১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাদল ফরাজির মুক্তি চেয়ে করা রিট খারিজ

বাদল ফরাজির মুক্তি চেয়ে করা রিট খারিজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভুল বিচারে ভারতে কারাভোগকারী বাদল ফরাজির মুক্তি চেয়ে করা রিট উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আজ বুধবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বাদল ফরাজির বিষয়ে সরকারের সব কার্যক্রম ইতিবাচক বলে আদেশে উল্লেখ করেছেন আদালত।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার কাওছার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ হাসান চৌধুরী পরাগ।

এর আগে গত ৮ জুলাই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন দাখিল করেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার।

ওই রিটে বাদল ফরাজিকে জেলে আটক রাখা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব ও পররাষ্ট্র সচিব এবং আইজি প্রিজনকে রিটে বিবাদী করা হয়।

বিনা অপরাধে ভারতের কারাগারে প্রায় ১০ বছর বন্দি থাকার পর গত শুক্রবার দেশে ফিরিয়ে আনা হয় বাদল ফরাজিকে। তিনি বর্তমানে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

২০০৮ সালের ৬ মে দিল্লির অমর কলোনিতে এক বৃদ্ধাকে খুনের অভিযোগে বাদল সিং নামে এক ব্যক্তিকে খুঁজছিল পুলিশ। তাকে ধরতে সীমান্তেও সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু শুধু দুজনের নাম এক হওয়ায় বাংলাদেশি নাগরিক বাদল ফরাজিকে আটক করে বিএসএফ।

পরে ওই খুনের অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ নম্বর ধারায় অভিযোগ করা হয় বাদলের বিরুদ্ধে।

২০১৫ সালের ৭ আগস্ট বাদলকে দোষী সাব্যস্ত করে দিল্লির সার্কেট আদালত বাদলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। দিল্লি হাইকোর্টও নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন। পরে বাদল ফরাজিকে নেয়া হয় দিল্লির তিহার জেলে।

বিনা দোষে এই সাজা মেনে না নিয়ে বাদল ফরাজি দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তায় সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিমকোর্টে আবেদন করেন। কিন্তু শীর্ষ আদালতও বাদলের আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে জেলেই কাটাতে হয়েছে বাদলকে।