১৭ জুলাই ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাগিনীরা ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস

কি হচ্ছে এসব? সামাজিক মিডিয়ায় চোখ রাখা দায়। ছাত্রলীগ অথবা ছাত্রলীগের নামে এই তান্ডব আওয়ামী লীগকে কোথায় নিয়ে যাবে কেউ খেয়াল করছে আদৌ? এমন তো কথা ছিল না। দেশ শাসন আর অপশাসন এক বিষয় না। শেখ হাসিনাকে বাদ দিলে বাকিদের কথা কাজে মানুষ অতিষ্ঠ। ছাত্রলীগের গৌরব এখন কথার কথা। এটা স্পষ্ট প্রশাসন আর বাহিনীর জোরে এই হাল। কিন্তু আমাদের ইতিহাস কি বলে? জোর জবরদস্তি বা এ জাতীয় আচরণ কারও জন্য সুখকর হয়নি। কোটা প্রথা বাতিল করা একটি বিতর্কিত বিষয়। এ নিয়ে সরকারপ্রধানও মুখ খুলেছেন। তবু কেন এই জট? কেন এই মারমুখী আচরণ? একটা বিষয় স্পষ্ট ইন্ধন আছে। আমাদের রাজনীতির এটাই বৈশিষ্ট্য। দেশের অপরাজনীতি মাঠে সুবিধা করতে না পারায় আমাদের সন্তানদের দিয়ে হয়ত এমন কাজ করাচ্ছে। এক ধরনের সুবিধাবাদ আর আগ্রাসী গোষ্ঠী সরকারকে বিপদে ফেলতে চাইছে এটা মেনেই বলি তার মানে এই না সরকারী দলের ছাত্ররা যা খুশি তাই করবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার পেছনে কোন বীরত্ব নেই। বরং আমার ধারণা এতে সরকার ও তাদের ভোট ব্যাংক পড়বে মহাবিপদে। সেটা বিবেচনায় না রাখলে বিপদ এড়ানো যাবে না।

জানি না কারা কি করে বা কেন করে, তবে এটা বুঝি এই আন্দোলন বা আন্দোলনের নামে যে উত্তেজনা তাতে ঘি ঢালছে সরকারী দলের ছাত্র সংগঠন। যারা বলছেন দেশ ডিজিটাল বা দেশ এগুচ্ছে তাদের কাছে এমন মধ্যযুগীয় আচরণ কিভাবে আশা করবে জনগণ? সবাই যার যার জায়গা থেকে শক্তি দেখানোর জন্য মরিয়া। সে ফাঁকে মরণফাঁদ তৈরি হয় অজান্তে। আওয়ামী লীগ যতই বলুক সরকারে থেকে জননন্দিত হওয়া মুখের কথা নয়। এটা বুঝতে পারলে দলের পাশাপাশি রাজনীতির ও মঙ্গল হতো। সে বিষয়টা মাথায় না রেখে তারা করছে পেশীর বন্দনা : এই পেশী শক্তি যে কি ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে তার নমুনা ষড়যন্ত্রেই স্পষ্ট। এত উন্নয়ন বা অগ্রগতির পরও আমাদের দেশে থাকা বিদেশী রাজদূতের কথা শুনেছেন?

দেশ যখন আগুয়ান তখন নানা বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। সেই মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে এই বড় দেশটি নানা ছকে নানা ছলে আমাদের বিরোধিতা করে আসছে। তখন আমরা কিশোর। গডফাদার থেকে দানবে পরিণত হওয়া নিক্সন, কিসিঞ্জারদের আমরা ঘৃণা করতাম। কারণ তারা বাংলাদেশ জন্ম নিক এটাই চায়নি। লাখো মানুষের জীবন নাশ, নারীদের ইজ্জত লুট ও মাটির সঙ্গে বেইমানি করা ইয়াহিয়া ও ভুট্টরাই ছিল তাদের পেয়ারা দোস্ত।

তাদের মুখে ছাই দিয়ে স্বাধীন হওয়া দেশে তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীনকে দুশমন বানিয়ে নানা ষড়যন্ত্র আর বিপদ টেনে আনতে লাগল। সবাই জানি মীরজাফর মোশতাক ও খুনীদের জন্য কতটা পাগল ছিল তারা। সে সময়কার ইত্তেফাক ও তার সম্পাদক মঈনুল হোসেনই তার প্রমাণ। এদের শক্তি ছিল এই মুরব্বি দেশ।

