২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকার দিনরাত

  • মারুপ রায়হান

জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের একটি গান আছে- ‘এ কোন সকাল রাতের চেয়ে অন্ধকার। ও কি পাখির কুজন, নাকি হাহাকার।’ বড় দুঃখে গানটি মনে পড়ল। গত সপ্তাহে পরপর কয়েকটা দিন ঢাকায় রোদের তেজ অনুভব করে মনে হলো চোত-বোশেখ মাস বুঝি এখন। আসলে আষাঢ় শেষ হতে চলল, সামনে শ্রাবণ। আষাঢ়ের শেষটা দিনমান অসহনীয় গরম, রাতের বেলাও তাই। বৃষ্টির দেখা নেই। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যানজট। শুক্র-শনিবারেও প্রচ- যানজট এবং গরম। ঢাকাবাসীর নাভিশ্বাস ওঠার যোগাড়। এরই মধ্যে ঢাকার আরেকটি থানা বাড়ার সংবাদ পেলাম। হাফ সেঞ্চুরি পুরো হয়ে গেল নতুন থানাটি চালুর মাধ্যমে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৫০তম থানাটি হলো হাতিরঝিল থানা।

শুধু টাকা কেড়ে নেয় ওরা

মোবাইল ফোন, গলার চেন, হাতঘড়ি, ভ্যানিটি ব্যাগ, মানিব্যাগ নয়, তারা কেড়ে নেয় শুধু টাকার ব্যাগ। অথচ এদের প্রত্যেকেই দিনের বেলা কোন না কোন পেশার সঙ্গে জড়িত। কেউ দর্জি, সেলসম্যান, পোশাককর্মী, মুহুরি, জমির দালাল বা ট্যাক্সিক্যাব চালক। পেশা ভিন্ন হলেও দিনশেষে তারা সবাই সংঘবদ্ধ ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। বিভিন্ন ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে টাকা ছিনতাই ও ডাকাতি করে থাকে। রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে এমন ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি বিদেশী অস্ত্র ও ১৬টি গুলি জব্দ করা হয়েছে। অন্য পেশার আড়ালে ছিনতাইয়ের মতো কুকর্মটি বেশ ডালপালা বিস্তার করেছে এই রাজধানীতে। শুধু ঢাকাবাসীই নয়, ছিনতাইকারীদের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন সব জেলারই মানুষ। যদিও ঢাকায় ছিনতাইয়ের মাত্রা বেশি। এমন কোন সড়ক পাওয়া যাবে না যেখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। তবে এটাও ঠিক যে কোন কোন এলাকা অনেকটা অভয়ারণ্য মতো হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারীদের কাছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা সব জানলেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে অপারগ থাকেন। আপনি থানায় যান ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিয়ে, হাতেনাতে প্রমাণ পেয়ে যাবেন। পুলিশ মামলা নেবে না। এই রাজধানীতেই কত রকম উপায়েই না ছিনতাই হচ্ছে। মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি এমন কত রকম পার্টি অভিধানে জায়গা করে নিচ্ছে। অস্ত্র ঠেকিয়েও চলছে ছিনতাই।

দিনে নানা পেশায় কর্মরত আর রাতে ছিনতাইকারীর ভূমিকায় তৎপরÑ এমন বাস্তবতা সমাজের গভীর ক্ষতকেই উন্মুক্ত করে দিয়েছে। র‌্যাবকে ধন্যবাদ দিতে কার্পণ্য করব না। তবে সেইসঙ্গে অনুরোধ জানাব ঢাকার ৫০টি থানার ‘ছিঁচকে ছিনতাইকারীদের’ একটি গোপন তালিকা করুন। তারপর একযোগে সব থানার প্রতিটি থেকে ২ জন করে ১০০ জন অন্তত গ্রেফতার করার উদ্যোগ নিন। এতে যদি রাজধানীতে ছিনতাই কিছুটা কমে। ছিনতাইকারীরা ভিন্ন পেশা বেছে নেয়ার কথা ভাবে।

