১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাহাড়ী ভাতার মতো হাওড় ভাতা চালুর উদ্যোগ

তপন বিশ্বাস ॥ পাহাড়ী ভাতার মতো দুর্গম হাওড় অঞ্চলে কর্মরত সরকারী কর্মচারীদের জন্য হাওড় ভাতা চালুর কাজ করছে সরকার। প্রণোদনামূলক এই ভাতা প্রদানের বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি কাজ করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমিটিতে আহ্বায়কের দায়িত্বপালন করছেন। জানা গেছে, জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০১৭-এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাওড় এলাকায় কর্মরত সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছেন সরকার। তবে সর্বশেষ জেলা প্রশাসক সম্মেলনে কিশোরগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ আজিমুদ্দিন বিশ্বাস হাওড় ভাতা চালু করার জন্য একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর আগে হাওড় অঞ্চলে কর্মরত অন্যান্য জেলা প্রশাসকরাও হাওড় ভাতা চালু করার জন্য একাধিকবার দাবি জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের এই দাবির প্রেক্ষিতে এবার তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব বলেন, পাহাড়ী ভাতার মতো প্রণোদনামূলক হাওড় ভাতা প্রচলনের জন্য কাজ চলছে। এ বিষয়টি যাচাই-বাছাই কমিটির সভায় প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হবে। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এই প্রস্তাব প্রেরণ করা হবে। জনপ্রশাসন কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন এই ভাতা চালুর প্রয়োজন রয়েছে তাহলে ওই প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। অর্থ মন্ত্রণালয় যদি সম্মতি দেয় তাহলে এই ভাতা চালু হবে। এর মধ্যে কেউ যদি মনে করেন এই ভাতার কোন প্রয়োজন নেই তাহলে চালু নাও হতে পারে। বাংলাদেশের হাওড় ও পাহাড়ী এলাকা অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশি অনুন্নত। দুর্গম এসব এলাকায় নাগরিক সুবিধা বলতে কিছুই নেই। তবে বিদেশী সংস্থাগুলোর কড়া নজরদারির ফলে পাহাড়ী এলাকায় এখন শিক্ষার আলোসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা কিছুটা বেড়েছে। শিক্ষা, চাকরি ও ভূমিসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পাহাড়ীরা আদায় করে নিয়েছে। কিন্তু হাওড় অঞ্চলের মানুষ এখনও এসব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে এ সুযোগ হাওড়েও সম্প্রসারণে দাবি দীর্ঘদিনের।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, হাওড় ভাতা চালু হলে দেশের সাতটি জেলার সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই ভাতা পাবেন। কারণ, হাওড় অঞ্চল হিসেবে ধরা হয় সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা জেলাকে। উল্লেখ্য, হাওড় মূলত বিস্তৃত প্রান্তর, অনেকটা গামলা আকৃতির জলাভূমি যা প্রতিবছর মৌসুমি বৃষ্টির সময় পানিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সমগ্র বর্ষাকাল জুড়ে হাওড়ের পানিকে সাগর বলে মনে হয় এবং এর মধ্যে অবস্থিত গ্রামগুলো দ্বীপ বলে প্রতীয়মান হয়। বছরের সাত মাস হাওড়গুলো পানির নিচে অবস্থান করে। শুষ্ক মৌসুমে অধিকাংশ পানি শুকিয়ে গিয়ে সেই স্থানে সরু খাল রেখে যায় এবং শুষ্ক মৌসুমের শেষের দিকে সম্পূর্ণ শুকিয়ে যেতে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে হাওড়ের পুরো প্রান্তর জুড়ে ঘাস গজায়, গবাদি পশুর বিচরণক্ষেত্র হয়ে উঠে। হাওড়ে আগত পানি প্রচুর পলিমাটি ফেলে যায় যা ধান উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বাংলাদেশে প্রায় ৪০০টি হাওড় রয়েছে। হাওড়গুলোকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। পাহাড়ের পাদদেশে বা পাহাড়ের কাছাকাছি অবস্থিত হাওড়, প্লাবিত এলাকার হাওড়, গভীর পানিতে প্লাবিত এলাকার হাওড়। সবচেয়ে বেশি হাওড় রয়েছে সিলেট বিভাগে।