১৭ জুলাই ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাঁশখালীতে সাগরে জেলের হাতে সহকর্মী খুনের অভিযোগ

বাঁশখালীতে  সাগরে জেলের হাতে সহকর্মী খুনের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁশখালী ॥ বঙ্গোপসাগরের মহিপুর এলাকায় মোঃ জাহাঙ্গীর কোম্পানীর এফবি মায়ের দোয়া ফিশিং বোটে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমির হোসেন (২৩) নামে এক জেলে সহকর্মীদের হাতে খুনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনাকে বোট মালিক, সমিতি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে মর্মে অপপ্রচার চালিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়।

তাছাড়া নিহতের পরিবারকে ওই প্রভাবশালী মহল ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করতে বাধ্য করেছে বলে স্থানীয় জানান। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা মোঃ কালু মিয়া বাদী হয়ে শনিবার বাঁশখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল। ঘটনার বিষয়ে বুধবার (১১ জুলাই) থানা পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার এসআই মোঃ হানিফ বলেন, সোমবার রাতে সাগর পথ দিয়ে ফিশিং বোটে করে লাশ উপকূলে আসার পর সুরুতহাল রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় বোটের কোল্ড স্টোরে লাশ থাকায় শরীরে কোন ধরনের দাগ বা চি‎হ্ন পাওয়া যায় নি।

তাছাড়া আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ও নিহতের পরিবার এবং ফিশিং বোট মালিক পক্ষের উভয়ের সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে সাগরে ফিশিং বোটে সহকর্মীদের হাতে জেলে হত্যার বিষয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যকর ও রহস্যময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া সন্তান হারিয়ে মাতা-পিতা বাকরুদ্ধ অবস্থায় দিনযাপন করছে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই এফবি মায়ের দোয়া ফিশিং বোটটি মাঝি মাল্লা নিয়ে বঙ্গোপসাগরের মহিপুর এলাকায় মাছ ধরতে যায়। সেখানে ৪ দিন পর বৃহস্পতিবার নিহত আমির হোসেনের সাথে ওই ফিশিং বোটে মাঝি নেছার আহমদের সাথে মুঠোফোন নিয়ে ঝগড়া বাঁধে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমির হোসেনকে প্রচন্ড মারধর ও শ্বাসরোধ করে। তাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সেই থেকে লাশ গুম করার অপপ্রয়াস চালায় ফিশিং বোটের মাঝিমাল্লাসহ মালিক কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ সোমবার রাত ১১ টার দিকে লাশসহ ফিশিং বোটটি শেখেরখীলে ফিরে আসে। সেখানেই উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, বোট মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ এয়ার আলী, স্থানীয় আওয়ামলীগ নেতা আবুল হোসেন ভুট্টুসহ বোট মালিক কর্তৃপক্ষের প্রভাবশালীমহল নিহতের পরিবারকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে আপোষ করতে বাধ্য করে।

নিহতের মামা নুরুল আবছার এই প্রতিবেদককে বলেন, আমার ভাগ্নে আমির হোসেনের সাথে মোবাইল নিয়ে ঝগড়া হয় মাঝি নেছার আহমদের সাথে। সেখানে তাকে মারধর পূর্বক হত্যা করা হয়। নিহতের লাশ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি কোন সদোত্তর দিতে পারেনি।

উল্লেখ্য, ফিশিং বোট মালিক মোঃ জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে সাগরে ৩১ জেলে হত্যার অভিযোগও ছিল নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে।