১৭ জুলাই ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুখোশের আড়ালে

অন্য পেশার আড়ালে ছিনতাইয়ের মতো কুকর্মটি যে বেশ ডালপালা বিস্তার করেছে এই রাজধানীতে তার সবিস্তার বিবরণ মিলল র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে। উত্তরা থেকে র‌্যাব ছিনতাইকারী চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে, তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু ঢাকাবাসীই নয়, ছিনতাইকারীদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে সব জেলারই মানুষ। যদিও ঢাকায় ছিনতাইয়ের মাত্রা বেশি। এমন কোন সড়ক পাওয়া যাবে না যেখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। তবে এটাও ঠিক যে, কোন কোন এলাকা অনেকটা অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারীদের কাছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা সব জানলেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে অপারগ থাকে।

মানুষ শ্রম ও মেধা দিয়ে অর্জন করবে, আর ছিনতাইকারীরা রাস্তায় ওঁৎ পেতে থেকে সে সব ছিনিয়ে নেবে! এ ব্যাপার চলে আসছে যুগের পর যুগ ধরে ‘এই রাজধানীর বহু রাস্তায়। পরিস্থিতির উন্নতি হবে কী! বরং অবনতিই ঘটে চলেছে। আপনি থানায় যান ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিয়ে, পুলিশ মামলা নেবে না। ছিনতাইয়ের মামলা তারা নেয় না, চুরিটুরির অভিযোগ নথিবদ্ধ করে বটে। কিন্তু ছিনতাইয়ের মামলা নেয়ার ব্যাপারে তাদের ভীষণ এলার্জি। পথচারীরাও আজকাল ছিনতাইকারীর পেছনে দৌড়ায় না। লাভ নেই কোন। ছুরিকাঘাতে কিংবা ককটেল বিস্ফোরণে আহত কিংবা নিহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। সমকালীন একটি উপন্যাসে আছে, একেবারে ছিঁচকে দুই ছিনতাইকারী অফিসফেরতা এক ভদ্রলোকের পথ আগলে তার কাছ থেকে বিশেষ কিছু না পেয়ে মজা করেই, বলা যায় খেলাচ্ছলেই পেটের গভীরে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। কত তুচ্ছ কারণে অপমৃত্যু! এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ এখন নগরবাসীর জীবন! আপনি বলবেন, এ তো উপন্যাসে হয়। আমরা বলব, আসলে এসব বাস্তবেই হচ্ছে। এই রাজধানীতেই। কত রকম উপায়েই না ছিনতাই হচ্ছে। মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি এমন কত রকম পার্টি অভিধানে জায়গা করে নিচ্ছে। অস্ত্র ঠেকিয়েও চলছে ছিনতাই। এই যে মোটরসাইকেল নিয়ে একটা চেনা রাস্তায় সেদিন ছিনতাইয়ের সংবাদ এলো কাগজে। এটি কি প্রথম হলো এই সড়কে? ওই দুই যুবকের কি প্রথম দিন ছিল ছিনিয়ে নেয়ার ‘পেশায়’? ছিনতাই অহরহই হচ্ছে। একই রাস্তায় হচ্ছে এবং নতুন নতুন লোক এই পেশায় যুক্ত হচ্ছে। এ নিয়ে সাংবাদিকদের লিখতেও হয়ত বিরক্ত লাগে।

অপরের জিনিস বল ও জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়া আর যা-ই হোক কোন পেশা হতে পারে না। তথাপি এই কুকর্মকে পেশা হিসেবে নিয়ে পেশাদার ছিনতাইকারীতে পরিণত হওয়া অপরাধীর সংখ্যা সমাজ তথা রাষ্ট্রে কম নয়। হঠাৎ করে এদের তৎপরতা যেমন বেড়ে যায়, তেমনি স্তিমিত হয়েও পড়ে। তাদের কুকর্মে মানবিকতা, দয়ামায়া বলে কিছু নেই, থাকতে পারে না। এরা ধরাও পড়ে। কিন্তু ছাড়াও পেয়ে যায়। ছিনতাইয়ের ঘটনার সাক্ষী মেলে না। তাই চার্জশীটও হয় এমনভাবে যাতে ছিনতাইকারী সহজে রক্ষা পায়। ছিনতাইয়ের মাধ্যমে যে আয় হয় তার ভাগ কোথায় প্রদান করতে হয় কাগজে-কলমে তার হদিস মেলে না যদিও। চোখের সামনে ছিনতাইকারী, পথচারী বা রিক্সা, ট্যাক্সিযাত্রীর অর্থকড়ি, গয়নাগাটি, মালামাল অস্ত্রের মুখে ছিনতাই করে। এসব কর্ম ঠেকানো বা প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

দিনে নানা পেশায় কর্মরত আর রাতে ছিনতাইকারীর ভূমিকায় তৎপরÑ এমন বাস্তবতা সমাজের গভীর ক্ষতকেই উন্মুক্ত করে দিয়েছে। ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ এবং নতুন করে যাতে কেউ এই দুষ্কর্মে যুক্ত না হয় তার ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নিতে হবে। তবে তার আগে সংঘবদ্ধভাবে এই কুকর্মে জড়িতদের চক্র ভেঙ্গে দিতে জরুরীভিত্তিতে এ্যাকশনে যেতে হবে।