১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরপেক্ষ ভূমিকার জন্য গ্রহণযোগ্য অবস্থানে রয়েছে নির্বাচন কমিশন

  • সেমিনারে বক্তাদের অভিমত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বর্তমানে নির্বাচন কমিশন তার শক্তিশালী কাঠামো এবং নিরপেক্ষ ভূমিকার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনসমূহে কমিশন তা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রার্থীরা সমানভাবে প্রচার চালানোর সুযোগ পেয়েছেন। ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছেন। বস্তুত বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব যা ইতোমধ্যে প্রমাণিত। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদসহ অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনেও সকল দলের প্রার্থীর জন্য একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হবে তা এখন একটি অবশ্যম্ভাবী ব্যাপার।

বুধবার রাজধানীর সিরডাপ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘নির্বাচন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ শীর্ষক একটি সেমিনারে আলোচকরা এসব কথা বলেন। সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন এবং সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ওয়ালিউর রহমান। সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রধান অতিথি ও সংসদ সদস্য শিরিন আক্তার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও তৃণমূল-বিএনপির চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফীন সিদ্দীক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, শিক্ষক, গবেষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা এবং সমাজ সচেতন নাগরিকসহ দেশের অন্যান্য বরেণ্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি তো কখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করেনি। বর্তমানে সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাবান। তাই নির্বাচন নিয়ে সংশয়ের কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার প্রধান থাকবেন এবং নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবেন। তিনি সবাইকে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ওয়ালিউর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আমরা ‘নির্বাচন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বিষয়ে পর্যায়ক্রমে যতটুকু উন্নতি সাধন করতে পেরেছি তা অনেক ক্ষেত্রেই আলোচনায় স্থান পায় না বা স্বীকার করা হয় না। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন তার শক্তিশালী কাঠামো এবং নিরপেক্ষ ভূমিকার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনসমূহে কমিশন তা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রার্থীরা সমানভাবে প্রচার চালানোর সুযোগ পেয়েছে। ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছে। অন্যদিকে নির্বাচন সম্পর্কে বিএনপির সব সময় একটা নেতিবাচক চিন্তা কাজ করে। ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার পরও তারা এমন অভিযোগ করে যার কোন ভিত্তি নেই। বস্তুত বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব যা ইতোমধ্যে প্রমাণিত। সুতরাং আসন্ন জাতীয় সংসদসহ অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনেও সকল দলের প্রার্থীর জন্য একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হবে তা এখন একটি অবশ্যম্ভাবী ব্যাপার। সংসদ সদস্য শিরিন আক্তার বলেন, যারা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে না তাদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেয়া উচিত না। ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ কখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পায়নি। বর্তমানে উন্নয়ন এবং যোগ্য নেতৃত্ব দেখে মানুষ ভোট দিচ্ছে। নাজমুল হুদা বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্বাহী ক্ষমতা দেয়া হয় যা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের পথে অনেক বড় পদক্ষেপ।