১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এমবাপের গোলে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স, পেরুর বিদায়

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। এবার পেরুকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। ৩৪ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপের করা গোলে জিতেছে ফ্রান্স। এই জয় পেয়ে ‘সি’ গ্রুপ থেকে প্রথম দল হিসেবে ‘শেষ ষোলো’য় জায়গা করে নিয়েছে হুগো লরিসের দল। স্বাগতিক রাশিয়া, উরুগুয়ের পর তৃতীয় দল হিসেবে ফ্রান্স ‘শেষ ষোলো’য় স্থান করে নিল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্স। অধিনায়ক হুগো লরিস ১০০তম ম্যাচ খেললেন। ক্যারিয়ারের এমন সুন্দর মুহূর্ত আরও রঙিন হয়ে গেল।

ইয়েকাটেরিনবার্গের সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে ফ্রান্স ও পেরুর মধ্যকার ম্যাচটিতে দুই দলই চাপ তৈরি করে। দুই দলই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে। তবে ফ্রান্সের দখলেই বেশিরভাগ সময় বল থাকে। সুযোগ বুঝে পেরু পাল্টা আক্রমণ চালায়। পগবা, গ্রিজম্যান, এমবাপেরা অবশ্য ক্রমাগত আক্রমণ চালাতে থাকেন। শুধু গোলই হচ্ছিল না। গুয়েরেরো, ফারফান, সান্তামারিয়ারাও পাল্টা আক্রমণ চালাতে থাকেন। ৩১ মিনিটে পেরুর পাওলো গুয়েরেরো সুন্দর শট নিয়েছিলেন। কিন্তু গোলরক্ষক লরিস বাঁচিয়ে দেন। চলতে থাকে আক্রমণ। পাল্টা আক্রমণ। খেলায় পুরো গতি মেলে। ৩৪ মিনিটে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।

কিলিয়ান এমবাপে গোল করে এগিয়ে দেন ফ্রান্সকে। মাঝ মাঠে বল হারায় পেরু। গিরদ-পগবা মিলে এগিয়ে যান পেরুর রক্ষণের দিকে। গোল বক্সে ঢুকে পড়ে বাঁ দিক দিয়ে গিরদ চমৎকারভাবে বলটাকে তুলে দিলেন। এমবাপে ছিলেন সেখানে। গোলরক্ষক পজিশন হারিয়েছেন। গোলমুখের ঠিক ডানে পায়ের হালকা ছোঁয়ায় বলটাকে জালে জড়িয়ে ফরাসীদের উৎসবে মাতান এমবাপে। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। প্রথমার্ধ ১-০ গোলেই শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে পেরুর খেলায় গতি আরও বেড়ে যায়। একটা সময় গিয়ে ফ্রান্সের চেয়েও বেশি আক্রমণ, ফ্রান্সের চেয়েও বেশি বল দখলে রাখেন পেরুর ফুটবলাররা। কিন্তু কোন কিছুই কাজে লাগছিল না। ডি বক্সে গিয়েই দম ফুরায় ওদের। দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে ফ্রান্স একটু রক্ষণাত্মকও খেলা শুরু করে। সুযোগে গুয়েরেরো, ফারফান, সান্তামারিয়ারা আক্রমণ করতে থাকেন। তা প্রতিহতও হতে থাকে। রক্ষণদুর্গে লুকাস, উমতিতি, ভারানে, পাভার্ডরা প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। ২৫ গজ দূর থেকে শুধু বার লক্ষ্য করে বলে শট করতে থাকেন পেরুর ফুটবলাররা। বল বারের ওপর দিয়ে, গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে যেতে থাকে। ৭৫ মিনিটে পেরু একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। কারিলো ডান দিক থেকে বাঁ দিকে ডি বক্সের দিকে থাকা ফারফানের উদ্দেশে শট নেন। ফারফানের পায়ে বল পড়তেই বার মুখে শট নেন। কিন্তু বল বারের বাইরে চলে যায়।

এমবাপেকে বসিয়ে নামানো হয় ডেমবেলেকে। ডেমবেলেকে ৮১ মিনিটে গোল করার একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন। ফ্রান্সের আর এগিয়ে যাওয়াও হয়নি। এমবাপে, গ্রিজম্যান, পোগবাকেও শেষ মুহূর্তে বসিয়ে দেয়া হয়। এরপরও পেরু একটি গোল বের করতে পারেনি। ফ্রান্সের রক্ষণদুর্গের যে প্রাচীর তা ভাঙ্গতে পারেনি। এই জয়টি পেয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে এখন ফ্রান্স। দুই ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট পেয়েছে তারা।

ফ্রান্স ও পেরুর মধ্যকার এর আগে ১৯৮২ সালে, ৩৬ বছর আগে একবারই লড়াই হয়েছিল। ম্যাচটি জিতেছিল পেরু। এবার বিশ্বকাপের মতো আসরে জয়টি তুলে নিল ফ্রান্সই। বিশ্বকাপে পেরু যে অনেক অভিজ্ঞ দল ফ্রান্স। ফ্রান্স ২১ বারের বিশ্বকাপের মধ্যে ১৫ বারই অংশ নিয়েছে। আর পেরু ছয়বার খেলেছে। ফ্রান্স ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়াসহ রানার্সআপ একবার, সেমিফাইনাল ও কোয়ার্টার ফাইনালে একাধিকবার খেলা দল। পেরু ১৯৭০ সালে যে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে, সেটিই তাদের ফুটবল ইতিহাসের বড় অর্জন।

স্বাভাবিকভাবে এবারের বিশ্বকাপে ফেবারিট দল ফ্রান্সের সঙ্গে পেরুর কুলিয়ে উঠতে পারার কথা নয়। যে দলে পগবা, গ্রিজম্যান, এমবাপে, হার্নান্দেজ, কান্তে, মাতুইদিদের মতো তারকা ফুটবলার আছেন। তাদের সঙ্গে লড়াই করাটাই তো অনেক! পেরু সেই চেষ্টা করেছেও। কিন্তু কাজ হয়নি। ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে নেমে দুই ম্যাচ খেলতেই বিদায় হয় পেরুর। ডেনমার্কের পর ফ্রান্সের কাছে হেরে, টানা দুই ম্যাচ হেরে বিদায় হয় পেরুর। পেরুকে বিদায় করে দিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ‘শেষ ষোলো’য় পা দেয় ফ্রান্স।