বিশ্বাসভঙ্গের উদাহরণ

মুনাফার লোভের কাছে মানবিকতার হার হলো! রাজধানীতে একটি সুপরিচিত প্যাথলজিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট পাওয়ার ঘটনাকে আমরা এর একটি নজির বলতে পারি। আদালত তাদের ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। এ প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি শাখা রয়েছে। খ্যাতিমান চিকিৎসকরা রোগীদের এ প্রতিষ্ঠানে পাঠান নানাবিধ পরীক্ষার জন্য। প্যাথলজিটির নাম পপুলার, যার বাংলা মানে ‘জনপ্রিয়’। ঢাকায় কোম্পানিটির প্রত্যেকটি শাখায় সারাক্ষণই ভিড় লেগে থাকে, ফলে বাস্তবিকই সেটি পপুলার হয়ে উঠেছিল।

চিকিৎসা এবং শিক্ষকতাÑ এ দুটি পেশাকে এখনও সমাজ উচ্চমর্যাদা দিয়ে থাকে। চিকিৎসক ও শিক্ষকেরা বিশেষ শ্রদ্ধা ও ভরসার পাত্র। কিন্তু শিক্ষাদান ও চিকিৎসা সেবা প্রদান দুটি মহান আদর্শ হিসেবে ধরে রাখার সংস্কৃতি সমাজে আজ কতটুকু বিদ্যমান? বেশির ভাগ চিকিৎসকের কাছে বর্তমানে মানবসেবার তুলনায় অর্থবিত্ত উপার্জনই অধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত এটা সাধারণভাবেই প্রতিষ্ঠিত। তবে শুধু চিকিৎসকদের অভিযুক্ত করলে অন্যায় হবে, পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকেই দুষতে হবে। এটি এক বিরাট চক্র বা চেইন। একটির সঙ্গে অন্যটি অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র লিখে দিচ্ছেন। ডাক্তাররা নির্দিষ্ট করে দেন কোন প্যাথলজিতে রোগী টেস্টগুলো করাবেন। সেই সঙ্গে কোন কোম্পানির ওষুধ তিনি লিখবেন সেটাও নির্দিষ্ট থাকে। এখানে বলির পাঁঠা হলেন রোগী। ডাক্তার এখানে অন্যায্য বৃত্তের কেন্দ্র। তাকে ঘিরে আছে প্যাথলজি ল্যাব, ওষুধ কোম্পানি এবং হাসপাতাল ক্লিনিক। পদে পদে কমিশন। এই কমিশন বাণিজ্যের চাহিদা অনুযায়ী বাড়তে থাকে রোগীর ব্যয়ের অংক। যা মেটাতে নাভিশ্বাস উঠে যায়।

চিকিৎসাবিজ্ঞান যত আধুনিক হচ্ছে ততই বিবিধ পরীক্ষার প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। আগের মতো রোগীর নাড়ি টিপে কিংবা লক্ষণ বিচার করে রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা করা হয় না। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অধিকাংশই এখন একাধিক পরীক্ষা ব্যতিরেকে ওষুধ দিতে চান না। আবার এটাও বাস্তবতা যে কেবল কমিশনের প্রলোভনে অনাবশ্যকভাবে একগাদা টেস্ট লিখে দেন কোনো কোনো ডাক্তার। শতভাগ সঠিক রোগ নির্ণয় করতে হলে প্যাথলজি ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার ফলাফল জানা অত্যাবশ্যক। এসব পরীক্ষা করানোর জন্য দেশে প্যাথলজি সেন্টারের অভাব নেই। কিন্তু এসবের কত ভাগ মানসম্পন্ন সেটা বড় প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞ প্যাথলজিস্ট, বায়োকেমিস্ট ও মাইক্রোবায়োলজিস্ট ছাড়া যেমন প্যাথলজি সেন্টার স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে না। এ সব কিছুর পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব স্বাস্থ্য অধিদফতরের। সংস্থাটির উদ্যোগে যখনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয় তখনই ধরা পড়ে অনিয়ম-অনৈতিকতা। আর ওষুধপত্রেও নানা ভেজাল চলে আসছে। অভিযান পরিচালিত হলেই কেবল সামনে চলে আসে মানহীন ও ভেজাল ওষুধের বিপুল উপস্থিতি।

