২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমেরিকা-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ

বিশ্ব অর্থনীতিতে আরেকটি মন্দার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। আশঙ্কার কারণ চীন-মার্কিন চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ। বলা হচ্ছে, দেশ দুটি একে অপরের পণ্যের ওপর শুল্ক কার্যকর করে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই যুদ্ধ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি চীনের কাঁচামালে তৈরি পণ্য রফতানিতেও আমেরিকা বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে পরিবর্তন করতে পারেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পাল্টা শুল্কের হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তাদের ব্যবসা নিয়ে যেতে পারেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখন শক্তিশালী পর্যায়ে রয়েছে, তারপরও ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন। চীনের অভিযোগ, বিশ্বের অর্থনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাণিজ্য যুদ্ধের শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনা পণ্যের আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ ইতোমধ্যে কার্যকর শুরু হয়েছে। ৩ হাজার ৪শ’ কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর এ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর জবাবে ৫৪৫টি মার্কিন পণ্যের ওপর সমহারে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে চীন। দু’দেশই ৬ জুলাই শুক্রবার থেকে তা চালু করল।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতির দেশের এ পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে বিশ্বের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে, এটা ভাবলে ভুল হবে না। উল্লেখ্য, গত মাসে হোয়াইট হাউস থেকে হাজারের বেশি চীনা পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দেয়া হয়। এরপরই একইভাবে পাল্টা পদক্ষেপ নেয় চীন। হুমকি, পাল্টা হুমকি চলছিল অনেক দিন ধরেই। বার বার বৈঠকেও কোন কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক চাপিয়ে পুরোদস্তুর বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাঘাতের কথা জানিয়েছে বেজিংও। সমমূল্যের মার্কিন পণ্যে একই হারে কর বসিয়েছে তারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন-এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য অংশীদাররা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল যুদ্ধ শুরুর ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও ক্ষুব্ধ। কারণ এই পদক্ষেপ মার্কিনীদের ভাগ্য বদলে দেবে না। বরং আরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে। বিশ্ব বাজারে ভয়াবহ টানাপোড়েন সৃষ্টি হতে পারে।

দুই অর্থনৈতিক শক্তির এই যুদ্ধে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ওপরÑ এই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। কারণ বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশের অর্থনীতিও। বৃহৎ অর্থনীতির দেশ দুটির বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্ববাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে বিশ্বের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাবে, তখন তার প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা। তা বাংলাদেশের মতো দেশগুলো জন্য হবে সমস্যার। তবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দু’তিন বছর পর। কারণ যেসব আইটেমে তারা ট্যারিফ বসাচ্ছে সেসব আইটেম বাংলাদেশে তেমন আসে না। তারপরও বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি অত্যন্ত সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। কারণ বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতি মন্থর হয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ দেখা দেবে। বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এমন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এখন জরুরী। বিশ্ববাসীর চাপে এই দুই শক্তি নতি স্বীকার করেন কি-না, তার ওপর নির্ভর করছে যুদ্ধের ভবিষ্যত।