১৭ জুলাই ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্ব মানের চলচ্চিত্র

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রতি সময়পোযোগী চলচ্চিত্র নির্মাণের আন্তরিক আহ্বান জানান, যা এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের জন্য অত্যন্ত উদ্দীপনামূলক। এ থেকে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের শিল্প ও স্বদেশের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার প্রকাশ ঘটল আরেকবার। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর দেশীয় চলচ্চিত্র নির্মাণের যে আহ্বান তিনি জানিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতারও আশ্বাস দেয়া হয়েছে। তাই দেশবাসী আশা করতেই পারেন আগামীতে এদেশে বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণের ধারা গড়ে উঠবে, যা সরকারের সহায়তার ভেতর দিয়ে ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে সমর্থ হবে।

এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে নতুন প্রজন্মের প্রতিভার স্বীকৃতি মিলেছে। মূলত টেলিভিশনে নাটক ও টেলিফিল্মের মাধ্যমে ব্যতিক্রমী কাজের জন্য যেসব নির্মাতা অতীতে অবদান রেখেছেন এবং বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গনের চিরাচরিত ধারায় বাঁক-বদলের প্রয়াস পেয়েছেন, এমন মেধাবীরাই পুরস্কার অর্জন করেছেন। এটি চলচ্চিত্র শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মাননা। এবার ছাব্বিশটি শাখায় পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ‘অজ্ঞাতনামা’ ও ‘আয়নাবাজি’Ñ এ দুটি চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত নির্মাতা এবং শিল্পীরা অর্জন করে নিয়েছেন একসঙ্গে অনেক পুরস্কার। মানব পাচারের কাহিনী নিয়ে নির্মিত ‘অজ্ঞাতনামা’ চলচ্চিত্রটি ৬৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাণিজ্যিক শাখায় প্রদর্শিত হয়। উল্লেখ্য, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অজ্ঞাতনামা তৌকীর আহমেদ পরিচালিত চতুর্থ চলচ্চিত্র। আর শ্রেষ্ঠ পরিচালকের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অমিতাভ রেজার অভিষেক চলচ্চিত্র হলো আয়নাবাজি। তিনি মূলত বিজ্ঞাপননির্মাতা। কান চলচ্চিত্র উৎসবের মার্শে দ্য ফিল্ম বিভাগে এটি প্রদর্শিত হয়। বলা বাহুল্য, এ দুটি চলচ্চিত্র ইতোপূর্বে দেশের রূপালী পর্দায় প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলোর তুলনায় অনেকাংশেই ব্যতিক্রমী। তাতে সমাজ বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেছে শিল্পিতরূপে। একইভাবে ‘শঙ্খচিল’ ও ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’Ñ এই দুটি ছবিও জিতে নিয়েছে বেশকিছু পুরস্কার। এ দুটি সিনেমাও তরুণ প্রজন্মের নির্মাতা ও ভিন্ন ধারার অভিনয়শিল্পীদের অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ। ফলে এ কথা আমরা নিঃসঙ্কোচে বলতে পারি, এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ক্ষেত্রে একটি অনন্য ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। এর ভেতরেই নিহিত রয়েছে আগামী দিনের শিল্প ও বিনোদন সম্ভাবনাÑ এমনটা প্রত্যাশা করাই যায়।

চলচ্চিত্র একটি সম্মিলিত শিল্প। এখানে বহু শাখায় বহু শিল্পী সংযুক্ত থাকেন। এই শিল্প অত্যন্ত ব্যয়বহুল। নিয়মিতভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষিত হলে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভেতর তৃপ্তি ও আনন্দলাভের উপলক্ষ ঘটবে। আমরা জানি, আলোচনা-সমালোচনা, পুরস্কার-তিরস্কারের মধ্য দিয়েই একটি শিল্প উৎকর্ষের দিকে এগিয়ে যায়।

চলচ্চিত্রশিল্পের যারা অভিভাবক তাদের সামনে সুযোগ এসেছে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের সামগ্রিক পরিবেশের উন্নতি ঘটানোর। চলচ্চিত্রাঙ্গনে সুবাতাস আনার জন্যে এবং সমাজ সংস্কারের অঙ্গীকার ধারণ করে বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণের লক্ষ্যে কোথায় কোন সমস্যা, সঙ্কট ও সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান সেগুলো চিহ্নিত করা জরুরী। তাহলে প্রাথমিকভাবে একটি কাজের কাজ হয়। পরবর্তীকালে সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় সুপারিশ উঠে আসবে। সরকার সার্বিক সহযোগিতা করলে লক্ষ্যপূরণ যে অসম্ভব নয়, সেটি বলাই বাহুল্য। আগামীতে দর্শকরা বিশ্বমানের সিনেমা দেখতে পাক এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সুনাম প্রসারিত হোকÑ এটিই প্রত্যাশা।