সাধারণভাবে বিশ্বাস, পপুলারে রোগ পরীক্ষার জন্য উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মিলেছে এক থেকে দুই বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া কয়েক ধরনের রাসায়নিক। কেন এমনটি ঘটতে পারল? গত বছরও এ প্রতিষ্ঠানকে অনিয়মের জন্য ৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পপুলার কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট নষ্ট করে ফেরার জন্য জমা করে রেখেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, রোগ-ব্যাধিতে মানুষের ভরসাস্থল বলে কিছু কি থাকবে না? সম্প্রতি চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ ও আধুনিক বেসরকারী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ম্যাক্স হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে রাইফা নামে আড়াই বছরের এক শিশুর করুণ মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় সৃষ্ট জনরোষের মুখে উচ্চপর্যায়ের তদন্তে জানা যায়, হাসপাতালটি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কোন অনুমোদন ছাড়াই চিকিৎসা কাজ চালাচ্ছে। তাদের বৈধ অনুমতি বলতে কেবল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একটি ট্রেড লাইসেন্স। চিকিৎসাসেবায় মারাত্মক অব্যবস্থাপনার প্রেক্ষাপটে রবিবার র‌্যাব-স্বাস্থ্য অধিদফতর ও ওষুধ প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অভিযান শুরু হওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে এর প্রতিবাদে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। হায় সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ!

পরিকল্পিত সম্প্রসারণ

২০১২ সালের তালিকায় জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারে ছিল বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট শহর, ঢাকারও নিচে। পরের বছর তারা ঢাকার চেয়ে উন্নত শহর হিসেবে পরিগণিত হয়। মাঝখানে সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত দামেস্ক শহর ছিল বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট শহর। সেটিও এখন ঢাকার চেয়ে ভাল অবস্থানে রয়েছে। তাহলে ঢাকা কেন পারছে না আরো উন্নত হতে। এখানে বায়ুদূষণে মানুষের অসুস্থ হওয়া ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। কেন? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত ও সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে না এগোলে শিগগিরই ঢাকা সম্পূর্ণরূপে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। তারই প্রতিধ্বনি পাওয়া গেছে বিশ্বব্যাংক আয়োজিত অনুষ্ঠানেও। বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘টুয়ার্ডস গ্রেট ঢাকা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন রমা। প্রতিবেদনে ঢাকাকে বাঁচাতে ঢাকার পরিকল্পিত পূর্বমুখী সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। আনুমানিক ব্যয় ধরা হয় এক থেকে দেড় হাজার কোটি ডলার। আলোচনায় উঠে আসে এই অর্থের জোগান পাওয়াও কোন সমস্যা নয়। বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকার মতো উন্নয়ন সহযোগীরা এই অর্থ জোগাতে প্রস্তুত আছে। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ঢাকার বেশির ভাগ এলাকার অলিগলিতে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়ি তো দূরের কথা, ছোট্ট একটি অ্যাম্বুল্যান্সও ঢুকতে পারে না। ঢাকার পূর্বাঞ্চলেও এখন জনবসতি ক্রমেই বাড়ছে এবং তা বাড়ছে একই রকম অপরিকল্পিতভাবে। কিছুদিন পরে সেখানকার পরিস্থিতিও একই দাঁড়াবে। যানজট, জলাবদ্ধতায় মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। যেমনটা এখন দেখা যায় ডিএনডি বাঁধ এলাকার মধ্যে। বিশ্বব্যাংক যে পরিকল্পনা তুলে ধরেছে, সেটি বিবেচনাযোগ্য।

