২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানবসম্পদ উন্নয়নে বড় বাধা ‘তদবির সংস্কৃতি’ : তথ্যমন্ত্রী

মানবসম্পদ উন্নয়নে বড় বাধা ‘তদবির সংস্কৃতি’  : তথ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, মানবসম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে ‘তদবির সংস্কৃতি’। মেধা, মান ও দক্ষতার অবমূল্যায়নকারী এই তদবির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে সোচ্চার হতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জনগণের তথ্যসেতু ও তথ্য বাতায়ন রচনা করবে গণমাধ্যম। মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিষদ (এনএসডিসি) সচিবালয়ে ‘দক্ষতা ও উন্নয়নমূলক কর্মকা- অবহিতকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এনএসডিসি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

এনএসডিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) এবিএম খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনএসডিসি সচিবালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান। কর্মশালায় এনএসডিসির পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোঃ রেজাউল করিম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ এস এম আসাদুজ্জামান, গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক তপন কুমার দাশ, এনএসডিসির উপ-পরিচালক নেপাল চন্দ্র কর্মকার প্রমুখ প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন। বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে রাজনীতি ও অর্থনীতিতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। আর এ কাজের জন্য প্রয়োজন দক্ষ, মেধাবী ও মানবসম্পন্ন কর্মীর। এসময় তদবির সংস্কৃতিকে নাগরিকদের মেধা, মান ও দক্ষতা মূল্যায়নের অন্তরায় বলে বর্ণনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কর্মে প্রবেশ, কর্মস্থলে কাজে, বদলিতে এবং পদোন্নতিতে তদবিরবাজি দুর্নীতি ও তদবির-বাণিজ্যের জন্ম দেয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যমের বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখান থেকে যদি আরেক ধাপ উপরে উঠতে হয়, তবে সেখানে একটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তা হল অদক্ষ শ্রমিক নির্ভর অর্থনীতি। আধা দক্ষ জনগোষ্ঠীকে শ্রমশক্তি ও জনশক্তিতে পরিণত করা। তবেই কেবল আমরা পরের ধাপের অর্থনীতির যে চ্যালেঞ্জ তার চাহিদা মেটাতে পারবো। সুশাসন বলতে কেবল রাজনীতিতে সুশাসন বোঝায় না, অর্থনীতিতেও সুশাসন আনতে হবে। ব্যাংকের টাকা লুটপাট হলে সেটি সম্ভব হবে না। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি -২০১১ ও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিষদ তৈরি করেছেন দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ হাজারের বেশি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ বলেন, এপর্যন্ত বাংলাদেশ যা অর্জন করেছে তা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৩০ সালের আগেই বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সক্ষম হবে।

এর আগে স্বাগত বক্তব্যে মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, বিশ্বজুড়ে অদক্ষ কর্মীদের শ্রমবাজার ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। আমাদের দেশে প্রতিবছর ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করে, যাদের বেশিরভাগই অদক্ষ।দক্ষতা না থাকায় প্রায় একই কাজ করেও বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকরা ভারত ও শ্রীলঙ্কার শ্রমিকদের তুলনায় কম পারিশ্রমিক পাচ্ছে। বিশেষায়িত দক্ষতা থাকলে আমাদের শ্রমিকরাও বেশি উপার্জন করতে পারবেন। এজন্য প্রয়োজন বিষয়ভিত্তিক উন্নত মানের প্রশিক্ষণ।

নির্বাচিত সংবাদ