টি জাহাজ ক্রয়, রাজধানী ঢাকার পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ পোশাক, ওষুধ ও চামড়া শিল্পে বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।

বাংলাদেশের নিজ উদ্যোগে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুসহ নানা প্রকল্পে চীন ইতোমধ্যে কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। সোনাদিয়া ও পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণেও চৈনিক সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনাধীন। এর বাইরেও বাংলাদেশ চীনের প্রেসিডেন্টের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ বা ওবোর নামে পরিচিত উন্নয়ন কৌশল ও রূপরেখায় সংযুক্ত হতে পারে। এই উদ্যোগে শামিল হলে চীনের সরকারী তহবিল থেকে স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যায়। সড়ক ও সমুদ্রপথে ঐতিহাসিক ‘সিল্ক রুটের’ পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশ শরিক হলে এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণসহ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি যে নতুন যুগে প্রবেশ করবে তাতে সন্দেহ নেই। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়- বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সেই প্রেক্ষাপটে দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীন ও ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজের অবস্থান সুদৃঢ় ও সংহত করতে পারে।