ভাল থাকার বিকল্প উপায়

ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে দীর্ঘ ভোগান্তির পর এখন অনেকটা সুস্থ আছেন এমন শত রোগী এসেছিলেন মঙ্গলবার প্রেসক্লাবে। তাদের অনেকের কথাই শুনলাম। বিষয়টি অবাক করার মতোই। হার্টে একাধিক ব্লক সত্ত্বেও অপারেশন ছাড়া বিকল্প চিকিৎসা নিয়ে চমৎকার আছেন বেশ ক’জন বয়স্ক ব্যক্তি। একইভাবে উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস ছিল এমন অনেকেও মাত্র তিন মাস বিকল্প চিকিৎসা নিয়ে জীবনধারায় পরিবর্তন এনে ইনসুলিন বাদ দিতে পেরেছেন। এর নেপথ্যে রয়েছে ঢাকার হলিস্টিক হেলথ কেয়ার সেন্টার। প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে ওষুধ ও ইনসুলিন ছাড়াই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বর্ষপূর্তি ও হার্ট ব্লকেজ চিকিৎসায় সাফল্যের ১০ বছর’ উদযাপন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টারটি।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রতি বছর আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর মধ্যে এ রোগ প্রাধান্য বিস্তার করছে। এখনই ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ৫৫ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। হলিস্টিক পদ্ধতি বা সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অর্গানিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমেই তা সম্ভব।

হলিস্টিক হেলথ কেয়ার সেন্টারের কর্ণধার অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস বলেন, হলিস্টিক চিকিৎসা হলো প্রাচীনতম পদ্ধতি। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, সঠিক জীবনধারা, যোগব্যায়াম, প্রাণায়াম চর্চা, মেডিটেশন ও আকুপ্রেশার। এর মাধ্যমে ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ জটিল রোগ যেমন উচ্চ রক্তচাপ ওবিসিটি (মুটিয়ে যাওয়া) ও এলার্জি-অ্যাজমা থেকে আরোগ্য লাভ করা যায়। এ পদ্ধতিতে রোগী নিজেই নিজের চিকিৎসক।

অনুষ্ঠানে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মনজুর কাদেরকে দেখে একটু অবাকই হলাম। কেননা রিং পরানো ও ওপেন হার্ট সার্জারি এক বিরাট বাণিজ্য। সেখানে তিনি বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করছেন। তিনি বললেন, হৃদরোগের প্রচলিত চিকিৎসাব্যয় বিরাট। সেখানে এই বিকল্প চিকিৎসায় ব্যয় অল্প, আর এই চিকিৎসা নিয়ে বহু রোগী যে ভাল আছেন তার প্রমাণ তো আজকেই সাংবাদিকরা সামনাসামনি পেয়ে গেলেন।

বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি

এই তো আর কয়েকটা দিন। সামনের রবিবারেই বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি বাজবে। রাত দুটোয় মহল্লার ফ্ল্যাটে আর শোনা যাবে না হর্ষোৎফুল্ল চিৎকারÑ গোল! পুরো একটা মাস ঢাকাবাসী বেশ ব্যস্ত ছিল বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে। যেদিন রাত ৮টায় ফেবারিট দলের খেলা থাকত সেদিন শপিংমলসহ অনেক রাস্তাই অনেকটা ফাঁকা হয়ে যেত। বাঙালী সত্যিই ফুটবলপ্রেমী, আর ভিনদেশি ফুটবল দলগুলোর প্রতি রয়েছে তাদের অতিমাত্রায় অনুরাগ! সে অনুরাগ কখনো যে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছয়নি, তা নয়। ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি ট্রল চলেছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ভক্তদের মাঝে। হাস্যরসেরও ছিল ছড়াছড়ি। সেমিফাইনালে ওঠার পর বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়া ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছে। আশা করা যায় জমে উঠবে সেমিফাইনাল।

০৮ জুলাই ২০১৮

marufraihan71@gmail.com