এই সেদিনও তাদের বিদেশ মন্ত্রী নাক গলিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি রহিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা ভুলে গেছিল এই দেশকে এখন তলাবিহীন ঝুড়ি বলে না কেউ। বরং ঝুড়ি উপচে পড়া দেশ হতে চলেছে বাংলাদেশ। জন কেরির আহাজারিকে পাত্তাই দেননি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। সে জুতার বাড়ি খাওয়ার পরও তাদের শরম লাগেনি। শুধু সরকার বলে না তাদের রাজনীতিতে বিরোধী দলেও বাংলাদেশ বিষয়ে ঝামেলা আছে। কোন কারণ ছাড়াই হিলারি ক্লিনটন ব্যক্তিগত বন্ধুত্বকে পুঁজি করে তার সুবাদে নাকি হাসিনা বিরোধী। শোনা যায় তাঁকে জিতিয়ে আনার জন্য বড় অঙ্কের চাঁদা দিয়েছিল ড. ইউনূসের তহবিল। লাভ হয়নি। এত কিছুর পরও তারা হাল ছাড়েনি। সে দেশের রাজদূতরা বিশেষত ড্যান মজিনা দেশে হয়ত পাত্তাই পায় না, বাংলাদেশে জামাই আদর পেয়ে মাথায় উঠে গিয়েছিল। রিক্সাচালক থেকে নেতা হওয়ার মতো অরাজদূতীয় কাজ শেষ করে পরে পাততাড়ি গুটিয়ে ফিরতে হয়েছিল তাকেও।

এবার মাঠে নেমেছেন দূত বার্নিকাট। দেশের একটি অতি সাধারণ কর্পোশনের নির্বাচন নিয়ে তাঁর কথা শুনে মনে হবে তিনিই চালাবেন এই দেশ। যদি সে নির্বাচনে কোন অসততা থাকেও তিনি বলার কে? আর কোন যোগ্যতায় তিনি নিরূপণ করবেন জনভোট? এ জন্য দায়ী রাজনীতি। এখন নিজেদের গায়ে লাগছে বলে আওয়ামী লীগ কথা বলছে। এক সময় তারাও এদের করুণা চাইত। আর বিএনপি তো মনে করে পাক-আমেরিকা তাদের প্রভু। তারা ক্ষমতার জন্য এতটাই বেপরোয়া দুশমন ভারতের পা ধরতেও আপত্তি নেই।

বড় কথা আত্মসম্মান বড় বিষয় আত্মমর্যাদা। সে জায়গাটা ঠিক না হলে আমেরিকা বা বড় দেশের রাজদূতরা নিজেদের অভিভাবক মনে করবেন। দেশে নানাভাবে নানা অজুহাতে তাদের ভজনাও বন্দনা দেখে মনে হয় তারাই আমাদের খাওয়ায় পরায়। কেন এই মনোভাব? এটা দূর করতে না পারলে এমন নাক গলানো কখনও বন্ধ করবে না।

আমরা ময়লার ভাগাড় ওপেন করে রাখলে তারা গন্ধ শুঁকবেই। ফলে এখনই সময় নিজেদের বিশ্বাস ও শক্তি নিয়ে চলার। বার্নিকাটদের বুঝিয়ে দেয়ার আমরাই আমাদের রক্ষক। কোন ফোঁপর দালালির দরকার নেই। নিজের সম্মান ও অধিকার নিয়ে থাকুন। নিজের দেশের স্কুল শূটিং মিডিয়ায়গুলো নিয়ে ভাবুন। আমাদের দেশ আমরাই ভাবব আমাদের নিয়ে।

দেশের পরিস্থিতি আসলে বাইরে এক আর ভেতরে আরেক। ভেতরে ভেতরে অনেক কিছু হচ্ছে। সবাই জানে কিন্তু মুখ খোলে না। শেখ হাসিনা না থাকলে দেশের কি হতে পারে সে বাস্তবতা যারা অনুমান করতে পারেন তাদের আমার মতো যাওয়ার কোন জায়গা নেই। তাই নীরবে হজম করি আমরা। মানুষের হজম শক্তিও কিন্তু সীমিত। ফলে দল ও সরকার যদি এখনই সাবধান হতে না পারে তো তাদের অমঙ্গল ঠেকানো যাবে না। তারা কি জাতি ও নিজেদের স্বার্থে সাবধান হবেন আদৌ?